ভারতে আমাদের কোম্পানি প্রতি মাসে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ ডলারের খাদ্য রপ্তানি করত। ছয় মাস ধরে আমরা এক কনটেইনার পণ্যও পাঠাতে পারিনি। তার অন্যতম কারণ টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও বিভিন্ন উপকরণ বা কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি।

নতুন করে এখন আবারও উৎপাদন খরচ বাড়বে। কারণ, গ্যাসের দাম প্রায় তিন গুণ বাড়ানো হয়েছে। এতে আমাদের পণ্যের উৎপাদন খরচ কমপক্ষে আড়াই শতাংশ বেড়ে যাবে। ভারতে চিনির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫২ টাকা। আর আমাদের দেশে ১০০ টাকার বেশি। মুম্বাই থেকে সৌদি আরবের জেদ্দায় কনটেইনার ভাড়া ৭০০-৮০০ ডলার। আর চট্টগ্রাম থেকে ভাড়া ১ হাজার ৮০০ ডলার। সব মিলিয়ে আমাদের ব্যবসা করা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এখন বড় দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।

ডলার–সংকটের কারণে ঋণপত্র খোলা এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে। নগদ টাকা ছাড়া দেশেও পণ্য কেনা দুষ্কর। আগে ২০-২৫ লাখ টাকা পুঁজি থাকলে ১ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন করা যেত।

ব্যবসায়ীরা বাকিতে পণ্য দিতেন। এখন সেটি হচ্ছে না। আমাদের মতো খাদ্যপণ্য রপ্তানিকারকদের টিকিয়ে রাখতে চিনির বিকল্প পণ্য আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা কঠিন। শুধু যাঁরা বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদন করেন, তাঁরা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবেন। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

ছৈয়দ মোহাম্মদ শোয়াইব হাছান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, হিফস অ্যাগ্রো