default-image

আপনি আপনার বইয়ে লিখেছেন, ’৬০–এর দশকে যখন ব্যাংকে কাজ শুরু করেন, তখন খেলাপি ঋণ বলে কিছু আছে, তা জানা ছিল না। এখন খেলাপি ঋণে নাজুক অবস্থায় ব্যাংক খাত। আপনার অভিজ্ঞতা জানতে চাচ্ছি।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: ১৯৬৩ সালে আমি করাচিতে প্রশিক্ষণে ছিলাম। যোগ দিয়েছি হাবিব ব্যাংকে। প্রশিক্ষণে খেলাপি ঋণ নিয়ে তেমন কিছু পড়ানো হতো না। একেবারে শেষ দিকে এসে বলা হলো, খেলাপি ঋণ বলে একটা বিষয় আছে। তখন যা পড়ানো হতো তা বিকেলে শাখায় গিয়ে দেখানোর নিয়ম ছিল। এক ভদ্রলোককে দায়িত্ব দেওয়া হলো কোন শাখায় নেওয়া হবে, তা বের করার। সাধারণত আমাদের মাঝারি আকারের কোনো শাখায় নেওয়া হতো, যাতে ভিড় কম থাকে। ওই ভদ্রলোক মাঝারি আকারের সব শাখায় খবর নিয়ে জানলেন, কোনো খেলাপি ঋণ নেই। এরপর আমাদের একটা বড় শাখায় নেওয়ার জন্য ঠিক হলো। করাচির হাবিব ব্যাংকের ওই শাখা থেকে জানানো হলো, একটা ঋণ খেলাপি হয়েছে। তবে কথাবার্তা হয়ে গেছে, ঠিক হয়ে যাবে। দেখাতে হলে এখনই আসতে হবে। সেই প্রথম খেলাপি ঋণ সম্পর্কে জানতে পারলাম। এরপর প্রশিক্ষণ শেষ করে ঢাকায় ফিরে এলাম। ঢাকাতেও তেমন খেলাপি ঋণ দেখা গেল না। মনে হলো, এটা বইয়ে আছে তাই পড়ানো হয়েছে। কিন্তু এটা যে কী জিনিস, তা স্বাধীন হওয়ার পর হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। প্রথম দিকে তেমন খেলাপি ঋণ ছিল না, ধীরে ধীরে ঋণ খারাপ হওয়া শুরু করল। প্রথমে নিয়ম ছিল, বাংলাদেশ ব্যাংক খারাপ ঋণ খেলাপি করে দেবে। এরপর নিয়ম করে দেওয়া হলো, নির্দিষ্ট সময়ে ঋণ আদায় না হলে খেলাপি হবে। আর এখন দেখা যাচ্ছে প্রায় সব ঋণই খেলাপি। বরং ভাগ্যক্রমে অল্প কিছু ভালো ঋণ পাওয়া যাচ্ছে। এটা আমার জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা।

৯০ শতাংশ ব্যাংকমালিক ভালো। সরকার দুষ্টলোকদের পরিবর্তে যদি ভালো পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাহলে ভালো পরামর্শ পাবে। আর সরকারকে চাঁদা দেওয়ার পরিবর্তে আমানতকারীদের নিরাপত্তার জন্য যা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা করতে হবে। সরকার চাইলে ব্যাংক খাত ঠিক হবে, এর বাইরে অন্য কোনো উপায় নেই।

স্বাধীনতার পরের অভিজ্ঞতা কেমন?

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: আগে হাবিব ব্যাংকে কাজ করেছি। দেশ স্বাধীনের পর তো অনেকগুলো ব্যাংকে কাজের সুযোগ হয়েছে। হাবিব ব্যাংকে অনেক প্রক্রিয়া মেনে ঋণ দেওয়া হতো। কর্মকর্তাকে স্বাক্ষর করতে হতো এমন একটি নথিতে, যেখানে লেখা থাকত সন্তুষ্ট হয়ে ঋণ দিয়েছি। যদি কোনো কারণে ঋণ খারাপ হয়ে যেত, তাহলে ওই কর্মকর্তার কাছে টাকা আদায়ের চাপ আসত। এমনকি কোনো কোনো সময় ঋণের একটি অংশ ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে আদায় করা হতো। অর্থাৎ ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা যেন চলে গেল। কে অনুমোদন দিল, কে সুপারিশ করল, কে বিতরণ করল, সব হিসাব যেন উঠে গেল। কাউকে দায়ী করা হয় না। এমন পরিস্থিতি শুরু হলো ’৮০–এর দশকে জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময়ে। তখন বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে আর্থিক খাত সংস্কার কর্মসূচি নেওয়া হলো। বিশ্বব্যাংক তখন ইউরোপ ও আমেরিকার কর্মকর্তাদের নিয়ে একটা দল গঠন করল। প্রতিটি ব্যাংকে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হলো। তারা পাঁচ বছর কাজ করে একটা দেশের ব্যাংকগুলোর অনেক উন্নতি করল। তারা যে–ই চলে গেলেন, আবার আগের অবস্থায় ফিরে এল খেলাপি ঋণ। এর মানে আমরা কোনো নিয়মের মধ্যে চলতে চাই না এবং সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ নিয়মের মধ্যে থাকতে চায় না। এখানেই মূল সমস্যা।

বিজ্ঞাপন
default-image

আপনার সব ধরনের ব্যাংকে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও ডেপুটি গভর্নর ছিলেন। খেলাপি ঋণ কমানো বা অনিয়ম প্রতিরোধে সফল ছিলেন?

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: আমি যখন সোনালী বা অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলাম, তখন খেলাপি ঋণ অনেক কমাতে পেরেছিলাম। এমডি ইচ্ছা করলেই পারে। যদি এমডির ওপর কোনো হস্তক্ষেপ না করা হয়। আমার সময়ে এ ধরনের চাপ সৃষ্টির প্রবণতা কম ছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। এখনকার সরকার যেভাবে প্রত্যক্ষভাবে ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ করছে, তখন এভাবে হস্তক্ষেপ করত না। তখনো তদবির হতো, তবে এখনকার মতো ওপর মহল থেকে না। এটা কোনো মাঝামাঝি পর্যায় থেকে হতো, আমরা তা ঠেকাতে পারতাম। আর যদি কেউ বাড়াবাড়ি করত, তাহলে আমরা সক্রিয় হতাম।

যেমন, লুৎফর রহমান সরকার যখন গভর্নর ছিলেন, আমি তখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগ দিই। একবার একজন বড় ব্যবসায়ী গভর্নরকে অপমান করেছিলেন, শার্টের কলার ধরেছিলেন। তিনি ক্ষমতার খুব কাছাকাছি ছিলেন। ওই সময় লুৎফর রহমান সরকার দৌড়ে আমার কক্ষে চলে এসেছিলেন। এর মধ্যেই ওই ব্যবসায়ী পালিয়ে যান। আমরা বিষয়টি তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া সাহেবকে জানালাম। আরও কয়েকজনকে জানানো হলো। তারপরে ওই ভদ্রলোক সরকার সাহেবের কাছে এসে ক্ষমা চেয়ে গেলেন। এই যে আমরা সক্রিয় হলাম, এর ফলেই তাঁকে মাফ চাইতে হলো। আর কিবরিয়া সাহেব সরাসরি কথা বলার মানুষ ছিলেন। ওই ভদ্রলোক অবশ্য এখন আরও ক্ষমতাবান। তাঁকে ঠেকানোর সাধ্য গভর্নর কেন, কারও নেই। কে কতটা সক্রিয়, তার ওপর বিষয়টা অনেকটা নির্ভর করে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকে যাঁরা আছেন, তাঁদের কারও সর্বোচ্চ পর্যায়ে কোনো বিষয়ে নালিশ করার সক্ষমতা নেই। এটা অন্যতম একটা কারণ।

তখন কিবরিয়া সাহেব ফোন করে বললেন, আপনারা পর্ষদ ভেঙে দিলেন। আমাকে একটু জিজ্ঞেস করলে কি খুব অসুবিধা হতো। তখন আমি বললাম, আপনাকে বললে পর্ষদ ভাঙা যেত না। আপনি রাজনীতি করেন। উনি জানতে চাইলেন, সিদ্ধান্ত স্থগিত করবেন নাকি। গভর্নর জানিয়ে দিয়েছিলেন, স্থগিত করা হবে না। তাহলে তো বাংলাদেশ ব্যাংক থাকে না।

আপনি গভর্নরের শার্টের কলার ধরার কথা বললেন। আপনাদের সময়েই একটি ব্যাংকের পর্ষদ দখল করার ঘটনা তো ঘটেছিল। আর এখন তো এমডিকে গুলি করার ঘটনাও ঘটছে।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: আমি তখন ডেপুটি গভর্নর। হঠাৎ শুনলাম একটি ব্যাংকে পরিচালনা পর্ষদের সভায় গোলাগুলি হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে বলা হলো, দেখা গেল ঘটনাটি সত্য। তখনকার গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বললেন, কারও সঙ্গে পরামর্শ না করে পর্ষদ ভেঙে দেন। আমরা আইন অনুযায়ী, আধা ঘণ্টার মধ্যে পর্ষদ ভেঙে দিলাম। তখন কিবরিয়া সাহেব ফোন করে বললেন, আপনারা পর্ষদ ভেঙে দিলেন। আমাকে একটু জিজ্ঞেস করলে কি খুব অসুবিধা হতো। তখন আমি বললাম, আপনাকে বললে পর্ষদ ভাঙা যেত না। আপনি রাজনীতি করেন। উনি জানতে চাইলেন, সিদ্ধান্ত স্থগিত করবেন নাকি। আমি গভর্নরের সঙ্গে কথা বলতে বললাম। গভর্নর জানিয়ে দিয়েছিলেন, স্থগিত করা হবে না। তাহলে তো বাংলাদেশ ব্যাংক থাকে না। একটি ব্যাংকের পর্ষদে মারামারি হবে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক চেয়ে চেয়ে দেখবে, তা তো হয় না।

তাই বলি আমরা তো নানা কিছুই করেছিলাম, এতে তো কোনো অসুবিধা হয়নি। কারও চাকরিও যায়নি। কেউ কিছু বলেননি। তবে কেউ কেউ যে খুশি হননি, তা বুঝতে পারি।

এরপর তো কত ঘটনা ঘটেছে, বরং এর চেয়ে বড় ঘটনাও ঘটেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তো আর কোনো ব্যাংকের পুরো পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সাহস করল না। আমরা যা করেছি, তা এখনো করা সম্ভব। আমি বিশ্বাস করি, গভর্নরের কোনো সিদ্ধান্তকে কোনো রাজনৈতিক সরকার বাধা দেবে না।

সে সময়েই একবার এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আপনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এখন মাফিয়াদের দখলে। কেন বলেছিলেন?

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: মূলত কিবরিয়া সাহেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এভাবে বলেছিলাম। তখন আমি সোনালী ব্যাংকের এমডি। উনি একটু মন খারাপ করেছিলেন। পরে বলেছিলেন, এভাবে সামনাসামনি না বলে একা একা জানাতে পারতেন। পরে ওনার সঙ্গে যখন দেখা হলো, নিজেই বললেন, রাগ করেছেন নাকি। তখন আমি বলেছিলাম, বরং আপনি রাগ করেছেন নাকি। এরপর বললেন, আমি তো মন্ত্রী, একটু মন খারাপ লাগে। কথা তো আপনি ঠিকই বলেছেন।

default-image

প্রকাশ্যে কেন এমন বলতে হয়েছিল?

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: তখন আমি সোনালী ব্যাংকের এমডি। তখনকার নির্বাচিত শ্রমিক ইউনিয়ন বা সিবিএ খুব খারাপ ছিল। সাবেক সচিব এম আসফ-উদ-দৌলা তখন চেয়ারম্যান। আতিউর রহমান, খুশী কবির পরিচালক। সিবিএ যখন-তখন পর্ষদে এসে নানা তদবির করত, ঝামেলা করত। এ জন্য বিরক্ত হয়ে এ কথা বলেছিলাম। তবে কাজ হয়েছিল। অর্থমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তখনকার সিবিএ মাফিয়ারা কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতি করাতে টাকা নিত। এখনকার মাফিয়ারা এত ছোট কাজে যুক্ত হয় না। এখনকার মাফিয়ারা কোটি কোটি টাকা ঋণ নেয়, তা ফেরত না দেওয়ার জন্য। ওই টাকার একটি অংশ ভাগ–বাঁটোয়ারা হয়। এ ধরনের মাফিয়া দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।

লুৎফর রহমান সরকার তখন গভর্নর। একবার একজন বড় ব্যবসায়ী গভর্নরকে অপমান করেছিলেন, শার্টের কলার ধরেছিলেন। তিনি ক্ষমতার খুব কাছাকাছি ছিলেন। ওই সময় লুৎফর রহমান সরকার দৌড়ে আমার কক্ষে চলে এসেছিলেন। আমরা বিষয়টি তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া সাহেবকে জানালাম।

বর্তমান সময়ে আসি। শুরু করি বেসিক ব্যাংক নিয়ে। হঠাৎ করে ব্যাংকটি খারাপ হয়ে গেল, কারও শাস্তিও হলো না। বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকও খারাপ করছে।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: সরকার কর্তৃক একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পর ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়ে হলো ৮০ শতাংশ, আগে যা ছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ। শুধু একজন চেয়ারম্যান ও এমডির কারণে ব্যাংকটির এমন অবস্থা হয়ে গেল। ৮০ শতাংশ ঋণ যখন খারাপ হয়ে গেল, তখন তো সরকারে উচিত ছিল কাউকে না কাউকে দায়ী করা। আর এত ঋণ যে খারাপ হয়ে গেল, তা তো কোনো শাখা ব্যবস্থাপকের জন্য হয়নি। চেয়ারম্যান-এমডি ছাড়া একটি ব্যাংক এত খারাপ হতে পারে না। কিন্তু চেয়ারম্যান দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শুনেছি, দুদক দুদিন ডেকেছিল। চা খাইয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। তার মানে চেয়ারম্যানকে যাঁরা রক্ষা করছেন, তাঁরা দুদকের চেয়ে শক্তিশালী। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তারপর আসি ফারমার্স ব্যাংকের ঘটনায়। বেসরকারি খাতের এ ব্যাংকটি দেওয়া হয়েছিল মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে, যিনি মন্ত্রীও ছিলেন। এ ব্যাংকটির অবস্থা এত খারাপ হয়ে গেল যে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছিল না। ব্যাংকটি দেউলিয়া হয়ে যেত, কিন্তু সরকার রক্ষা করল। সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী ব্যাংককে দিয়ে মূলধন বিনিয়োগ করাল। এটা ভালো কথা। কিন্তু যারা ব্যাংকটিকে দেউলিয়ার মুখে নিয়ে গেল, তাদের কি কিছু হবে না? চেয়ারম্যানকে কেউ প্রশ্নও করেনি। এই যে বললাম, জবাবদিহি বলতে কিছু নেই। এখন বলা হচ্ছে, মাহবুবুল হক চিশতী ছিলেন, ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে ধরা হয়েছে। শুধু তিনি একাই কি ব্যাংকটিকে খারাপ অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিলেন। নিশ্চয়ই এর সঙ্গে অনেকেই জড়িত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
আমরা কোনো নিয়মের মধ্যে চলতে চাই না এবং সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ নিয়মের মধ্যে থাকতে চায় না। এখানেই মূল সমস্যা।

সমস্যাটা তাহলে কোথায়?

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: আসলে কোথাও জবাবদিহি নেই। আমি মনে করি, সুশাসনের মূল নীতি হচ্ছে জবাবদিহি বা দায়বদ্ধতা। এটি প্রতিষ্ঠা না করা গেলে সুশাসন আসবে না। এটা আসতে হবে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। আরেকটি ঘটনা বলি তাহলে। বেসরকারি খাতের পুরোনো এক ব্যাংকে এক পরিবার থেকে পাঁচজন পরিচালক ছিলেন। ওই সময় আইন ছিল, এক পরিবার থেকে দুজনের বেশি থাকতে পারবে না। আতিউর রহমান গভর্নর থাকতে ব্যাংকটিকে চিঠি দেওয়া হলো। কারা পরিচালক পদ ছেড়ে দেবেন, কেন আইন লঙ্ঘন করা হলো, এ বিষয়ে জানতে চাইলেন। সেই ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংককে এখন পর্যন্ত সেই চিঠির জবাব দেয়নি। উপরন্তু তারা উচ্চ মহলে তদবির করল। এরপর তো সরকার আইন পরিবর্তন করে এক পরিবার থেকে চারজন পরিচালক থাকার সুযোগই করে দিল। অথচ এখনো ব্যাংকটিতে ওই পরিবার থেকে পাঁচজন পরিচালক আছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের হাত একবার পুড়ে গেছে, তাই আর এ বিষয়ে নজরও দিচ্ছে না। আসলে সব রাজনৈতিক নেতাদের যৌক্তিক আচরণ করতে হবে। আইন লঙ্ঘন করার জন্য আইন পরিবর্তনের ঘটনা পৃথিবীর কোথাও নেই। এমন হলে উন্নতির সম্ভাবনা নেই।

২০০৯ সালের পর রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, এমনকি নির্বাচন করে হেরে গেছেন এমন নেতাদের বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। এরপর ব্যাংক খাতে বড় বড় কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। এটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: মূলত ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিকীকরণ করতেই এমন পরিবর্তন। কিন্তু ব্যাংক রাজনীতির জায়গা না। একটি ব্যাংকের শতকরা ১০ ভাগ টাকা মালিকের বা সরকারের। বাকি টাকা পুরোটাই জনগণের আমানত। এই আমানতের টাকা সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর যত চাপ, যাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানতকারীদের স্বার্থ না দেখে যারা লুটপাট করে তাদের স্বার্থ দেখে। এটা বলতে ভালো না দেখালেও বাস্তবটা এটাই।

এখন আমানতকারীদের স্বার্থ দেখার কেউ নেই। থাকলে বেসিক ব্যাংক চেয়ারম্যানের কিছু হতো। এর ফলে একটা প্রশ্ন উদয় হয়, ধরুন তাকে রক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু কিসের বিনিময়ে। তিনি তো কারও আত্মীয় না। তাহলে কি তিনি বেসিক ব্যাংকের লুটপাট করা টাকার একটা অংশ কাউকে দিয়েছেন। তা না হলে কেন তাকে রক্ষা করা হচ্ছে। এসব প্রশ্ন ওঠা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। কিন্তু এর উত্তর তো জাতিকে জানতে হবে।

এ জন্য আমরা ধারণা করি, সরকারি-বেসরকারি যেসব ব্যাংক লুট হয়েছে, তার একটি অংশ সরকারের কিছু মহলে চলে যায়। না হলে তারা রক্ষা পাবে কেন? তাদের বিনা কারণে সরকারের একটি পক্ষ রক্ষা করছে না।

তখনকার সিবিএ মাফিয়ারা কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতি করাতে টাকা নিত। এখনকার মাফিয়ারা এত ছোট কাজে যুক্ত হয় না। এখনকার মাফিয়ারা কোটি কোটি টাকা ঋণ নেয়, তা ফেরত না দেওয়ার জন্য। ওই টাকার একটি অংশ ভাগ–বাঁটোয়ারা হয়। এ ধরনের মাফিয়া দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।
default-image

তাহলে কি ব্যাংক খাত রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার একটি ক্ষেত্র?

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: অর্থশক্তি এখন পদশক্তির চেয়ে বেশি শক্তিশালী। অর্থই এখন রাজনীতির নিয়ামক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তবে যাঁরা ভালো রাজনীতিবিদ, তাঁরা এমনটা করবেন না। দেশে এখনো ভালো রাজনীতি প্রতিষ্ঠা হয়নি। কোনো দলের মধ্যে এমনটা নেই। এখন অর্থশক্তিকে ব্যবহার করে অনেকে টিকে থাকা বা স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছেন। আর অর্থ নিয়েই ব্যবসা ব্যাংকের। এ জন্য ব্যাংকের ওপর দমন–নিপীড়ন চলছে।

গভর্নরকে রেখে দেওয়ার জন্য আইন পর্যন্ত বদল করা হলো। এটাকে কীভাবে দেখছেন?

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: এমন ঘটনা আগেও ঘটেছিল, সেটা বিএনপি সরকারের মেয়াদে। তখন যিনি প্রধান বিচারপতি ছিলেন, তিনি একসময় বিএনপি করতেন। তাঁকে রাখার জন্য বিএনপি সরকার বিচারপতিদের চাকরির বয়স ৬৭ বছর করে দেয়। দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগ আবার সেই পথ অনুসরণ করল। এমনিতেই চাকরির বয়স বাড়ানো সমস্যা না। তবে কাউকে রেখে দেওয়ার জন্য আইন পরিবর্তন করা ঠিক না। এতে গভর্নরকে সরকারের দিকে পুরোপুরি নমনীয় থাকতে হবে, কারণ তাকে এত বড় সুবিধা দিতে হয়েছে। তাকে সমঝোতা করে চলতে হবে। আবার এটা ব্যক্তিত্বের বিষয়। সরকার যদি না চায়, তাহলে তেমন ব্যক্তিত্বের কাউকে এ পদে বসাবে না। সে কারণে আগে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পরামর্শ করে যেটা করা হয়েছিল, গভর্নর একবারই চার বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন। এর মধ্যে তাঁকে সরানো যাবে না। এই নিয়ম থাকলে গভর্নর নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে কাজ করে যেতে পারতেন।

চেয়ারম্যান-এমডি ছাড়া একটি ব্যাংক এত খারাপ হতে পারে না। কিন্তু চেয়ারম্যান দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শুনেছি, দুদক দুদিন ডেকেছিল। চা খাইয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। তার মানে চেয়ারম্যানকে যাঁরা রক্ষা করছেন, তাঁরা দুদকের চেয়ে শক্তিশালী। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলি। আগে গণমাধ্যমে কোনো অনিয়মের ঘটনা এলে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। এখন এর পরিবর্তে কীভাবে গণমাধ্যমে এল, তা খুঁজে দেখা হয়। আপনার অভিজ্ঞতা কী বলে?

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: ঠিকই বলেছেন। আমাদের সময়ে কোনো ঘটনা আলোচনায় এলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। এখন দুষ্কর্ম যাতে প্রকাশ না পায়, এ জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার মানে যাঁরা দুষ্কর্ম করেন, তাঁরা অনেক শক্তিশালী। সেই কারণে বৃত্ত ভেঙে ভালো পরিবেশে ফেরা কঠিন হবে। যতক্ষণ না সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে খাতটিতে ঠিক করার কোনো আকাঙ্ক্ষা থাকবে। এমন কোনো আকাঙ্ক্ষার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।

আরেকটি সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ। বহুল আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদারের লুট করা ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল আপনাকে। অভিজ্ঞতা কেমন হলো?

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: মূলত উচ্চ আদালতের মাননীয় বিচারপতি মনে করেছিলেন, শক্ত কাজটা আমাকে দিয়ে হবে। আমি কিছু কাজ করেও এসেছি। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পি কে হালদার ও তাঁর গোষ্ঠী টাকাপয়সা সরিয়ে ফেলেছে। কিছু টাকা তারা বিদেশেও পাচার করেছে। তাই পিকে হালদারকে যতক্ষণ পর্যন্ত দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হবে না। এটা করতে গেলে যে পরিমাণ শ্রম দিতে হবে, আমার এই বয়সে তা সম্ভব না। এ জন্য ছেড়ে দিয়েছি। তবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে নতুন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান অত্যন্ত যোগ্য ব্যক্তি। তিনি আমার ফেলে আসা কাজটা শেষ করতে পারবেন।

একজন পি কে হালদারের পক্ষে কি চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুট করা সম্ভব? নাকি পেছনে শক্তিশালী পক্ষ আছে?

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: তিনি অবশ্যই একজন মেধাবী ব্যক্তি। তবে পুরো মেধা এই লুটপাটের কাজেই ব্যবহার করেছেন। তার পেছনে বড় কোনো শক্তি ছিল, যা এখনো বের হয়নি। এটা অবশ্যই বের করতে হবে। আশা করি, দুদক বের করবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এতটা আশা করা হয়তো ঠিক হবে না, সেই সংস্কৃতি এখনো গড়ে ওঠেনি। তবে আমি দায়িত্ব নিয়ে যা দেখলাম, তা ভয়ংকর। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন স্বীকার করতে চায় না, কমপক্ষে পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুব খারাপ অবস্থায় চলে গেছে। তাদের সব টাকা মেরে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব প্রতিষ্ঠান যেভাবে তদারকি করা প্রয়োজন ছিল, তা করছে না। এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে ভালো করা যায়, না হলে কীভাবে এর শেষ হবে তা করা উচিত ছিল। সেটা করা হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিবছর তদন্ত করেছে, নিশ্চয় অনেক আগে প্রতিবেদনে সব এসেছিল। কিন্তু সেই অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি পক্ষের সমর্থন ও সহায়তা নিয়েই পি কে হালদার এসব করেছে বলে আলোচনা কিন্তু আছে।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: এটা অনেকের ধারণা যে পি কে হালদার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারও কারও থেকে সমর্থন ও সহায়তা পেয়েছেন। আমি নিশ্চিত না। তবে বোঝা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারও থেকে সমর্থন না পেলে বড় আকারের এসব দুষ্কর্ম করতে পারতেন না।

এক ব্যাংকে এক পরিবার থেকে পাঁচজন পরিচালক ছিলেন। ওই সময় আইন ছিল, এক পরিবার থেকে দুজনের বেশি থাকতে পারবে না। আতিউর রহমান গভর্নর থাকতে ব্যাংকটিকে চিঠি দেওয়া হলো। সেই ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংককে এখন পর্যন্ত সেই চিঠির জবাব দেয়নি। উপরন্তু তারা উচ্চ মহলে তদবির করল। এরপর তো সরকার আইন পরিবর্তন করে এক পরিবার থেকে চারজন পরিচালক থাকার সুযোগই করে দিল।

আপনি কিছুদিন আগেই লিখেছিলেন, অনেক ব্যবসায়িক গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নিয়োগে প্রভাব বিস্তার করে।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর সরকার নিয়োগ দিয়ে থাকে। এই দুটি পদে নিয়োগ অত্যন্ত যত্নসহকারে এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সুবিবেচনার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। একসময় তা–ই হতো। এখন যা শুনি তা হলো, তাদের বাছাই করে কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপ। যেমন, এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে কোনো কোনো ডেপুটি গভর্নর নিয়ে জিজ্ঞেস করলে জানতে চাইবে, অমুক না তমুক গ্রুপের? এটা তো খুব দুর্ভাগ্যজনক। আসলে পুরো প্রক্রিয়াটা নীতিচ্যুত হয়ে গেছে।

একজন ব্যক্তির কাছে ঋণের ৩০ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে। আমাদের দেশে ঋণের তদারকিও সেভাবে নেই। এর ফলে কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়েছে?

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: কয়েকজনের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত হওয়া ব্যাংকনীতির বাইরে। এ জন্য আমরা এক পরিবার থেকে দুজনের বেশি পরিচালক হওয়া সমর্থন করি না। এ ধরনের কেন্দ্রীভূত হওয়া জনগণের আমানত রক্ষার জন্য অত্যন্ত অশুভ প্রক্রিয়া। কিন্তু এর থেকে বের হতে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃত্বের সক্রিয় উদ্যোগ লাগবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন দুর্বল প্রতিষ্ঠান, তাই তারা এটা করতে পারবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন সরকারের দিকে চেয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন
সব রাজনৈতিক নেতাদের যৌক্তিক আচরণ করতে হবে। আইন লঙ্ঘন করার জন্য আইন পরিবর্তনের ঘটনা পৃথিবীর কোথাও নেই। এমন হলে উন্নতির সম্ভাবনা নেই।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা কি হওয়া উচিত?

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যেভাবে লালন করা হচ্ছে, তাঁরা সেই ভূমিকাই পালন করছেন। ২ শতাংশ টাকা জমা দিয়ে খেলাপিদের ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হলো। ওই প্রজ্ঞাপন তো কেন্দ্রীয় ব্যাংক তৈরি করেনি, শুধু স্বাক্ষর করে জারি করেছে। মূল লেখাটা আরেকজনের, যিনি ভালো বাংলা জানেন না। ইংরেজিতে লিখেছিলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা অনুবাদ করেছে। তারপর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা বাংলাদেশ ব্যাংকে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি তা প্রতিরোধ করতে না পারে, তাহলে ব্যাংক খাত ভালো করার কোনো পথ নেই।

তবে এ রকম ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নেই। আগে এ রকম অনেক কর্মকর্তা ছিলেন। এখন এ রকম ব্যক্তিত্ব থাকলেও সরকার তাদের নিয়োগ দেবে না। ফলে সরকারের চাওয়া ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে না। এ জন্য সরকারকে ঠিক করতে হবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, দুদক, বাংলাদেশ কর্মকমিশনের মতো যেসব স্বাধীন প্রতিষ্ঠান আছে, সেখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করবে না। সরকার যদিও মুখে বলে হস্তক্ষেপ করে না, কিন্তু বাস্তবে করা হচ্ছে। আমরা তা দেখতে পাচ্ছি।

ওই প্রজ্ঞাপন তো কেন্দ্রীয় ব্যাংক তৈরি করেনি, শুধু স্বাক্ষর করে জারি করেছে। মূল লেখাটা আরেকজনের, যিনি ভালো বাংলা জানেন না। ইংরেজিতে লিখেছিলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা অনুবাদ করেছে। তারপর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা বাংলাদেশ ব্যাংকে দেওয়া হয়েছে।

তাহলে বাংলাদেশে ব্যাংক খাত কীভাবে চলা উচিত?

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: ব্যাংক খাত ঠিক করতে চাইলে সবার আগে শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রয়োজন। কারণ, ‘অথরিটি ক্যান বি ডেলিগেটেড, বাট রেসপনসিবিলিটি ক্যান নট’। আমি মনে করি শীর্ষ মহল যদি সঠিক ও যোগ্য মানুষকে গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর ও এমডি পদে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করে, তাহলে ভালো কিছু হওয়া সম্ভব। এখন তো ব্যাংক খাতের পাঁচজন মালিক চাঁদা তুলে সরকারের ত্রাণ তহবিলে দিয়ে আসেন। এটা সরকারের জন্য খুব বড় তহবিল নয়, কিন্তু মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। আর ব্যাংকমালিকেরা মনে করেন, তাঁরা এভাবে সরকারকে কিনে ফেলেছে। তাঁরা ব্যাংকে এসে সেভাবেই কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তবে সব ব্যাংকের মালিক কিন্তু খারাপ না। ৯০ শতাংশ ব্যাংকমালিক ভালো। আমি বলব সরকার দুষ্টলোকদের পরিবর্তে যদি ভালো পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাহলে ভালো পরামর্শ পাবে। আর সরকারকে চাঁদা দেওয়ার পরিবর্তে আমানতকারীদের নিরাপত্তার জন্য যা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা করতে হবে। সরকার চাইলে ব্যাংক খাত ঠিক হবে, এর বাইরে অন্য কোনো উপায় নেই।

বিশ্লেষণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন