সুদ কম হলে ব্যাংক আগ্রহ দেখাবে না

মির্জা ইলিয়াস উদ্দিন আহমেদ

অনেক দিন পর টাকা তুলে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিল চালু করছে। এটা দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। এতে ব্যাংকগুলো সাড়া দিলে টাকা যে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে, তা আর থাকবে না। তবে এই বিলের সুদহার যদি ট্রেজারি বিল ও কল মানির চেয়ে কম হয়, তাহলে কোনো কাজে দেবে না। কোনো ব্যাংক আগ্রহ দেখাবে না।

টাকা সহজলভ্য হওয়ায় আমানতকারীরা তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ব্যাংকের প্রতি আমানতকারীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। টাকার সহজলভ্যতা কমাতে রিভার্স রোপো (ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক) আবার চালু করা যেতে পারে। এটা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। প্রয়োজনে রোপো ও রিভার্স রোপোর সুদ ১ শতাংশ কমানো যেতে পারে।

শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক বিল দিয়ে টাকার চাহিদা বাড়বে না। এখন ব্যবসায়ীদের কেউ ব্যবসা বড় করছেন না। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকঋণের চাহিদা বাড়বে না। এভাবে চলতে থাকলে টাকা আরও সস্তা হয়ে যেতে পারে।

করোনায় প্রচুর ডলার ও বিদেশি ঋণ এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তা কিনে নিয়ে বাজারে টাকা দিয়েছে। আমানতকারীরাও ব্যাংকে বেশি টাকা জমা করছেন। প্রণোদনার জন্যও ব্যাংকগুলোকে টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে ব্যাংকের হাতে যে হারে প্রচুর টাকা জমেছে, সেভাবে ঋণ যাচ্ছে না। এ জন্য তারল্য ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও উদ্যোগ কাম্য।


মির্জা ইলিয়াস উদ্দিন আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, যমুনা ব্যাংক