বিশ্বাসের অংশীদার থেকে প্রবৃদ্ধির অংশীদার: বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়

তারেক রাফি ভূঁইয়া, সভাপতি, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)

বাংলাদেশে জাপানের পরিচয় শুধু একটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে নয়, জাপান আমাদের সবচেয়ে পরীক্ষিত, আস্থাভাজন ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারদের একটি। স্বাধীনতার পর থেকে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, পরিবহন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের অবদান বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে।

যমুনা সেতু থেকে মেট্রোরেল—অনেক জাতীয় অর্জনের পেছনে আছে জাপানি অর্থায়ন, প্রযুক্তি, শৃঙ্খলা ও মানের সংস্কৃতি। এই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সম্পদ অর্থের পরিমাণ নয়, পারস্পরিক বিশ্বাস। কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত বদলাচ্ছে। সরবরাহব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস হচ্ছে, জাপানি কোম্পানিগুলো নতুন উৎপাদনকেন্দ্র ও বাজার খুঁজছে। আর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) শুধু একটি বাণিজ্যচুক্তি নয়, এটি আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে সহায়তানির্ভরতা থেকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও যৌথ উৎপাদনের উচ্চতর পর্যায়ে নেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ। প্রশ্ন হলো আমরা কি এই সুযোগের গতির সঙ্গে নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতাকে মিলিয়ে নিতে পারব?

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫০টি জাপানি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইলের পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিকস, স্বাস্থ্যসেবা, ভোক্তাপণ্য, রাসায়নিক, তথ্যপ্রযুক্তি, লজিস্টিকস ও অবকাঠামো খাতে তাদের উপস্থিতি বাড়ছে। জাপানি বিনিয়োগের বিশেষ মূল্য হলো তারা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসে; স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়; নিরাপত্তা, গুণগত মান ও পরিবেশগত দায়িত্বকে গুরুত্ব দেয় এবং স্থানীয় সরবরাহকারী গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একটি জাপানি কারখানা শুধু মূলধন আনে না, এটি কাজের নতুন সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও বিশ্ববাজারে প্রবেশের সক্ষমতা তৈরি করে।

জাপানি অবকাঠামো প্রকল্পের প্রাথমিক নির্মাণমূল্য কখনো কখনো তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি মনে হতে পারে। কিন্তু শুধু সর্বনিম্ন দর দিয়ে জাতীয় অবকাঠামোর প্রকৃত মূল্য বিচার করা যায় না, পুরো জীবনচক্রের ব্যয় ও সুফল বিবেচনা করতে হয়। সময়মতো ও নির্ভরযোগ্য বাস্তবায়ন, দীর্ঘস্থায়ী নির্মাণমান, উচ্চ নিরাপত্তা, কম রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, উন্নত প্রযুক্তি এবং স্থানীয় প্রকৌশলী ও প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রযুক্তি হস্তান্তর—এসব দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা প্রাথমিক মূল্য পার্থক্যকে অনেকাংশে ছাপিয়ে যায়। বাংলাদেশের উচিত তাই ‘সর্বনিম্ন প্রাথমিক ব্যয়’-এর পাশাপাশি ‘সর্বোচ্চ জীবনচক্র মূল্য’কে প্রকল্প মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড করা।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এই সম্ভাবনার দৃশ্যমান প্রতীক। এটিকে শুধু জমি বরাদ্দের প্রকল্প হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাস, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দ্রুত শুল্কায়ন, দক্ষ শ্রমশক্তি, মানসম্মত আবাসন ও নির্ভরযোগ্য সড়ক-বন্দর সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে এটি জাপানি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক উৎপাদনকারীদের জন্য একটি আদর্শ শিল্পকেন্দ্র হতে পারে। এখানে প্রথম দিকের বিনিয়োগকারীদের সাফল্যই পরবর্তী ১০০ প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী বিজ্ঞাপন হবে।

জাপানি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতায় আমি দেখি, বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের আগ্রহ বাস্তব। আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, দ্রুত বাড়তে থাকা ভোক্তাবাজার, প্রতিযোগিতামূলক শ্রমশক্তি এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভৌগোলিক অবস্থান তাঁদের আকর্ষণ করে। কিন্তু সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের মাঝখানে একটি ব্যবধান রয়ে গেছে। সেটি মূলত নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা, সিদ্ধান্তের গতি ও বাস্তবায়নের সমন্বয়সংক্রান্ত।

জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। তারা ধৈর্য ধরে, তথ্য সংগ্রহ করে ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করে। কিন্তু লাইসেন্স ও অনুমোদনে অনির্দিষ্ট সময়, কর ও শুল্কের ব্যাখ্যায় অসামঞ্জস্য, নীতির আকস্মিক পরিবর্তন, বৈদেশিক মুদ্রা ও মুনাফা প্রত্যাবাসনে জটিলতা, চুক্তির ধারাবাহিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে ধীর করে। এগুলো পরবর্তী সংস্কার সূচির বাস্তব নির্দেশক। যে দেশ বিনিয়োগকারীর সময়কে মূল্য দেয়, শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীও সেই দেশকে বেশি মূল্য দেয়।

‘ওয়ান–স্টপ সার্ভিস’কে একটি ওয়েবসাইট বা আবেদন গ্রহণের কাউন্টার থেকে সত্যিকারের ফলপ্রসূ ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে হবে। একজন বিনিয়োগকারীর জন্য একটি দায়িত্বপ্রাপ্ত কেস ম্যানেজার, প্রতিটি অনুমোদনের নির্দিষ্ট সময়সীমা, নীরবতার বদলে লিখিত সিদ্ধান্ত এবং আটকে থাকা বিষয় উচ্চপর্যায়ে তোলার কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। নতুন বিনিয়োগ আনার মতোই বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধান অর্থাৎ ইনভেস্টর আফটার কেয়ার গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সন্তুষ্ট জাপানি প্রতিষ্ঠানই জাপানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য দূত।

এই মুহূর্তে তিনটি প্রকল্পকে সর্বোচ্চ জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন—মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। এগুলো আলাদা তিনটি নির্মাণকাজ নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতাসক্ষমতার অবকাঠামোগত মেরুদণ্ড। মাতারবাড়ী হবে সমুদ্রদ্বার, তৃতীয় টার্মিনাল হবে আকাশদ্বার আর মেট্রোরেল হবে রাজধানীর মানুষের ও উৎপাদনশীলতার গতিপথ।

মাতারবাড়ী বাংলাদেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর হিসেবে দেশের লজিস্টিকস ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে। বড় সমুদ্রগামী জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারলে আঞ্চলিক বন্দরে ট্রান্সশিপমেন্ট ও ছোট ফিডার জাহাজের ওপর নির্ভরতা কমবে, আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এর ফলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে, শিল্পের কাঁচামাল দ্রুত পৌঁছাবে এবং বাংলাদেশ আঞ্চলিক সরবরাহশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারবে।

বন্দর নির্মাণই শেষ কথা নয়। সময়মতো সড়ক ও রেল–সংযোগ, আধুনিক কাস্টমস, ডিজিটাল পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, দক্ষ পরিচালনা এবং আশপাশে পরিকল্পিত শিল্প-লজিস্টিকস অঞ্চল গড়ে তুলতে হবে। বন্দর উদ্বোধনের প্রথম দিন থেকেই দক্ষ পরিচালনার প্রস্তুতিই প্রকল্পের সাফল্য নির্ধারণ করবে। মাতারবাড়ীকে কক্সবাজারের একটি প্রকল্প নয়, বাংলাদেশের বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিযোগিতার রূপান্তর প্রকল্প হিসেবে দেখতে হবে।

ঢাকার মেট্রোরেল ইতিমধ্যে দেখিয়েছে যে সঠিক প্রকল্প মানুষের আচরণ, সময়বোধ ও শহর সম্পর্কে প্রত্যাশা বদলে দিতে পারে। এমআরটি লাইন-৬ বাংলাদেশের সক্ষমতার দৃশ্যমান প্রমাণ। কিন্তু লাইন-১ ও লাইন-৫-এর মতো পরবর্তী প্রকল্পে ব্যয়, দরপত্র ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘ হলে সময় ও ব্যয়—দুটিই আরও বাড়বে, অংশীদারদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এখানে দোষারোপ নয়, দ্রুত সমাধান জরুরি।

বাংলাদেশ ও জাপানের নীতিনির্ধারক, অর্থায়নকারী সংস্থা, বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবসম্মত ব্যয়, প্রতিযোগিতা, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও ঋণচুক্তির শর্তের সমন্বিত সমাধান করতে হবে। প্রতিটি মাসের বিলম্বেরও অর্থনৈতিক মূল্য আছে—এটি আমাদের সিদ্ধান্তে দৃশ্যমান করতে হবে।

তৃতীয় টার্মিনাল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিচয়ের নতুন মুখ হতে পারে। বিশ্বমানের ভবন নির্মাণের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশ্বমানের পরিচালনা। পরিচালন প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা, ব্যাগেজ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কার্গো ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, প্রযুক্তি এবং দায়িত্বের স্পষ্টতা—সবকিছু উদ্বোধনের বহু আগে পরীক্ষিত হতে হবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অপারেটর ও দেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দক্ষতা হস্তান্তর নিশ্চিত করে এমন ব্যবস্থা প্রয়োজন, যাতে প্রথম দিন থেকেই যাত্রী ও এয়ারলাইনস একটি নির্ভরযোগ্য অভিজ্ঞতা পায়। একটি বিমানবন্দর শুধু যাত্রী গ্রহণ করে না, এটি বিনিয়োগকারীর কাছে একটি দেশের সক্ষমতা ও সংস্কৃতির প্রথম বার্তা পাঠায়।

এই তিন প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি ‘জাপান-বাংলাদেশ ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট ডেলিভারি কাউন্সিল’ গঠন বিবেচনা করা যেতে পারে। কাউন্সিলটি নতুন আমলাতান্ত্রিক স্তর হবে না, বরং সিদ্ধান্তের বাধা অপসারণের ছোট, ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্ল্যাটফর্ম হবে। প্রতি মাসে মাইলফলক, ঝুঁকি, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা নিয়ে সংক্ষিপ্ত ড্যাশবোর্ড জাতীয় নেতৃত্বের সামনে উপস্থাপন করা উচিত। সমস্যাকে গোপন না করে আগেভাগে দৃশ্যমান করাই বড় প্রকল্পে ব্যয় ও সময় বাঁচায়।

ব্যবসা পরিবেশেও কয়েকটি নীতিগত পদক্ষেপ দ্রুত ফল দিতে পারে। প্রথমত, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিডা, বেজা, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ‘জাপান ইনভেস্টমেন্ট ফাস্ট ট্র্যাক’ দরকার। দ্বিতীয়ত, কর-শুল্ক ও বিনিয়োগনীতিতে পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আগে পরামর্শ, যুক্তিসংগত রূপান্তরকাল এবং বিদ্যমান বিনিয়োগের বৈধ অধিকার সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, বাণিজ্যিক বিরোধ ও সরকারি চুক্তির বিষয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সময়সীমা ধরে সমাধানের ব্যবস্থা গড়তে হবে। চতুর্থত, ইপিএ বাস্তবায়নের জন্য পৃথক সেল গঠন করে পণ্যের মান, রুলস অব অরিজিন, কাস্টমস, সেবা বাণিজ্য ও রপ্তানিকারকদের প্রস্তুতি একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। পঞ্চমত, বাংলাদেশকে শুধু সস্তা শ্রমের গন্তব্য হিসেবে নয়, দক্ষতা ও প্রযুক্তির অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। জাপানি ভাষা, শিল্পের নিরাপত্তা, মেকাট্রনিকস, ওয়েল্ডিং, কোল্ডচেইন, স্বাস্থ্যসেবা, আইটি ও মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় যৌথ প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাপানি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব প্রয়োজন। একই সঙ্গে যোগ্য বাংলাদেশি এসএমইকে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহশৃঙ্খলে যুক্ত করতে মান, অর্থায়ন ও সনদ অর্জনে সহায়তা দিতে হবে। তাতে বিনিয়োগের সুফল স্থানীয় অর্থনীতিতে বহুগুণ বাড়বে।

দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ, এখন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকেও সেই মানে নিতে হবে। জাপানি ব্যবসায়িক সংস্কৃতিতে আস্থা তৈরি হতে সময় লাগে, কিন্তু একবার তৈরি হলে সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়। আবার অনিশ্চয়তা দীর্ঘ হলে তারা উচ্চকণ্ঠ না হয়েই অন্য গন্তব্য বেছে নিতে পারে। তাই প্রতিযোগিতা শুধু প্রণোদনার নয়, বিশ্বাসযোগ্য বাস্তবায়নের। ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও অন্যান্য দেশ জাপানি বিনিয়োগের জন্য দ্রুত এগোচ্ছে। বাংলাদেশকে নিজের শক্তিকে সিদ্ধান্তের গতিতে রূপান্তর করতে হবে।

জাপানের কাছ থেকে বহু দশক ধরে অর্থ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান পাওয়া গেছে। এখন এমন এক অংশীদারত্ব গড়ার সময়, যেখানে বাংলাদেশও জাপানকে দেবে একটি নির্ভরযোগ্য উৎপাদনভিত্তি, বড় বাজার, দক্ষ তরুণ জনশক্তি, আঞ্চলিক সংযোগ এবং যৌথ উদ্ভাবনের সুযোগ। আমাদের লক্ষ্য শুধু আরও কিছু জাপানি কোম্পানি আনা নয়, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পরবর্তী শিল্পায়ন গড়ে তোলা।

মাতারবাড়ীর জাহাজ, তৃতীয় টার্মিনালের উড়োজাহাজ এবং ঢাকার মেট্রোরেল—এই তিন প্রতীক একটি নতুন বাংলাদেশের গল্প বলতে পারে যে বাংলাদেশ পরিকল্পনা করে, সময়মতো সিদ্ধান্ত নেয়, বিশ্বমান বজায় রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারকে মর্যাদা দেয়। বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ভিত্তি ইতিমধ্যে শক্ত। এখন প্রয়োজন সেই বিশ্বাসকে গতি দেওয়া। আমরা যদি তা পারি, আগামী দশকে জাপান শুধু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন অংশীদারদের একটি থাকবে না; বাংলাদেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি বৈচিত্র্য ও এশীয় অর্থনীতিতে উত্থানের অন্যতম প্রধান অংশীদার হয়ে উঠবে।

লেখক–তারেক রাফি ভূঁইয়া, সভাপতি, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নিউভিশন সলিউশনস লিমিটেড