সরকারের নীতিসহায়তা জরুরি

মো. আলমগীর কবির
মো. আলমগীর কবির

করোনাকালে ব্যবসার বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। কারও আগে থেকে কোনো ধারণা ছিল না যে এ অবস্থা হতে পারে। ফলে কারও কোনো প্রস্তুতি ছিল না।

সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটা হয়েছে সেটা হলো আমাদের কর্মীদের মনোবলে চিড় ধরেছে। সাধারণ ছুটির প্রথমদিকে আমাদের উৎপাদন বন্ধ ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। এখন সেটা ৬০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সিমেন্ট খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা।

স্বাভাবিক সময়ে কর্মীরা যেভাবে দলগতভাবে কাজ করতেন, সেটা করোনাকালে হচ্ছে না। ফলে স্বাভাবিক কাজের গতি ও উৎপাদনশীলতা বাধার মুখে পড়ছে। অনেকেই মানসিকভাবে অসুস্থবোধ করছেন।

আমাদের অনুমান হলো, সিমেন্ট খাতের কোম্পানিগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থের প্রবাহ কমে গেছে। সিমেন্ট খাদ্য ও নিত্যব্যবহার্য পণ্যের মতো জরুরি নয়। আগামী দিনগুলোতেও বাড়ি নির্মাণ, ফ্ল্যাট কেনার মতো বিষয় অগ্রাধিকারে থাকবে না। সরকারি অবকাঠামো ব্যয়েও ভাটা পড়তে পারে। করোনা কেটে গেলেও আগামী এক থেকে তিন বছরে আমাদের ব্যবসার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছি না।

সিমেন্টের মতো ভারী শিল্পের টিকে থাকা নির্ভর করে সরকারের নীতিসহায়তার ওপর। আমরা চাই সরকার সহায়ক নীতি গ্রহণ করুক। স্বল্প সুদে ঋণ পেয়েছি। সে জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। এখন সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকারের ওপর শুল্ক টনপ্রতি ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হোক। অগ্রিম আয়কর পুরোপুরি তুলে নেওয়া অথবা নিদেনপক্ষে এটি সমন্বয়যোগ্য কর হিসেবে ঘোষণা করা হোক।

আমি সরকারের কাছে আবেদন করব যে উন্নয়ন বাজেট যাতে না কমানো হয়।

মোআলমগীর কবির : ভাইস চেয়ারম্যান, ক্রাউন সিমেন্ট