পল্লি অবকাঠামো উন্নয়নে ‘সুকুক’

এ দফায় সুকুক বন্ড ছেড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা তুলেছে সরকার। যার বার্ষিক মুনাফা বা ভাড়ার হার ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক

শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি ‘সুকুক বন্ড’ ছেড়ে পল্লি অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা তুলেছে সরকার। সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল মঙ্গলবার নিলামে বন্ড বিক্রি করে এই টাকা তুলেছে। যে প্রকল্পের জন্য টাকা তোলা হয়েছে, সেটির নাম ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩–এর নির্মাণ ও উন্নয়ন’।

এ সুকুকে বিনিয়োগের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের বার্ষিক ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে ‘ভাড়া’ পরিশোধ করবে সরকার। ভাড়াভিত্তিক এ সুকুকে বছরে দুবার ভাড়া পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো এই সুকুক বন্ডকে সংবিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত (এসএলআর) হিসেবে দেখাতে পারবে।

এদিকে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলো পাঁচ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করে পাচ্ছে ৭ শতাংশ সুদ। ১৩ এপ্রিল ট্রেজারি বন্ডের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। ফলে প্রচলিত ও ইসলামি ধারার ব্যাংককে একই মেয়াদি বন্ডে দুই ধরনের সুদ বা মুনাফা দিচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে পার্থক্য ২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন ব্যাংকাররা।

ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘একসময় ইসলামি ব্যাংকগুলো সরকারের কোনো ট্রেজারি কার্যক্রমে অংশ নিতে পারত না। এখন সুকুক চালু হয়েছে। সুকুক বাজারের উন্নয়ন হলে নিশ্চয়ই একসময় প্রচলিত ব্যাংকের মতো মুনাফা পাওয়া যাবে। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায়।’

এর আগে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে গণস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পরিচালিত একটি প্রকল্পের জন্য সুকুক বন্ড ছেড়ে দুই দফায় আট হাজার কোটি টাকা তোলে সরকার। এরপর গত বছর ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প’-এর প্রথম পর্যায়ের ব্যয় মেটাতে সুকুক বন্ড ছেড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা তোলা হয়। পাঁচ বছর মেয়াদে নেওয়া এই বিনিয়োগের বিপরীতে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ ভাড়া পরিশোধ করছে সরকার। তবে এবার মুনাফা দশমিক ১০ শতাংশ হারে বাড়িয়েছে সরকার।

জানা যায়, এবার ৫ হাজার কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের ইজারা সুকুকের বিপরীতে ১২ হাজার ৩০৬ কোটি টাকার আবেদন জমা পড়ে। আনুপাতিক হারে বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে সুকুক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে ইসলামী ব্যাংক পায় ১ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকার বন্ড, শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংক পায় ৯৮৪ কোটি টাকা, আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পায় ৫৯০ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংক ও ফাস্ট৴ সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি ৩৯৩ কোটি টাকা করে ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পায় ৪৭২ কোটি টাকার বন্ড। এ ছাড়া স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক ১১৮ কোটি টাকা করে ২৩৬ কোটি টাকার সুকুক বরাদ্দ পায়। সব মিলিয়ে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো পেয়েছে ৪ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকার সমমূল্যের বন্ড।

এ ছাড়া প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামি শাখার মধ্যে এবি ব্যাংক ২০ কোটি, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ৮ কোটি, ঢাকা ব্যাংক ৫০ কোটি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১০ কোটি, এনআরবি ব্যাংক ১০ কোটি, সোনালী ব্যাংক ২৭ কোটি, ট্রাস্ট ব্যাংক ১০০ কোটি ও ইউসিবিএল পেয়েছে ২৫ কোটি টাকার বন্ড।

ব্যাংক এশিয়া তাদের কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিপরীতে পেয়েছে ৯৬ লাখ টাকা, ব্র্যাক ব্যাংকের ইউসিবি তাকওয়া গ্রোথ ফান্ড পেয়েছে ৫ কোটি টাকার বন্ড।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সরকারের এই সুকুক কার্যক্রম দেশের পল্লি অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনযাত্রার সার্বিক মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে