সাক্ষাৎকার

দেশের অর্থনৈতিক সফলতার অংশীদার হতে চায় সিঙ্গার

প্রথম আলো:

বাংলাদেশে ফ্রিজের বাজারের সম্ভাবনা কেমন দেখেন। প্রতিবছর সিঙ্গারের বিক্রয় প্রবৃদ্ধি কেমন?

এম এইচ এম ফাইরোজ: আমাদের যে পর্যবেক্ষণ তাতে আশা করছি, প্রতিবছর দেশের ফ্রিজের বাজারে প্রবৃদ্ধি হবে ৯ শতাংশ। বাজারের এই সম্ভাবনার সঙ্গে তুলনা করলে সিঙ্গারের বিক্রয় প্রবৃদ্ধি তার চেয়ে বেশি।

প্রথম আলো:

গত এক বছরে ফ্রিজের দাম কতটা বেড়েছে? তাতে বিক্রির ওপর নেতিবাচক কোনো প্রভাব পড়েছে কি?

এম এইচ এম ফাইরোজ: গত কয়েক বছরের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ফ্রিজের দাম ১০ থেকে ১২ শতাংশ বেড়েছে। সে জন্য ২০২৩ সালে ফ্রিজের বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

প্রথম আলো:

সম্প্রতি আপনারা ঘোষণা দিয়েছেন এ দেশেই তৈরি হবে সিঙ্গারের ৯০ শতাংশ পণ্য। তাতে পণ্যের গুণগত মানে কোনো পরিবর্তন হবে কি? কবে থেকে দেশের কারখানায় উৎপাদন শুরু করবেন?

এম এইচ এম ফাইরোজ: আর্চেলিক ২০১৯ সালে সিঙ্গার বাংলাদেশ অধিগ্রহণ করে। এরপর তারা সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করেছে কারখানা নির্মাণে। নতুন কারখানায় ৭৮ মিলিয়ন বা ৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সিঙ্গার বাংলাদেশের যাত্রায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। আমাদের ৯০ শতাংশ পণ্য স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন করা হবে। গত সপ্তাহে নতুন কারখানায় প্রথম ধাপের উৎপাদন শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের কারখানা বৈশ্বিক উৎপাদন মানে উন্নীত হবে। আর্চেলিকের সহায়তায় আমরা দেশে উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে আসব। তাতে জ্বালানি সাশ্রয়ী পণ্যবিষয়ক জ্ঞান ও উৎপাদন প্রযুক্তি আসবে দেশে। বাজারের অন্তর্দৃষ্টি ও ভোক্তার চাহিদার সাপেক্ষে তা করা হবে। এতে আমাদের উৎপাদিত পণ্যের মান অনেক উন্নত হবে। কারখানা নির্মাণে বৈশ্বিক মান অনুসরণ করা হয়েছে। গত বছর বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সিঙ্গারের ফ্রিজে সর্বোচ্চ জ্বালানি সাশ্রয়ী লেখাসংবলিত স্টিকার লাগানোর অনুমতি দিয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ী পণ্যের ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক। আমাদের নতুন পণ্যের ক্ষেত্রেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। আমার বিশ্বাস, এসব প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে।

প্রথম আলো:

আপনারা কেন এ দেশে নতুন কারখানা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনা কেমন দেখেন ফ্রিজের বাজারের?

এম এইচ এম ফাইরোজ: বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি, ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের নবম বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। একই সঙ্গে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা আছে। এ ধরনের সম্ভাবনাময় অর্থনীতিতে ভোক্তা বাজার বড় হচ্ছে। ভোক্তাদের আচরণও বদলে যাচ্ছে। বাংলাদেশে টেকসই পণ্যের বাজারে সিঙ্গার শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। ভোক্তাদের মনে সিঙ্গারের শক্তিশালী অবস্থান আছে। ভোক্তার এই আস্থাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা বাংলাদেশের বাজারে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হতে চাই। সেই সঙ্গে অংশীদারও হতে চাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সফলতার।

আমরা নতুন যে কারখানা করেছি, সেখানে চার হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সিঙ্গার বাংলাদেশ আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের ভেতরে স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে মনোযোগ দিতে চায়। সে জন্য আমরা স্থানীয় পর্যায়ে ৯০ শতাংশের বেশি পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।

এ ছাড়া স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর আমরা রপ্তানির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখব। আমরা মনে করি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা আছে।

প্রথম আলো:

ফ্রিজসহ ইলেকট্রনিক পণ্যের ক্ষেত্রে বিক্রয়োত্তর সেবা নিয়ে গ্রাহকেরা বেশি দুশ্চিন্তায় থাকেন। আপনাদের পণ্যের বিক্রয়োত্তর সেবা কেমন?

এম এইচ এম ফাইরোজ: বিক্রয়োত্তর সেবা গ্রাহকদের মূল উদ্বেগের কারণ। এই উদ্বেগ আমলে নিয়ে সিঙ্গার ই টু ই সমাধানে বিশ্বাস করে। এ জন্য থাকবে সমন্বিত সফটওয়্যার। এসআইআরআইইউএস সফটওয়্যার প্রবর্তন করার পর গ্রাহকেরা এখন বিক্রয়োত্তর সেবার অনুরোধ করামাত্র খুদে বার্তায় নোটিফিকেশন পেয়ে যান। আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে চাই, আমাদের টোলবিহীন কল সেন্টার শিগগিরই উদ্বোধন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে আমাদের কোম্পানির সঙ্গে গ্রাহকের যোগাযোগ আরও উন্নত হবে। আমরা গ্রাহক সেবালাইনের (হেল্পলাইন) কর্মঘণ্টা বৃদ্ধি করেছি। একই সঙ্গে ঢাকার মধ্যভাগে বিতরণ সেন্টার আধুনিকায়নে আরও বিনিয়োগ করব। দেশের সবখানে খুচরা যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে আমরা এই বিনিয়োগ করছি। গ্রাহক সেবা দিতে দেশজুড়ে আমরা বেশ কিছু সেবা অংশীদারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। যারা শুধু আমাদের গ্রাহকদের সেবা দিতে নিয়োজিত। এর মধ্য দিয়ে সিঙ্গার বাংলাদেশ সেরা বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।