এ জন্য এক ব্যাংক আরেক ব্যাংকে ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাজারে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে খরচ বেড়ে গেছে উদ্যোক্তাদের। সব মিলিয়ে ব্যাংক ও বেসরকারি খাত ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি চাপে পড়ার শঙ্কায়ও রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, করোনায় যে অচলাবস্থা নেমে এসেছিল, তা থেকে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। হিমায়িত খাদ্য, পোশাক ও সুতা রপ্তানি বাড়ছে। নতুন প্রকল্পও হচ্ছে। গ্রিন কারখানাগুলো বেশি দামে পণ্য সরবরাহের আদেশ পাচ্ছে।

মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম আরও বলেন, অগ্রণী ব্যাংকের এসএমই খাতে ৯৬ শতাংশ ঋণ আদায় হচ্ছে, অন্য খাতে যা ৯০ শতাংশ। সব মিলিয়ে করোনার পর দেশের অর্থনীতি ইউটার্ন নিয়েছে। তবে কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রের সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। ফলে খরচ বাড়ছে।

করোনায় যে অচলাবস্থা নেমে এসেছিল, তা থেকে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। হিমায়িত খাদ্য, পোশাক ও সুতা রপ্তানি বাড়ছে। নতুন প্রকল্পও হচ্ছে। গ্রিন কারখানাগুলো বেশি দামে পণ্য সরবরাহের আদেশ পাচ্ছে।
মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম, এমডি, অগ্রণী ব্যাংক

গত পাঁচ বছরের ঋণের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাধারণত প্রতি মাসে গড়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণের স্থিতি বাড়ে। এটি করোনার কারণে কমে পাঁচ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে। তবে চলতি বছরে ঋণের স্থিতি আগের চেয়ে বেড়েছে। যেমন গত মে ও জুন মাসে ঋণ বাড়ে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। আর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর সময়ে ঋণ বাড়ে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে গত অক্টোবরে বেসরকারি খাতে ঋণের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। তবে এই হিসাব দিয়ে ঠিক কত ঋণ বিতরণ হয়েছে, সেই তথ্য পাওয়া যায় না। কারণ, ঋণ আদায়ের পর নতুন বিতরণ হচ্ছে, আবার ঋণের সঙ্গে সুদ যোগ হচ্ছে। সব মিলিয়ে মনে করা হয়, করোনায় যে ধাক্কা এসেছিল, তা কেটে গেছে। ফলে দেশের উদ্যোক্তারা আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন। এর ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মুনাফার চিত্রেও। পোশাক, টেক্সটাইল, ইস্পাত, ভোক্তা পণ্য, খাদ্য, প্রযুক্তি ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোরও মুনাফা বাড়ছে।

এদিকে ব্যাংক খাতে বাণিজ্যিক ঋণের পাশাপাশি ভোক্তা ঋণও বাড়তে শুরু করেছে। করোনার সময়ে বাড়ি-গাড়ি ক্রয় ও ব্যক্তিগত ঋণ যেভাবে কমে এসেছিল, এখন তা বাড়ছে। ব্যাংকগুলো ভোক্তা ঋণ বিতরণ বাড়ানোর লক্ষ্যে কর্মীদের মাঠে নামিয়েছে। তবে তারা ঋণ বিতরণে আগের চেয়ে বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বেশির ভাগ ব্যাংক ভালো প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছাড়া অন্যদের সহজেই ঋণ দিচ্ছে না।

সার্বিকভাবে ঋণ বিতরণ বাড়ছে। গত অক্টোবর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের স্থিতি বেড়ে হয়েছে ১২ লাখ ১৯ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরে ১২ লাখ ১০ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং আগস্টে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা ছিল।

যোগাযোগ করা হলে প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ও রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঋণে আমাদের ব্যাংকের ৮-৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। উদ্যোক্তারা ব্যবসা চালাতে চলতি মূলধন নিচ্ছেন। সম্প্রতি নতুন প্রকল্পও হচ্ছে। সুতা ও স্টিল খাতের উদ্যোক্তারা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াচ্ছেন। নতুন করে বিদ্যুৎ প্রকল্পও হচ্ছে। সব মিলিয়ে আগামী বছরে গিয়ে ঋণে ভালো প্রবৃদ্ধির আশা দেখা যাচ্ছে।’

হাসান ও রশীদ আরও বলেন, ভোক্তা ঋণের চাহিদা থাকলেও ব্যাংকগুলো সেভাবে দিতে পারছে না। কারণ, করোনায় অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠানের বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। তবে আগামী বছরে গিয়ে ভোক্তা ঋণেও ভালো প্রবৃদ্ধি হবে। কারণ, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালে বেসরকারি খাতের কর্মীদের সুযোগ-সুবিধাও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এদিকে ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আবার তহবিল সংগ্রহে মনোযোগ দিয়েছে অনেক ব্যাংক। তবে এখন ব্যাংকের ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। আবার ব্যক্তির মেয়াদি আমানতে সর্বনিম্ন সুদ গড় মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি। ফলে ব্যাংকগুলোর নিট আয় কত হবে, তা নির্ভর করবে তাদের দক্ষতার ওপর।