দ্বিতীয়ত, এলডিসি থেকে বের হওয়ার পাশাপাশি আমরা নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের শ্রেণিতেও আছি। সেখানেও কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। দুটোই সমান্তরালে চলতে হবে। উন্নয়নের জন্য রেয়াতি ও সাশ্রয়ী সুদে ঋণসুবিধা থাকবে না। স্বাস্থ্য খাতের জন্য জিএভিআই (গ্যাভি) থেকে সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তৃতীয়ত, অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তরও প্রয়োজন হবে। অকৃষি খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। শিল্পকাঠামোয় পরিবর্তন এনে জোর দিতে হবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে। অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুসংহত করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। চতুর্থত, পণ্য ও সেবার মান নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ এগিয়ে নিতে গ্রহণযোগ্য তথ্য-উপাত্তের প্রয়োজন হবে। বিভিন্ন খাতের বিভাজিত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

সার্বিকভাবে আমাদের এলডিসি থেকে বের হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস আছে, উদ্যম নেই। এর ফলে একধরনের মিশ্র বার্তা যাচ্ছে। এমনভাবে বলা হচ্ছে, যেন সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নতুন নতুন সমস্যা যে সামনে আসছে, সেদিকে মনোযোগ কম। সরকার উচ্চপর্যায়ে কমিটি গঠন করেছে ঠিকই, কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় নেই। আবার ঢাকার সঙ্গে জেনেভা, নিউইয়র্কসহ বহির্বিশ্বের সঙ্গেও সমন্বয় জরুরি। নীতিনির্ধারকদের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা উচিত। এই পরিকল্পনার সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি), পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকে সম্পৃক্ত করতে হবে। শুধু পরিকল্পনা করলে হবে না, জোর দিতে পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নে।


দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সদস্য, কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি), জাতিসংঘ

বিশ্লেষণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন