অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল আছে। বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে আসছেন, দেশের ব্যবসায়ীরাও বিদেশে বিনিয়োগ করছেন, ফলে ভয়ের কিছু নেই। অপেশাদারি নিয়ে ব্যবসা করলে হবে না। ব্যবসায়ীদের দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ৬১টি পতাকাবাহী জাহাজ ছিল, এখন সেটি ৯০টি ছাড়িয়ে গেছে।’ সরকারের করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারের মূল কাজ সংকট সমাধান করে পথ দেখানো, সেই কাজটিই আমরা করছি।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পেশ করেন বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল আলী। তিনি বহির্মুখী রেমিট্যান্স, বিএসএএ কমিশন পুনর্নির্ধারণ, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং ইস্যু, বন্দর পরিচালনাসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বলেন, ‘ডলার–সংকটের কারণে প্রধান ব্যাংকগুলো এলসি খুলতে অনীহা প্রকাশ করছে। মেইন লাইন অপারেটরদের নির্দিষ্ট হারে অর্থ পাঠাতে হয়, কিন্তু ডলার–সংকটের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে তা পাঠানো যাচ্ছে না। বিভিন্ন শিপিং লাইনের ১৫ কোটি ডলারের বেশি পাওনা বকেয়া থাকায় দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু এ অর্থ পাঠাতে না পারলে সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, সামগ্রিক অর্থনীতি মন্দার শিকার হবে।’

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ বলেন, ‘শিপিং ব্যবসা যাঁরা করতে চাচ্ছেন, তাঁরা দুই বছর ধরে লাইসেন্স পাচ্ছেন না। শিপিং লাইসেন্সের যিনি মালিক, তিনি মারা গেলে তাঁর উত্তরাধিকারীদেরও সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স নিতে হবে। অর্থাৎ কোনো কারণে আমার ছেলে বা মেয়ে পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হলে দীর্ঘদিনের শিপিং ব্যবসা শেষ হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে, কিন্তু সেটা যাতে অশুভ প্রতিযোগিতা না হয়।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়াডার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট কবির আহমেদ বলেন, ‘শিপিং খাত অর্থনীতির প্রাণ। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গেলে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই আমাদের আহ্বানে সাড়া দেয় না।’ এ ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের কথা উল্লেখ করে বলেন, লাইসেন্সের বিষয়টি বড় সমস্যা, কথায় কথায় তারা লাইসেন্স নিয়ে টানাটানি করে। তিনি বলেন, শিপিং এজেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো অর্থনীতিতেই প্রভাব পড়বে।

রেমিট্যান্স আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন বা কর দিতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তাঁর মত, এটা যৌক্তিক পর্যায়ে আনা প্রয়োজন। এত বেশি হারে কর দিতে হলে অনেকেই অবৈধ পথে অর্থ পাঠাতে বাধ্য হতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চাই। সে জন্য আমাদের কনটেইনার টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বে টার্মিনাল চালু করতে হবে। কাস্টমসের কারণে ব্যবসায়ীদের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। কাস্টমস জটিলতার কারণে অনেক পণ্য ২০১৩ সাল থেকে বন্দরে পড়ে আছে। এসব জটিলতা নিরসন জরুরি।’

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দৈনিক ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম। বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহজাহান, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আইনুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নূরুল কাইয়ুম খান, গ্লোবাল টিভির সিইও ও প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, দৈনিক ইত্তেফাকের কূটনৈতিক সম্পাদক মাঈনুল আলম।