উচ্চমানের পণ্য উৎপাদনই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

ছবি: জেট্রোর সৌজন্যে।
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে জাপান, এই খবরে আমি আনন্দিত। এটি বাংলাদেশের দিক থেকে প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ)। আশা করি, এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

এই চুক্তির ফলে জাপানের বাজারে ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ এবং তিন বছরের উত্তরণকাল শেষ হওয়ার পরও বাংলাদেশ অনুকূল শর্তে রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারবে।

অন্যদিকে এলডিসি দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে। মূল চ্যালেঞ্জগুলো হলো এই ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যের মধ্যে কতগুলো জাপানের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিশ্চিত করতে পারবে। শুল্কমুক্ত সুবিধা দামের দিক থেকে প্রতিযোগিতায় সহায়তা করলেও জাপানি ভোক্তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য উচ্চমানের পণ্য উৎপাদনই সম্ভবত বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

জাপান বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে ইস্পাত পণ্যে দীর্ঘমেয়াদি শুল্ক প্রত্যাহারের সুবিধা পাবে, এটি জাপানের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত। এ ছাড়া ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বাজারে জাপানের মোট ১ হাজার ৩৯টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় আসবে। যেসব পণ্যে তাৎক্ষণিকভাবে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেসব দেশের সঙ্গে ইপিএ করবে, তাদের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বজায় রাখা যাবে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

এই ইপিএ বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশে ব্যবসাবান্ধব বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ব্যবসা করা সহজ হলে বিনিয়োগ স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। জেট্রো বাংলাদেশে কার্যরত জাপানি কোম্পানিগুলোর অভিজ্ঞ চ্যালেঞ্জগুলো সরকারি সংস্থার সঙ্গে ভাগাভাগি করে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে অবদান রাখতে এবং জাপান থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করতে চায়।

এবারের চুক্তিতে নিয়মনীতি বা বিধির ক্ষেত্রেও সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে আছে মেধাস্বত্ব, শুল্ক পদ্ধতি, বাণিজ্য সহজীকরণ ও ই-কমার্স। এসব কিছুর বাস্তবায়ন সরাসরি বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতিতে ভূমিকা রাখবে এবং জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ উৎসাহিত করবে। তাই আমি এসব নিয়মের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করব।

বাংলাদেশে নতুন সরকার এই ইপিএ অনুমোদন দেবে বলে আমি আশা করি। আরও আশা করি, জটিলতা ছাড়া চুক্তিটি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি নির্বিঘ্নে নেওয়া হবে।

কাজুইকি কাতাওকা: কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)