কারওয়ান বাজারে সব সময় সবজি কিছুটা কমে পাওয়া যায় উল্লেখ করে বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইমরান মাস্টার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাইকারিতে নিলে তো সবজি এখানে অনেক কম দামে মেলে। সে ক্ষেত্রে আসতে হবে ভোরের দিকে। আর দিনের শেষে রাত ৯টার দিকে এলেও অন্য বাজার থেকে কেজিতে ১০-২০ টাকা কমে সবজি পাওয়া যায়। কারণ, তখন অধিকাংশ বিক্রেতা দিনের পণ্য বেচা শেষ করে বাসায় ফিরতে চায়।’

সাধারণত কারওয়ান বাজার থেকে সবজির বাইরে, পেঁয়াজ, আলু, ডিম, মাছ-মাংসসহ মাসের বাজার একবারে করে ফেললে তাতে আপনি সস্তায় বাজারটা সারতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে পেঁয়াজ-আলুর মতো পণ্য ৫ কেজির পাল্লা কিনলে অন্য বাজারের চেয়ে কেজিতে অন্তত ৫ টাকা কমে কিনতে পারবেন। এ ছাড়া সকালে এলে কারওয়ান বাজারের রেললাইনের পাশের আড়তে সস্তায় মাছ কেনা যায়। এখানে পাইকারি দামে তাজা মাছ মেলে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ির মাছের আড়ত থেকেও সস্তায় তাজা মাছ কেনা যায়। তবে শর্ত ওই একটাই, যেতে হবে ভোরে।

মসলাজাতীয় পণ্য পচনশীল নয়। এ জন্য বেশি কিনে রাখলে ক্ষতি নেই। একটু সস্তায় মসলা কিনতে আগ-পাছ না ভেবে চলে যেতে পারেন পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে। চকবাজারের পরেই এই বাজারের অবস্থান। চকবাজারের থেকে হাঁটাপথ। আর ওখানে হেঁটেই যেতে হবে। রাস্তা সরু হওয়ার কারণে রিকশায় চড়ার মতো পরিস্থিতি থাকে না। মৌলভীবাজারে মসলার সব পদই পাওয়া যায়। এলাচি, জিরা, তেজপাতা, দারুচিনি, গোলমরিচ থেকে শুরু করে নানা জাতের বীজ ও বাদামজাতীয় সব পণ্যই রয়েছে এ বাজারে। এই বাজারে মসলার ধরনভেদে কেজিতে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমে কিনতে পারবেন।

কোনো প্রয়োজনে যদি আপনি রাজধানীর বাদামতলী এলাকায় যান, তাহলে ভুলবেন না, এখানে পাইকারি দামে সস্তায় ফল পাওয়া যায়। আমদানি করা ফল থেকে দেশীয় বিভিন্ন জাতের তাজা সব ফলই মেলে এই বাজারে। পরিমাণে একটু বেশি নিলে পাইকারি ব্যবসায়ী থেকে কিনতে পারবেন। অন্যথায় প্রায় সমান দামেই কাছের কোনো খুচরা বিক্রেতা থেকেও কিনতে পারবেন তাজা ফল। কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা সাশ্রয় হবে।

কোনো পণ্যের দাম যখন বাড়তে থাকে, তখন বড় বাজার থেকে সেটা না কিনে মহল্লার একটু অপরিচিত দোকান থেকে নিতে পারেন। তার কাছে আগের কেনা পণ্য থাকলে সে হয়তো আপনাকে কম দামেই সেই পণ্যটা দেবে। দাম বাড়লে পাইকারি বা বড় বাজারে এটার প্রভাব আগে পড়ে। আবার কমার সময় এসব বাজারে পণ্যের দাম কমেও সবার আগে। তাই খোঁজখবর রাখুন। নিত্যপণ্যের দাম প্রায় নিয়মিত ওঠানামা করে। সুতরাং প্রতিনিয়ত খবর রাখলে দাম বাড়ার আগে কমে পণ্য কিনতে পারবেন।

আবার সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) অথবা খাদ্য অধিদপ্তরের ট্রাক থেকেও প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারেন। এখন এসব পণ্য সবার জন্য উন্মুক্ত না হলেও অনেক সময় তা উন্মুক্ত করে সরকার।

এর বাইরে সুপারশপ থেকেও আপনি অনেক সময় কম দামে পণ্য পাবেন। অনেকে মনে করেন, সুপারশপগুলো হয়তো বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে। আসলে এটা সব সময় সত্য নয়। অনেক সময় সুপারশপে সাধারণ বাজার থেকেও কম দামে পণ্য পাওয়া যায়। তবে এ জন্য আপনাকে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। সাধারণত সুপারশপে পণ্যের ছাড় থাকে বিভিন্ন দিবসকেন্দ্রিক। যেমন শুক্রবারে আপনি কিছু না কিছু পণ্যে ছাড় পাবেন। সুতরাং বেশি বাজার করার আগে সুপারশপে একবার ঢুঁ মারতে ভুলবেন না।

হঠাৎ দাম বাড়লে অপেক্ষা করুন

কোনো পণ্যের দাম বেড়ে গেলে অল্প পরিমাণে কিনুন। দাম কমার জন্য অপেক্ষা করুন। যেহেতু কাঁচাবাজারে পণ্যের দাম নিয়মিত ওঠানামা করে, তাই অনেক ক্রেতার মধ্যে দাম বাড়লে বেশি পরিমাণে পণ্য কিনে রাখার প্রবণতা দেখা যায়। এতে বাজারে চাহিদা বেড়ে যায়। তাতে বিপাকে পড়েন অন্য ক্রেতারা। আপনি সচ্ছল হলেও অন্যদের কথা চিন্তা করে মূল্যবৃদ্ধির সময় কম কম কিনুন। তাতে সবার উপকার হবে।

বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায়, বর্তমানে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয় করে সংসারের হিসাব মেলাতে সাধারণ মানুষকে কতটা সংগ্রাম করতে হচ্ছে। মানুষ যে আসলেই কষ্টে আছে, তা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয় স্বীকারও করছে। তাই এখন সস্তায় বাজার করতে একটু কৌশলী হলে তাতে পকেটের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে। অন্য কোনো কাজে হয়তো ব্যয় হবে সেই অর্থ। কিংবা বাজার খরচ একটু কমলে সঞ্চয় করার সুযোগ পাবেন।