বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার পুঁজি পাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপটিই নিচ্ছে না। অথচ উল্টো পুঁজি পাচারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পুঁজি পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন কিছু নয়। দেখা যাচ্ছে, পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে মূল্য কমবেশি দেখিয়ে পুঁজি পাচার হচ্ছে। আবার দুর্নীতি ও ব্যাংকঋণের খেলাপির টাকা পাচার হচ্ছে। পুঁজি পাচারের প্রধান গন্তব্য দেশগুলোতে তদন্ত দল পাঠিয়ে কারা পাচার করছে, তা চিহ্নিত করা খুব সহজ।

এটি বহুবার বলেছি। শুধু যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ভারত, মালয়েশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে এ তদন্ত দল পাঠালে টাকা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম বেরিয়ে আসত, যাঁরা নিজেদের পরিবার পাঠিয়ে বাংলাদেশে চাকরি করছেন বা অবস্থান করছেন। এ ব্যবস্থায় খুব সহজেই পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো।

ব্যাংক থেকে যে বিপুল পরিমাণ ঋণ যাচ্ছে, তা কোথায় যাচ্ছে তা তদারক করা দরকার। হুন্ডির মাধ্যমে বড় অঙ্কের ঋণ পাচার হয়, পরে যা খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। হুন্ডির বিরুদ্ধে যদি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তাহলে বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়বে।

অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এ নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করা উচিত। গেল অর্থবছর শেষে আমদানি-রপ্তানি ও প্রবাসী আয় মিলে বাণিজ্য ঘাটতি ১৫ বিলিয়ন (১ হাজার ৫০০ কোটি) ডলারে দাঁড়াবে। বিশ্ববাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সংকট কাটবে না।

বর্তমান সংকটের বিষয়টি সরকার আমলে নিয়েছে। সে জন্য দফায় দফায় নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে মূল পদক্ষেপ নিতে হবে। আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও প্রবাসী আয় বাড়াতে না পারলে ডলারের সংকট কাটবে না। বৈদেশিক মুদ্রার মজুতও কমবে। সংকট কাটাতে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত প্রবৃদ্ধির ধারায় নিতে হবে। সে জন্য পুঁজি পাচার নিয়ন্ত্রণ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

মইনুল ইসলাম, একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন