বেসরকারি ঋণের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে

তাসকীন আহমেদ, সভাপতি, ঢাকা চেম্বারফাইল ছবি

যতক্ষণ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নেমে না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সিদ্ধান্ত বেসরকারি খাতের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে ব্যাংকঋণের সুদহার দুই অঙ্কের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। ঋণের এই অতিরিক্ত সুদহার নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন সম্প্রসারণকে বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির হার এখন ৬ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে। আগামী জুন নাগাদ সাড়ে ৮ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অর্জন করা কঠিন হবে বলেই মনে হচ্ছে।

একই সঙ্গে সরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ২১ দশমিক ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি খাতের ঋণের এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে গেলে তা বেসরকারি খাতের ঋণ গ্রহণ আরও জটিল করে তুলতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সংকোচনমূলক নীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হয়নি; উল্টো উৎপাদন ও বিনিয়োগে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে। রপ্তানি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবকিছু নিয়ে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন, তবে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিনিয়োগ ও ঋণের চাহিদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে বলে আমরা আশা করছি।

সার্বিকভাবে, মূল্যস্ফীতি কমাতে মুদ্রানীতি কঠোর, দীর্ঘস্থায়ী ও সংকোচনমূলক বলা হলেও এটি কার্যকর হয়নি। উপরন্তু বেসরকারি খাতের ঋণ ও বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা চেম্বার মনে করে, নমনীয় ও প্রবৃদ্ধিবান্ধব মুদ্রানীতি প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ঋণ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়, তারল্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।