ব্যবসার পরিবেশ ঠিক রাখতে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে

তাসকীন আহমেদ, সভাপতি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই)

দেশে ব্যবসার পরিবেশ ঠিক রাখতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আইনশৃঙ্খলা। এ ছাড়া পরিবেশ ঠিক রাখতে আরও দুটি বিষয় যুক্ত করা প্রয়োজন। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতি কমাতে হবে। এ তিনটি ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। তাই ব্যবসা সম্প্রসারণ ও পরিচালনায় আস্থা ফেরাতে এক থেকে তিন মাসের মধ্যে নতুন সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে অন্তত স্বল্প মেয়াদে হলেও একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে।

এ ছাড়া আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ জ্বালানিসংকট। এ ছাড়া রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত ঘাটতি সমাধান করতে হবে। অর্থনীতির প্রায় সব সূচক এখন নেতিবাচক ধারায়। এই অবস্থা থেকে বের হতে হলে নতুন সরকারকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। তবে দেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন সরকারের উচিত ধারাবাহিকভাবে এসব উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া।

একইভাবে দেশে কর আদায় বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আধুনিকায়ন করতে হবে। এনবিআরকে আরও শক্তিশালী করতে রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনা আলাদা করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করাও জরুরি।

অর্থনীতিকে চাঙা করতে নতুন সরকারের কাছে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো আগামী বাজেট। প্রথম বছরের বাজেটে একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকা জরুরি। বড় প্রকল্পে ব্যয় কমিয়ে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বেশি ব্যয় করা প্রয়োজন। সরকারের নির্ধারণ করতে হবে বাজেটে কোন খাতে অগ্রগতি আনা হবে। তবে আগে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

গত বছরের শুরুতে গভর্নরের সঙ্গে দেশের পলিসি রেট কমানোর কথা হয়েছিল। পলিসি রেট কমালে অর্থনীতির ওপর কিছু চাপ কমানো সম্ভব। তবে গভর্নর বলেন, বর্তমান পলিসি রেট দিয়ে মূল্যস্ফীতি সাতের নিচে নেমে আসবে, তবে বাস্তবে তা হয়নি। উল্টো পলিসি রেটের বিষয়ে কঠোর হওয়ার ফলে সুদের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফলে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের ২৭৩টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অনেক মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। পলিসি রেট বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। এতে কর্মসংস্থান নষ্ট হবে না। কারও চাকরি যাবে না।

তবে অর্থনীতির সব চাপ আগের সরকারের ওপর চাপানো উচিত নয়। অন্তর্বর্তী সরকারও একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি হাতে পেয়েছিল। কোভিড–পরবর্তী সময় ও রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সময় থেকেই অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পরেছে। অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারে নানা পদক্ষেপ নিলেও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংযোগ কম ছিল। ফলে ব্যবসায়ীরা নতুন নীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় অংশ নিতে পারেনি। তাই নতুন সরকারকে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তাই স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি সংস্কার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ব্যবসার পরিবেশ পুনরুদ্ধার— এই বিষয়গুলোই নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

লেখক: তাসকীন আহমেদ, সভাপতি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই)