নতুন বছর নতুন করে আশাবাদী করবে, এটাই প্রত্যাশা করি
নতুন বছরটি শুরু হচ্ছে নতুন এক প্রত্যাশায়। অনেক অনিশ্চয়তার পর নতুন বছরে নির্বাচিত একটি সরকার পেতে যাচ্ছি আমরা। আগামী ফেব্রুয়ারিতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার পাব বলে আমরা আশা করছি। এটিই হবে নতুন বছরে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কারণ, ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, দেশি–বিদেশি বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে দেশের আপামর মানুষ একটি নির্বাচিত সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। এ অবস্থায় নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে অনেক অনিশ্চয়তা ধীরে ধীরে কেটে যাবে।
অনেক অনিশ্চয়তা, হতাশা ও মন খারাপ করা নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০২৫ সাল পার হয়েছে। তাই একজন উদ্যোক্তার পাশাপাশি দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নতুন বছরকে ঘিরে প্রথম প্রত্যাশা দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীল একটি পরিবেশ ফিরে আসবে। নিরাপত্তাহীনতাবোধও কেটে যাবে সবার। আমরা মনে করি, যেকোনো নির্বাচিত সরকারের বড় দায়বদ্ধতা থাকে মানুষের প্রতি। তাই সেই দায়বদ্ধতা থেকে তারা মানুষের নিরাপত্তা ও দেশের স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
একজন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হিসেবে দেখছি বেশ কয়েক বছর ধরে দেশি–বিদেশি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। তাতে কর্মসংস্থানের নতুন কোনো সুযোগও খুব বেশি তৈরি হয়নি। এ অবস্থায় বিনিয়োগে গতি ফিরিয়ে আনা খুবই জরুরি। দেশি–বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সব সময় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করেন। তাই আশা করছি নতুন বছরে রাজনৈতিক স্থিতিশীল ফিরে পাব আমরা। সেটি হলে আবারও বিনিয়োগে গতি সঞ্চার হবে।
এ ছাড়া নতুন বছরে নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করার ক্ষেত্রে তাঁরা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আমরা যাতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসতে পারি, সেই পরিবেশটা তাঁরা তৈরি করবেন। পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্যও বিনিয়োগের পথটি সহজ করবেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য সবসময় আকর্ষণীয় গন্তব্য। কারণ, আমাদের রয়েছে বিপুল শ্রমশক্তি। এই শ্রমশক্তিকে আমরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত শিল্পবান্ধব জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারব।
নতুন বছরে নতুন সরকারের কাছে আমাদের আরও প্রত্যাশা থাকবে, ব্যবসা–বাণিজ্য সহজ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাব। বিনিয়োগের জন্য সরকারি দপ্তরে দপ্তরে বিনিয়োগকারীদের ঘুরতে হবে না। ভিয়েতনাম ব্যবসা–বাণিজ্যের উন্নতির জন্য যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সেগুলো আমরা ফলো করলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। নির্বাচিত সরকারের কাছে আমাদের আরও প্রত্যাশা থাকবে অর্থনীতি ও ব্যবসা–বাণিজ্যকে রাজনীতির বাইরে রাখা হবে। দেশের উন্নয়নকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে নীতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে নির্বাচিত সরকার।
বাংলাদেশ সব সময় নানা সংকট থেকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। নতুন বছরে নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ আবারও তার প্রমাণ দেবে এই বিশ্বাস ও আশা রয়েছে আমার। তার জন্য জাতিগত ঐক্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন। এ দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে আমরা শ্রমশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে তাতে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন হবে। সবার আগে আমাদের দেশের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সবশেষে বলব, জীবনযাপন থেকে শুরু করে ব্যবসা–বাণিজ্য, বিনিয়োগ সব ক্ষেত্রে নতুন বছর আমাদের নতুন করে আশাবাদী করবে, এমনটাই প্রত্যাশা করি।
রূপালী চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বার্জার বাংলাদেশ।