জ্বালানি তেলের মজুত ও পাইপলাইনের সঠিক চিত্র তুলে ধরা জরুরি

সেলিম রায়হান, নির্বাহী পরিচালক, সানেমপ্রথম আলো ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্য–সংকটের কারণে জ্বালানি তেল নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা চলছে। জ্বালানি তেলের মজুত কম—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। দেশে মজুত কমার শঙ্কায় রাজধানীর জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোয় ব্যাপক ভিড় দেখা যাচ্ছে। অনেকে আতঙ্কিত হয়ে নিজেদের যানবাহনের জন্য বাড়তি তেল কিনছেন। পুরো পরিস্থিতি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও একধরনের শঙ্কা ও আস্থাহীনতা তৈরি করছে।

এই পরিস্থিতি সরকারকে সঠিকভাবে সামাল দিতে হবে। বিশেষ করে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল, কেরাসিনসহ জ্বালানি তেলের মজুত কত, কী পরিমাণ তেল পাইপলাইনে আছে—এসবের সঠিক চিত্র প্রকাশ করে প্রতিদিন অন্তত একবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় ব্রিফিং করতে পারে। জ্বালানি তেল নিয়ে আসা কোন জাহাজ কোথায় আছে, কত দিন পর দেশে আসবে—তা–ও জানানো উচিত। যা ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আশ্বস্ত করবে। তা না হলে সুযোগসন্ধানীরা সুযোগ নেবে।

আরও পড়ুন
জ্বালানি তেলের সংকট মূলত দুইভাবে অর্থনীতি, ব্যবসা–বাণিজ্যে প্রভাব ফেলবে। এক. বিদ্যমান বিনিয়োগের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। ব্যবসা–বাণিজ্য শ্লথ হবে। দুই. নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। অনেক দেশি–বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন। জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি বিরাজমান থাকলে তাঁরা বিনিয়োগ পিছিয়ে দিতে পারেন।

সরকারি বিধিনিষেধ অনুসারে, পেট্রোলপাম্প বন্ধ করা যাবে না। কিন্তু গত দুই–তিন দিনের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেক পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য–সংকটের কারণে জ্বালানি তেল পরিস্থিতি নিয়ে পার্শ্ববর্তী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভারত এখন বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়া থেকে তেল আনছে। আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশেরও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো উৎস হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজের জট সৃষ্টি হয়েছে, যা একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—তা–ও কেউ বলতে পারছে না। মধ্যপ্রাচ্য থেকে যদি এক মাস তেল না আসে, তাহলে সরকারের পরিকল্পনা কী, কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে—তা জনগণের সামনে নিয়মিতভাবে জানানো উচিত।

সার্বিকভাবে জ্বালানি তেলের রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত ঠিক আছে। তবে জ্বালানি তেলের মজুত ও পাইপলাইনের চিত্র তুলে ধরা জরুরি। কারণ, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে।

জ্বালানি তেলের সংকট সব শ্রেণির মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে। অর্থনীতি, ব্যবসা–বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি তেলের প্রভাব আছে।

জ্বালানি তেলের সংকট মূলত দুইভাবে অর্থনীতি, ব্যবসা–বাণিজ্যে প্রভাব ফেলবে। এক. বিদ্যমান বিনিয়োগের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। ব্যবসা–বাণিজ্য শ্লথ হবে। দুই. নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। অনেক দেশি–বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন। জ্বালানি–সংকট পরিস্থিতি বিরাজমান থাকলে তাঁদের নতুন সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাব ফেলবে। তাঁরা বিনিয়োগ পিছিয়ে দিতে পারেন।

  • সেলিম রায়হান: নির্বাহী পরিচালক, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)

আরও পড়ুন