default-image

দেশে বর্তমান জনসংখ্যা কত, তা জানার অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। করোনা পিছিয়ে দিচ্ছে জনসংখ্যা গণনা। করোনার কারণে তা প্রায় এক বছর পিছিয়ে যাচ্ছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা পরিচালনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলছে, থাইল্যান্ড, বাহরাইন, কাতার ও চীনে চলতি বছর জনশুমারি হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে দেশগুলো তা স্থগিত করেছে। ওই সব দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও জনশুমারি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিবিএস।

করোনা পরিস্থিতির যদি উন্নতি হয়, সে ক্ষেত্রে আগামী বছরের ৪ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী জনশুমারি করতে চায় বিবিএস। জানা গেছে, প্রস্তাবিত নতুন সময় চূড়ান্ত করতে শিগগিরই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে সঙ্গে বৈঠক করবেন বিবিএসের নীতিনির্ধারকেরা।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের কারণে ১৯৭১ সালে একবারই নির্ধারিত সময়ে জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জনশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে।

গত বছর ২৯ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনশুমারি ও গৃহগণনার জন্য ২ থেকে ৮ জানুয়ারি সময় ঠিক করে দিয়েছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ভেস্তে গেছে সব পরিকল্পনা। পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২১ সালের মধ্যেই শুমারি পরিচালনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতি যদি উন্নতি না হয়, তাহলে সেটি পরের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালেও চলে যেতে পারে। ২০১১ সালের সর্বশেষ আদমশুমারির হিসাবে দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ২৫ লাখ।

বিবিএসের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে গত মার্চে করোনা সংক্রমণের পর থেকে জনশুমারির মাঠপর্যায়ের কাজ স্থগিত হয়ে গেছে। মাঠপর্যায়ে গণনা এলাকা ভাগ করা, গৃহগণনার জন্য ম্যাপ করা, লোকবল নিয়োগ, খানার তালিকা প্রস্তুত, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়নি। মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা হয়নি। গণমাধ্যমে ছিল না কোনো বিজ্ঞাপন। এ অবস্থায় জানুয়ারিতে যদি জনশুমারি করা হয়, তাহলে সেখানে জনসংখ্যার সঠিক তথ্য না আসার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের কারণে ১৯৭১ সালে একবারই নির্ধারিত সময়ে জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জনশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। এরপর ১৯৮১ সালে দ্বিতীয়, ১৯৯১ সালে তৃতীয়, ২০০১ সালে চতুর্থ এবং ২০১১ সালে পঞ্চম জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। দশ বছর পরপর জনশুমারি হওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এবার করোনার কারণে নির্ধারিত সময়ে শুমারি করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) উপমহাপরিচালক ঘোষ সুবব্রত প্রথম আলোকে বলেন, শুমারি শুরুর আগে প্রাথমিক যেসব কাজ করতে হয়, তার অনেকগুলো এখনো শুরু করা যায়নি। সে কারণে ২ জানুয়ারি থেকে নির্ধারিত সময়ে দেশজুড়ে জনশুমারি শুরু করা সম্ভব হবে না।

এদিকে নির্ধারিত সময়ে জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ না হলে সরকারকে বেশ কিছু সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে। মাথাপিছু আয় কত, সেটি জানা যায় জনসংখ্যার মাধ্যমে। দারিদ্র্যের অবস্থাও জানা যায় এই শুমারির মাধ্যমে। দেশের যেকোনো পরিকল্পনা গ্রহণের আগে জনসংখ্যাকে আমলে নেওয়া হয়। বিদেশে কত বাংলাদেশি বসবাস করছেন, এবারের জনশুমারির মাধ্যমে সেই তথ্য সংগ্রহের কথা। একই সঙ্গে দেশের ভেতরে কত বিদেশি বসবাস করেন, সেটিও জনশুমারির মাধ্যমে তুলে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বেশ কিছু সূচক জনসংখ্যার মাধ্যমে। কিন্তু করোনার কারণে এসব তথ্য আগামী ২০২২ সালের মধ্যেও পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

একটি দেশের জনসংখ্যা কত, তাঁর সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জনসংখ্যার সঙ্গে দারিদ্র্যের হার জড়িত; মাথাপিছু জাতীয় আয় কত, সেটি জানাসহ যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার হালনাগাদ তথ্য জানা জরুরি।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম

করোনার কারণে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ জনশুমারি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ করোনা সংকটের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে জনশুমারি হয়েছে গত এপ্রিলে করোনার তীব্র সংকট চলাকালে। সিঙ্গাপুরে হয়েছে জুনে। ইন্দোনেশিয়াতে জুলাইয়ে। অবশ্য এসব দেশে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শুমারি হয়েছে।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, একটি দেশের জনসংখ্যা কত, তাঁর সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জনসংখ্যার সঙ্গে দারিদ্র্যের হার জড়িত; মাথাপিছু জাতীয় আয় কত, সেটি জানাসহ যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার হালনাগাদ তথ্য জানা জরুরি। তাই জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ যত দ্রুত করা সম্ভব হবে, দেশের জন্য ততই মঙ্গল।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১ প্রকল্পটি গত বছরের ২৯ অক্টোবর একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই প্রকল্পের বিপরীতে ৩১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে এ প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৬ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0