সাক্ষাৎকার
সহজ ঋণ ও ভর্তুকি পেলেই প্রযুক্তিবান্ধব হবে কৃষি
দেশে জমি চাষ ও ধান কাটার আধুনিকায়নসহ প্রযুক্তিবান্ধব কৃষি, সহজ অর্থায়ন, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং স্থানীয়ভাবে যন্ত্র সংযোজনের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন মেটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সাদিদ জামিল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক।
প্রথম আলো: মেটাল ব্র্যান্ড দেশের কৃষি আধুনিকায়নে কীভাবে ভূমিকা রাখছে?
সাদিদ জামিল: কৃষির যান্ত্রিকীকরণে আমরা শুরু থেকেই কাজ করছি। বর্তমানে জমি তৈরির কাজে দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ জমিতে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের মাধ্যমে যান্ত্রিকীকরণ অর্জিত হয়েছে। তবে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণ এখনো মাত্র ১৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যার বাকিটা এখনো সনাতন কিংবা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই করা হচ্ছে।
প্রথম আলো: বড় যন্ত্রের দাম বেশি হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের হাতের নাগালে প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে কী মডেল কার্যকর হবে?
সাদিদ জামিল: ১৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার ট্রাক্টর বা হারভেস্টার প্রান্তিক কৃষকেরা কিনতে পারেন না। স্থানীয় সেবা প্রদানকারী (এলএসপি) উদ্যোক্তারা এসব যন্ত্র কিনে ভাড়ায় চাষ বা কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াই সেবা দেন, যা কৃষকের খরচ ৩০-৪০ শতাংশ কমায়। ব্যাংকঋণ না পাওয়ায় সরবরাহকারী হিসেবে আমরাই উদ্যোক্তাদের কিস্তির মাধ্যমে অর্থায়ন করছি। ব্যাংকের কৃষিঋণের আওতায় ৩-৫ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের সরাসরি ঋণ দিলে কৃষিতে প্রযুক্তি আরও দ্রুত প্রসার ঘটবে।
প্রথম আলো: আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশেই যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ উৎপাদনে মেটালের পরিকল্পনা কী?
সাদিদ জামিল: হঠাৎ করেই ট্রাক্টর বা হারভেস্টারের মতো ভারী যন্ত্র দেশে প্রস্তুত করা কঠিন। তবে শুরুতে অ্যাসেম্বল বা সংযোজন করে পরবর্তী সময়ে উৎপাদনে যাওয়ার চিন্তাভাবনা আমাদের রয়েছে। পাশাপাশি পাওয়ার টিলার বা ছোট হ্যান্ড টিলারের মতো হালকা যন্ত্রপাতিগুলো দেশীয় উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে তৈরির সুযোগ রয়েছে।
প্রথম আলো: মাঠে যন্ত্রপাতি বিকল হলে বিক্রিয়োত্তর সেবা ও দক্ষ মেকানিক তৈরিতে কী করছেন?
সাদিদ জামিল: আমাদের নিজস্ব একটি ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে, যেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ নিজস্ব মেকানিককে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের জন্য চীন ও ভারত থেকেও ইনস্ট্রাক্টর আনা হয়। পাশাপাশি দ্রুত স্পেয়ার পার্টস বা খুচরা যন্ত্রাংশ পৌঁছাতে আলাদা কোম্পানি গঠন করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ ডিলার কাজ করছেন।
প্রথম আলো: আইওটি, সেন্সর বা ড্রোনের মতো ‘স্মার্ট প্রযুক্তি’ ব্যবহারে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কেমন?
সাদিদ জামিল: চালকহীন ট্রাক্টর বা আইওটির মতো প্রযুক্তি ব্যবহার বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখনো কিছুটা আগাম মনে হয়। আমাদের দেশে কৃষিজমির আকার ছোট হওয়ায় সেগুলোর উপযোগী মাঝারি আকারের (৮০-১০০ হর্সপাওয়ার) কম্বাইন হারভেস্টার ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার আমরা ব্যাপকভাবে সরবরাহ করে আসছি।
প্রথম আলো: যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করতে সরকারের ভর্তুকি ও নীতি সহায়তার বিষয়ে আপনার প্রস্তাব কী?
সাদিদ জামিল: আগে হাওর ও উপকূলে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হলেও তা বন্ধ থাকায় ধাক্কা এসেছে। আগামী ৫-১০ বছর আবার ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে জমি আবাদের মতো ফসল হারভেস্টিংয়েও ৯৮ শতাংশ সফলতা আসবে।
প্রথম আলো: কৃষকের গড় বয়স বৃদ্ধি ও শ্রমিকসংকটের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মেটালের পরিকল্পনা কী?
সাদিদ জামিল: কৃষকদের গড় বয়স ৫০ ছুঁয়েছে এবং তরুণেরা কৃষি পেশায় আসছে না। ফলে যন্ত্র ছাড়া জমি অনাবাদি থাকবে। মেটাল আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে যন্ত্র সংযোজনের পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল সবজি ও ধানের বীজ উদ্ভাবন করে কৃষিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।