গত ১ এপ্রিল যাঁদের ঋণ নিয়মিত ছিল, তাঁরা পুরো কিস্তি না দিলেও আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত খেলাপি হবেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত বুধবার রাতে এ ব্যাপারে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে তা সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। ওই প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জাতীয় শিল্পনীতির সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘বৃহৎ শিল্প’ প্রতিষ্ঠানের যেসব মেয়াদি ঋণ গত ১ এপ্রিল পর্যন্ত নিয়মিত রয়েছে, তার বিপরীতে জুন প্রান্তিকে প্রদেয় কিস্তির ন্যূনতম ৫০ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৬০ শতাংশ এবং ডিসেম্বর প্রান্তিকে ৭৫ শতাংশ পরিশোধ করলে ওই ঋণ আর বিরূপ মানে শ্রেণীকরণ করা যাবে না। সিএমএসএমই ও কৃষি খাতের যেসব মেয়াদি ঋণ ১ এপ্রিল নিয়মিত রয়েছে, তার বিপরীতে জুন প্রান্তিকে কিস্তির ন্যূনতম ২৫ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৩০ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে ৪০ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। প্রতি প্রান্তিকের শেষ দিনের মধ্যে এসব হারে অর্থ জমা দিতে হবে। গত ১ এপ্রিল নিয়মিত তলবি প্রকৃতির ঋণ জুন থেকে ডিসেম্বর সময়ে তিনটি সমান কিস্তিতে পরিশোধ করলে কেউ আর খেলাপি হবেন না।

বন্যাকবলিত জেলা সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, জামালপুর, রংপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক চিহ্নিত বন্যাকবলিত জেলাগুলোয় কৃষিঋণের ক্ষেত্রে এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ না করলেও খেলাপি করা যাবে না। এসব এলাকার সিএমএসএমই খাতের যেসব মেয়াদি ঋণ ১ এপ্রিল নাগাদ নিয়মিত আছে, তার বিপরীতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কিস্তির ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলেও খেলাপি করা হবে না।

সিএমএসএমই খাতের যেসব চলমান ঋণের মেয়াদ ইতিমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে ও প্রচলিত নীতিমালার আওতায় নবায়ন করা হয়নি এবং ১ এপ্রিল নিয়মিত অবস্থায় রয়েছে, তার সীমাতিরিক্ত অংশ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করার শর্তে নবায়ন করতে হবে। এই ঋণের বাকি অংশ বিদ্যমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী এক বছরের মধ্যে কিস্তিতে আদায় করা যাবে। তবে এই নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে যথানিয়মে শ্রেণীকরণের আওতাভুক্ত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুবিধা পাওয়া ঋণের ওপর গত এপ্রিল থেকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের কিস্তি পরিশোধে কোনো দণ্ড সুদ বা অতিরিক্ত ফি আরোপ করা যাবে না। আর ২০১৯ সালে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্টে (এককালিন জমা) ১০ বছরের জন্য পুনঃ তফসিল করা ঋণও এই নির্দেশনার আওতায় সুবিধা নিতে পারবে। তবে এর আওতায় সুবিধা পাওয়া ঋণে আরোপিত সুদ আয় খাতে স্থানান্তর এবং নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

ঋণ পরিশোধে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, করোনার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব, পুনরায় সংক্রমণ বৃদ্ধি, দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সৃষ্ট বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালসহ বিভিন্ন উপকরণের মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এতে ঋণগ্রহীতারা কিস্তির সম্পূর্ণ অংশ পরিশোধে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর ২০২০ সাল থেকে ঋণ পরিশোধে প্রায় দুই বছরের জন্য গণহারে সুবিধা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে ওই সময়ে কেউ কোনো টাকা পরিশোধ না করলেও খেলাপি হননি। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধ না করেও খেলাপিমুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে ব্যাংকগুলো বরাবরই ঢালাও সুবিধা না দেওয়ার পক্ষে। কারণ, এতে ভালো গ্রাহকেরাও ঋণ পরিশোধ করতে ভুলে যাচ্ছেন বলে শোনা যায়।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন