মোবাইল মানি অর্ডারে মানুষের আগ্রহ কমছে

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস (ইএমটিএস) বা ইলেকট্রনিক অর্থ স্থানান্তরে মানুষের আগ্রহ কমছে। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছর সেবাটির মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৪৮০ কোটি টাকা। সদ্য বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ (জুলাই-মে) মাসে লেনদেন হয়েছে মাত্র ২৪০ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে লেনদেন প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে।
তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে ২০১০ সালের ২৬ মার্চ টাকা পাঠানোর আধুনিক ব্যবস্থা ইএমটিএস সেবা চালু করে ডাক বিভাগ। বর্তমানে গ্রাহকেরা সারা দেশের ২ হাজার ৭৫০টি ডাকঘর থেকে এ সেবা নিতে পারেন। তা ছাড়া বেশ কিছু পোস্ট-ই-সেন্টার থেকেও ইএমটিএস সেবা পাওয়া যায়।
ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেবাটি চালু হওয়ার পর খুব দ্রুত মানুষের মধ্যে সাড়া পড়ে। প্রথম অর্থবছরেই ২৩ লাখ ও পরের অর্থবছর ২৮ কোটি টাকা মুনাফা হয়। ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। তবে দ্রুতই এই সেবার লেনদেন পরিস্থিতির অবনতি হয়। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছর সেবাটির মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে মাত্র ৪৮০ কোটি টাকা।
গ্রাহক টানতে গত জানুয়ারিতে সেবার মাশুল কমানো হয়েছে। এখন এক হাজার টাকা পাঠাতে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা লাগে। আগে এই হার ছিল প্রথম ১ হাজারে ২৭ টাকা। পরবর্তী প্রতি হাজারের জন্য ১০ টাকা করে। তবে আগের চেয়ে মাশুল কমিয়েও কোনো লাভ হয়নি। গ্রাহকের সংখ্যা বাড়েনি, উল্টো আগ্রহ কমেছে।
ডাক বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলে জানা গেছে, কয়েকটি কারণে ইএমটিএস সেবাটি নিতে গ্রাহকদের আগ্রহে ভাটা পড়ে। এক. বিকেল পাঁচটার পর টাকা জমা কিংবা উত্তোলন করা যায় না। দুই. শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ডাকঘর বন্ধ থাকে। তিন. বিকাশসহ অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা গ্রাহকেরা হাতের কাছে পেলেও ইএমটিএস সেবা নিতে নির্দিষ্ট ডাকঘরে যেতে হয়। চার. প্রচার-প্রচারণা না থাকায় অনেকেই সেবাটি সম্পর্কে জানেন না।
জানতে চাইলে সেবাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল জাকির হাসান নুর সম্প্রতি ইএমটিএস সেবা নিতে আসা গ্রাহকের সংখ্যা কমার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সেবাটি মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চাই। সে জন্য বাংলালিংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এই বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটরের ১ লাখ ১ হাজার ২৬৬ ক্যাশ পয়েন্ট থেকে ইএমটিএস সেবাটি পাওয়া যাবে।’
জাকির হাসান নুর বলেন, পরীক্ষামূলক কাজ শেষে স্বল্প পরিসরে বাংলালিংক ক্যাশ পয়েন্ট থেকে মোবাইল মানি অর্ডার সেবা দেওয়া শুরু হয়েছে। শিগগিরই সারা দেশের ক্যাশ পয়েন্ট থেকে সেবাটি পাওয়া যাবে। সেটি হলে ডাকঘর থেকে সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতাগুলো ছিল সেগুলো দূর হবে। তিনি বলেন, ইএমটিএস সেবাটি এখন থেকে ‘মোবাইল মানি অর্ডার’ ব্র্যান্ড নামে পরিচিত হবে।
জানা যায়, মোবাইল মানি অর্ডারের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে শতকরা ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ অর্থ চার্জ হিসেবে মাশুল দিতে হবে গ্রাহকদের। তার মানে, এক হাজার টাকা পাঠাতে লাগবে সাড়ে ১৮ টাকা। এর মধ্যে ১৪ টাকাই পাবে বাংলালিংক ক্যাশ পয়েন্টের এজেন্ট। বাকিটা ডাক বিভাগ ও বাংলালিংকের মধ্যে ভাগ হবে। একটি মোবাইল নম্বরে একবারে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পাঠানো যাবে।
ইএমটিএস সেবার মাশুলের পুরোটাই বর্তমানে ডাক বিভাগের থাকছে। তবে বাংলালিংকের সঙ্গে সেবাটির পরিধি বাড়াতে গিয়ে মুনাফা কমবে ডাক বিভাগের। এ বিষয়ে জাকির হাসান নুর বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য বেশি মানুষকে সেবা দেওয়া, মুনাফা নয়। ফলে মুনাফা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই।’
জানতে চাইলে বাংলালিংকের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের পরিচালক আসিফ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশে নিরাপদ ও সুবিধাজনক এই সেবা চালু করতে ডাক বিভাগের সঙ্গে বাংলালিংক নিবিড়ভাবে কাজ করছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে সেবাটি চালু করা হবে।