বাকি ৩৪৩ কোটি টাকা গ্রাহকেরা কবে ফেরত পাবেন তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না। তবে পুরো বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে বলে গ্রাহকেরা আস্তে আস্তে টাকা ফেরত পাবেন বলে আশাবাদী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিষয়টি সমন্বয় করছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল। সঙ্গে ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, সংশ্লিষ্ট ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান ও তাদের গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ কাজে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

সফিকুজ্জামান গত জুন মাসে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর এ কাজের দায়িত্ব পান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান।

ই–কমার্সের ওপর গতকাল বৃহস্পতিবার হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধের ব্যাপারে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, তারা বহু স্তর বিপণন পদ্ধতির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। আলাদিনের প্রদীপ ও আলেশা মার্টের গেটওয়েতে আটকে থাকা শেষ হলেও ব্যাংকে তাদের কিছু টাকা আছে। এগুলো গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা যায় কি না, সে ব্যাপারে গতকাল আলোচনা হয়েছে। আর কিউকম নতুন তালিকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার জন্য কিছু দিন সময় চেয়েছে।

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, টাকা ফেরতের বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে যাওয়া ২০২১ সালের ৩০ জুনের পরের টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো নানা ধরনের মামলায় জড়িয়েছে এবং গত বছরের ৩০ জুনের আগে আটকে যাওয়া টাকার ব্যাপারে কিছু করা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারের বাইরে।

যেসব প্রতিষ্ঠান একেবারেই ফেরত দেয়নি

মোট ২৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩টি প্রতিষ্ঠান কিছু গ্রাহকের টাকা ফেরত দিলেও বাকি ১৪টি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেনি। এগুলো হচ্ছে ইভ্যালি, সিরাজগঞ্জ শপ, নিডস, টোয়েন্টিফোর টিকেটি, ই–অরেঞ্জ, উইকুম, আকাশ নীল, প্রিয় শপ, আলাদিনের প্রদীপ, আমার বাজার, আস্থার প্রতীক, বাড়ির দোকান ডট কম, নিরাপদ ও ইনফিনিটি মার্কেটিং লিমিটেড।

মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ ও নগদ এবং পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যার শপ লিমিটেড (এসএসএল), ফস্টার করপোরেশন লিমিটেড ও সূর্যমুখী লিমিটেডের সঙ্গে ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তি ছিল। তবে ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে বেশি বেছে নিয়েছিল নগদ ও এসএসএলকে। যদিও এক কিউকমের কারণেই ৩৮১ কোটি ১২ লাখ টাকা আটকে ছিল ফস্টার করপোরেশনে। আর নগদে ২০ কোটি ৬৯ লাখ এবং এসএসএলে ৮৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আটকে ছিল। এ ছাড়া সূর্যমুখী লিমিটেডে ২৬ কোটি ২১ লাখ এবং বিকাশে ৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা আটকে ছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকা বলছে, ইভ্যালির গ্রাহকদের টাকা বিকাশ, নগদ ও এসএসএলে আটকে আছে ২৫ কোটি ৮৫ লাখ। এসএসএলে ই অরেঞ্জের গ্রাহকদের আছে ৩৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর মধ্যে বিকাশের যোগাযোগ বিভাগের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন যে প্রতিষ্ঠানের টাকা ছাড় করতে বলে, আমরা তখন তা ছাড় করে দিই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ই–কমার্সবিষয়ক গবেষক সুবর্ণ বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেহেতু কাজটা শুরু করেছে, সেহেতু পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা গ্রাহকদের টাকা সবার আগে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা তাদেরই করতে হবে। ই–কমার্সের সামনে ভালো ভবিষ্যৎ। দারাজ, চালডালের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ভালোও করছে। তবে এ খাতের ভাবমূর্তি কিছুটা নষ্ট হয়েছে। তা উদ্ধার করা সম্ভব। ই–কমার্সের নামে খারাপ ব্যবসা যারা করতে চায়, তাদের কোনোভাবেই আসতে দেওয়া যাবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স দেওয়ার সময়েই ভালোভাবে মূল্যায়ন করতে হবে; আর যারা এরই মধ্যে বড় ধরনের জালিয়াতি করে ফেলেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন