বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে আতাউর রহমান প্রধান টাকা উদ্ধারের কৌশলও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হলমার্কের ঘটনায় বড় ধরনের ধাক্কা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কারণে সোনালী ব্যাংকে আর কোনো বড় ধরনের ঘটনা ঘটেনি। হলমার্কের ঘটনার পর আমরা নানা রকম আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি, এটি এখনো শেষ হয়নি। আদালতের রায়ের মাধ্যমে হলমার্কের যেসব সম্পদ আছে তা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এখন চিন্তা করছি, এটি কীভাবে নিষ্পত্তি করা যায়।

আতাউর রহমান প্রধান বলেন, ‘এখন আমরা দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করছি। প্রথমত, সম্পদ বিক্রি করে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, কোনো ইকোনমিক জোন করে কাজে লাগানো যায় কি না। চলতি বছর বা আগামী বছর হলমার্কের বিষয়ে একটা নিষ্পত্তি হবে। আশা করছি, এখান থেকে তিন হাজার কোটি টাকা পাওয়া সম্ভব হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ মাসে সোনালী ব্যাংকের কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন আতাউর রহমান প্রধান। তিনি বলেন, গত বছর জানুয়ারি-মার্চে পরিচালন মুনাফা ছিল ৪৩৩ কোটি টাকা, যা চলতি বছরে একই সময়ে বেড়ে হয়েছে ৫৬৮ কোটি টাকা। তিন মাসে ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। আর আমানত বেড়েছে ৪ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। গত মার্চে আমানত বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা।

সোনালী ব্যাংকের এমডি বলেন, ‘আমাদের মোবাইল অ্যাপসে গ্রাহক এখন এক লাখ ৯৫ হাজারের বেশি। এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন সম্পাদিত হয়েছে। ৩ মাসে নতুন করে ৫৮ হাজার গ্রাহক নিবন্ধন করেছে। আর ৩ মাসে ৬৩ হাজার নতুন ডেবিট কার্ড ইস্যু হয়েছে। এতে কার্ড গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার। এখন শতাধিক এটিএম বুথ রয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে সব উপজেলায় একটি করে এটিএম বসানোর লক্ষ্য রয়েছে।’

প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুরশেদুল কবীর, নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ, মো. মজিবর রহমান, সঞ্চিয়া বিনতে আলী ও মো. কামরুজ্জামান খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে হলমার্কসহ ৫টি প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা (হোটেল শেরাটন) শাখা থেকে ঋণের নামে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। যা নিয়ে তখন বড় আলোচনা তৈরি হয়। বাতিল করা হয় সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আটক করা হয় সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা ও হলমার্কের মালিক। সেই ঘটনার বিচারকাজ এখনো চলছে।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন