তথ্যের নৈরাজ্যে আস্থা কমছে সরকারের ওপর

সিপিডি ও এশিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত সংলাপে (বাঁ থেকে) সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী, সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সাংসদ আব্দুস শহীদ ও কাজী নাবিল আহমেদ। গতকাল রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে
ছবি: প্রথম আলো

বাংলাদেশে গোপনে, ধারাবাহিকভাবে পরিসংখ্যানের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য চলছে। সরকারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মাঠের বাস্তবতার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার থেকে যেসব তথ্য দেওয়া হয়, তা অনেক পুরোনো ও বিভ্রান্তিকর। এতে একদিকে যেমন সঠিক নীতি প্রণয়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি সরকারের ওপর মানুষের আস্থাও কমিয়ে দিচ্ছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘নীতি নির্ধারণে অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্যের মান বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ’ নিয়ে আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও এশিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় সংলাপে বক্তব্য দেন সিপিডির চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, সরকারি হিসাব–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, সাংসদ কাজী নাবিল আহমেদ ও শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

অনুষ্ঠানে রেহমান সোবহান বলেন, সরকারি দপ্তরের তথ্যের গুণগত মান আরও বাড়াতে হবে। মানুষ যাতে সহজে তথ্য পেতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। তবে তথ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে দাবি আসতে হবে।

আব্দুস শহীদ বলেন, তথ্য–উপাত্ত ছাড়া যেকোনো পরিকল্পনা নেওয়া কঠিন। আমাদের তথ্যের ঘাটতি আছে এটা ঠিক। এটা উদাসীনতা। তিনি বলেন, সর্বজনীন পেনশন–ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তথ্যের সহজলভ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা জরুরি বলে মত দেন তিনি।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘প্রবৃদ্ধির দিকে তাকিয়ে না থেকে তথ্যের মান বাড়াতে হবে। আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে যদি তথ্যই না পাই, তাহলে আমি কীভাবে সংসদে হ্যাঁ বলব?’ তাঁর মতে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭০–এর কারণে অনেক সাংসদ কথা বলতে ভয় পান। তথ্য প্রাপ্তির জন্য সাংসদদের নিয়ে একটি ককাস বা গ্রুপ করা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত তথ্যের সন্ত্রাস চলছে। সরকারি তথ্য নিয়ে এলাকায় গেলে বাস্তবতার সঙ্গে মিল পাই না। আমার এলাকায় দারিদ্র্যের হার যত দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা তার চেয়ে বেশি। আমরা উন্নয়ন নিয়ে যতটা কথা বলি, পরিসংখ্যানের স্বচ্ছতা নিয়ে ততটা বলি না।’

অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, একজন সেবাগ্রহীতার জন্য সরকারি তথ্য পাওয়া খুবই কঠিন কাজ। এ তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে হবে সরকারকে। একই সঙ্গে সে তথ্য হতে হবে গ্রহণযোগ্য।