কোয়ান্টাম কনজ্যুমার সলিউশনস বাংলাদেশের ১০ বছর পূর্তি
ব্যবসায় মানসম্পন্ন গবেষণার চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে

পণ্য বাজারজাতে গ্রাহকের চাহিদা বুঝতে দেশে এখন নানা রকমের বাজার জরিপ ও গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাহকের চাহিদা বুঝতে গুণগত গবেষণার (কোয়ালিটেটিভ রিসার্চ) ব্যবহার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে।
সংখ্যাকে প্রাধান্য না দিয়ে মানের দিকে জোর দিয়ে যে গবেষণা করা হয়, তাই গুণগত জরিপ বা গুণগত গবেষণা। কিছু পেশাদারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে দেশে এ ধরনের গবেষণার কাজ করছে। এমনই একটি প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম কনজ্যুমার সলিউশনস বাংলাদেশ। ভারতের বহুজাতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম রিসার্চ ও বাংলাদেশের অ্যাপেক্স গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে ২০০৪ সাল থেকে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। দেশীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকবিষয়ক বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণার পাশাপাশি সামাজিক খাতের গবেষণাও করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ উপলক্ষে বাংলাদেশে এসেছেন কোয়ান্টাম রিসার্চ গ্রুপের চেয়ারম্যান মীনা কৌশিক, ভাইস চেয়ারম্যান শ্রীলেখা আগারওয়াল, বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা রিনিতা সিংসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কোয়ান্টাম রিসার্চের গবেষণা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে দৈনিক প্রথম আলোর সঙ্গে গতকাল কথা বলেন শ্রীলেখা আগারওয়াল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোয়ান্টাম রিসার্চের পরিচালক ও অ্যাপেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং কোয়ান্টাম বাংলাদেশের প্রধান রুহিনা হালিম।
শ্রীলেখা আগারওয়াল বলেন, ‘১৯৯২ সালে ভারতে যাত্রা শুরু করি আমরা। এরপর পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়ায় কার্যক্রম বিস্তৃত করেছি। পাশাপাশি ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গ্রাহক পর্যায়েও আমরা কাজ করছি।’
বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ১০ বছরের কার্যক্রম সম্পর্কে শ্রীলেখা আগারওয়াল বলেন, ‘গুণগত বা কোয়ালিটেটিভ বাজার জরিপ ও গবেষণা বাংলাদেশে আমরা আসার আগে তেমন হতো না বললেই চলে। গ্রাহকের সঙ্গে বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপনে যোগসূত্র হিসেবে কাজ করছি আমরা।’
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে শ্রীলেখা আগারওয়াল বলেন, ‘বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের সুগন্ধি সাবান কিনতে পাওয়া যায়। একজন ভোক্তা কেন শুধু একটি ব্র্যান্ডের সাবান কেনেন, এর পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকে। সে কারণগুলো জরিপ ও গবেষণার মাধ্যমে আমরা খুঁজে বের করি।’
বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য সম্পর্কে রুহিনা হালিম বলেন, ‘২০০৪ সালে আমরা যখন কার্যক্রম শুরু করি, তখন মাত্র তিনটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কাজ করতাম। আর এখন ৯০টি প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী গবেষণা সেবা দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের বড় সাফল্য হলো, দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের বাজার জরিপ ও গবেষণায় আগ্রহী হয়ে উঠছে। যেমন স্কয়ার ও আকিজ গ্রুপের মতো দেশের বেশ কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর বাজার জরিপ কার্যক্রম আমরা করছি।’
রুহিনা আরও বলেন, ঢেউটিন থেকে শুরু করে টেলিযোগাযোগসহ সেবা খাতের সব প্রতিষ্ঠানই এখন ভোক্তার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বুঝতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আর এ ক্ষেত্রে গুণগত বাজার গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।
রুহিনার এ কথাকে সমর্থন করে নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘ভোক্তার অবস্থান থেকে একটি পণ্যকে কীভাবে বাজারজাত করা উচিত, সেটা বুঝতে কোয়ান্টামের বাজার গবেষণাগুলো আমাদের খুবই কাজে লেগেছে। গবেষণার ক্ষেত্রে কোয়ান্টামের নিজস্ব উদ্ভাবিত কিছু কৌশল শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।’
প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে শ্রীলেখা আগারওয়াল বলেন, ‘কোয়ালিটেটিভ গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা এখন একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হতে চাই। এ জন্য খুব শিগগির মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীনে কার্যক্রম শুরু করব।’
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানা যায়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশে তাদের আয় হয়েছে সাড়ে চার কোটি টাকা। আগামী তিন বছরে তা ১০ কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশি–বিদেশি মোট ১৩৩টি ব্র্যান্ডের ৮৭০টি গবেষণা সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির। বিশ্বব্যাপী গবেষণা কার্যক্রম থেকে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয় ৫৫ কোটি রুপি।
কোয়ান্টামের পাশাপাশি বাংলাদেশে বর্তমানে নিয়েলসেন, মিলওয়ার্ড ব্রাউন, এমআরবি বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গুণগত গবেষণা করছে।
কোয়ান্টামের বাংলাদেশ শাখায় স্থায়ী গবেষক হিসেবে কর্মরত আছেন ২০ জন গবেষক। প্রশাসনিক ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সব মিলিয়ে এক শর বেশি মানুষ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িত।
সামাজিক খাতের বিভিন্ন দিকে নিয়ে গবেষণা করছে প্রতিষ্ঠানটি। নারীদের জীবনের বিভিন্ন চাহিদা, তরুণ প্রজন্মের চিন্তাভাবনা, মায়েদের চিন্তাভাবনা, রমজান মাসের অর্থনীতির মতো ব্যতিক্রমী বিষয়েও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে কোয়ান্টাম। প্রতিষ্ঠানটির এক জরিপে দেখা গেছে, দেশে রমজান মাসে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। এই জরিপের ফল আজ বুধবার প্রকাশ করা হবে। আগ্রহী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব গবেষণার ফলাফল ব্যবহার করতে পারেন।