স্থবিরতা কাটিয়ে অর্থনীতি গতিশীল হবে—এটাই আশা

আমের আলীহোসাইনফাইল ছবি

নতুন বছরের প্রত্যাশা হলো, দেশে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা যেন থাকে। কারণ, স্থিতিশীলতা ছাড়া কোনো অর্থনীতি টেকসইভাবে এগোতে পারে না। আমরা সবাই জানি, ২০২৫ সাল অর্থনীতির জন্য ছিল কঠিন এক সময়। নতুন বছরে সেই কঠিন সময় পেরিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন আবার গতিশীল হয়—এই প্রত্যাশা করি। নতুন বছরে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। নির্বাচিত সরকার এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। 

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে এসেছে। এই স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে হলে এখনই সংস্কারকাজে হাত দিতে হবে। ছোট থেকে বড় সব পর্যায়েই সংস্কার সময়ের দাবি। তবে সংস্কারের মূল লক্ষ্য হতে হবে জনগণের সুফল নিশ্চিত করা। সে জন্য প্রথমেই সংস্কারের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। উদ্দেশ্য পরিষ্কার হলে কোথায় কী সংস্কার প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করা এবং বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া অনেক সহজ হয়।

শিল্পায়নের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটির যেকোনো একটির সরবরাহ ব্যাহত হলে শিল্প উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। তাই শিল্প খাতে এই মৌলিক সেবাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার হতে হবে। 

এ ছাড়া লজিস্টিকস খাতে আমাদের ব্যয় বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় অনেক বেশি। বিষয়টি আলাদাভাবে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। পণ্য আমদানিতে আমরা টনপ্রতি অনেক ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ করছি, যা সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার অপচয়। এই খরচ কমাতে হলে বন্দরের সেবার দক্ষতা বাড়াতে হবে, জরুরি ভিত্তিতে বন্দর অবকাঠামোর আধুনিকায়ন করতে হবে। 

পণ্য আমদানিতে আমরা টনপ্রতি অনেক ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ করছি, যা সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার অপচয়। এই খরচ কমাতে হলে বন্দরের সেবার দক্ষতা বাড়াতে হবে।
আমের আলীহোসাইন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিএসআরএম গ্রুপ

বন্দর খাতের পাশাপাশি সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যায়। চট্টগ্রাম থেকে যশোরের দূরত্ব ৫০০ কিলোমিটারের কম হলেও আমাদের দেশে এই পথ অতিক্রম করতে দ্বিগুণের বেশি সময় লাগে। অথচ উন্নত দেশগুলোতে একই দূরত্ব পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই অতিক্রম করা সম্ভব। তাইওয়ানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ছোট একটি দেশ হলেও সেখানকার রেল ও সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী যে দেশটির এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগে না। নতুন বছরে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে গুরুত্ব দেওয়া হবে—এটাই প্রত্যাশা।

যোগাযোগব্যবস্থা সহজ ও কার্যকর হলে তার সুফল সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছাবে। মানুষ কম সময়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারবে, পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে। পণ্য আমদানির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহন ব্যয় কমলে দিন শেষে তার সুফল ভোগ করবে সাধারণ মানুষ।