সুতার উৎপাদন খরচ এমনিতেই বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে ব্যাংকঋণের সুদ, শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ তো আছেই। এর মধ্যে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি—মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। সরকারের নতুন এ সিদ্ধান্ত লোকসানে থাকা এ খাতকে আরও দুর্বিষহ অবস্থায় ফেলবে। এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে ঠিকমতো গ্যাস পাচ্ছি না আমরা। এতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।  

বর্তমানে এক কেজি সুতা উৎপাদন করতে গ্যাসের বিল দিতে হয় ১৬ টাকা। আমরা হিসাব করে দেখেছি, নতুন বর্ধিত বিল কার্যকর হলে প্রতি কেজি সুতা উৎপাদন করতে ৩২ টাকা খরচ হবে। এই মন্দার বাজারে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হলে ব্যবসা টিকে থাকবে না। অনেক সুতার মিল বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষ করে এ খাতের ছোট ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে হারিয়ে যাবেন।

সরকার এ পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আমাদের মতো সুতা উৎপাদনকারীদের বাঁচাতে কয়েকটি উদ্যোগ নিতে পারে। প্রথমত, সুতা উৎপাদকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া; দ্বিতীয়ত, আমদানি-রপ্তানিতে ডলারের দামের পার্থক্য কমানো এবং তৃতীয়ত, একেবারে এত দাম না বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে গ্যাসের দাম বাড়ানো।

বর্তমানে সুতা রপ্তানি করলে প্রতি ডলারে ১০২ টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু এ খাতে কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্য আনতে ডলার কিনতে ১০৮-১০৯ টাকা খরচ হয়। রপ্তানিতে ডলারের দাম ১০৫ টাকা করলে আমরা কিছুটা স্বস্তি পাব। এ ছাড়া গ্যাসের দাম প্রতি ইউনিটে ৩০ টাকা না করে ২০-২২ টাকা করা যেতে পারে। যদি উচ্চ দামে গ্যাস কিনে কারখানা চালাতে হয়, তাহলে খরচ কমাতে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিকল্প থাকবে না।

মোশারফ হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মোশারফ কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস