কোনো ব্যাংক তার মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ কোনো কোম্পানি বা গ্রুপকে দিতে পারবে না। এই ঋণ ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড উভয় মিলেই। এ ক্ষেত্রে ফান্ডেড বা সরাসরি ঋণ হবে ১৫ শতাংশ। আর নন-ফান্ডেড ঋণে রপ্তানি খাতের ক্ষেত্রে ১০০ টাকার ঋণকে ৫০ টাকা ও বিদ্যুৎ খাতের ক্ষেত্রে ১০০ টাকার ঋণকে ২৫ টাকা হিসাবে গণনা করতে হবে। ২০১৩ সালের অনুমোদন হওয়া ব্যাংক কোম্পানি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন করে এই নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এত দিন একটি গ্রুপ ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড মিলে একটি ব্যাংকের মূলধনের ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ ও ঋণসুবিধা পেত। এখন পাবে ২৫ শতাংশ। ৩৫ শতাংশের হিসাব হতো সুদসহ। তবে এখন থেকে শুধু গ্রুপের মোট ঋণ গণনায় ধরা হবে।

এই পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল রোববার একক গ্রাহক ও বড় ঋণের সীমার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা আগামী ১ এপ্রিল কার্যকর হবে। এর আগেই ব্যাংকগুলোকে ঋণ ও ঋণসুবিধা উল্লিখিত সীমার মধ্যে আনতে হবে।
আইনের সঙ্গে ঋণসীমার সামঞ্জস্য নেই—আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে এমন আপত্তি আসার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যাংক তার মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি ঋণ (ফান্ডেড) কোনো গ্রুপকে দিতে পারবে না, যা বড় ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হবে। আগে সুদসহ ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫ শতাংশ। ফলে একটি গ্রুপকে আগের চেয়ে আরও বেশি ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক।
আর কোন ধরনের ব্যাংক কী পরিমাণ বড় ঋণ দিতে পারবে, তা-ও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ৩ শতাংশের কম খেলাপি আছে এমন ব্যাংকগুলো তার মোট ঋণের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বড় ঋণ দিতে পারবে। তবে যাদের খেলাপি ২০ শতাংশের বেশি, তাদের ঋণের ৩০ শতাংশ হবে বড় ঋণ। আর খেলাপি ঋণ ৩-৫ শতাংশ হলে বড় ঋণ হবে ৪৬ শতাংশ, ৫-১০ শতাংশ হলে বড় ঋণ হবে ৪২ শতাংশ, ১০-১৫ শতাংশ হলে বড় ঋণ হবে ৩৮ শতাংশ আর ১৫-২০ শতাংশ হলে বড় ঋণ হবে ৩৪ শতাংশ।

পাশাপাশি গ্রুপের সংজ্ঞাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কোনো গ্রুপে কোনো ব্যক্তির ২০-৫০ শতাংশ মালিকানা বা ভোটাধিকার থাকলে তা ওই ব্যক্তির গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত হবে। কোনো ব্যক্তি কোনো গ্রুপের পর্ষদে থাকলে বা কোম্পানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর থাকলে তা ওই ব্যক্তির গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত হবে।
এ ছাড়া দুই গ্রুপ বা প্রতিষ্ঠান কী করলে এক গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত হবে, তা-ও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্য গ্রুপের ঋণে গ্যারান্টি দিলে বা খরচের ৫০ শতাংশ বহন করলে বা অন্য গ্রুপের ঋণ ব্যবহার করলে বা শোধ করলে তা এক গ্রুপ বা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত হবে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, এখন বড় গ্রুপগুলো ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেওয়ার জন্য পরিবারের বাইরে কোম্পানি ও গ্রুপ গড়ে তুলছে। তার নিয়ন্ত্রণ থাকছে বড় গ্রুপের হাতেই। এ জন্য মালিকানার পাশাপাশি ব্যবসায়িক নির্ভরতার বিষয়টি বিবেচনা করে গ্রুপের মালিকানা নির্ধারণের নতুন এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব বিবেচনায় নিয়ে ঋণ দেওয়া উচিত, তা না হলে একই মালিকের একাধিক গ্রুপের ঋণে পুরো খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যখন একটি গ্রুপ সমস্যায় পড়বে, তখন বেনামি গ্রুপটিও টিকবে না।