default-image

বাংলাদেশে ব্যাংকগুলো প্রতিবছর গড়ে ৩০০ শাখা চালু করে আসছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস এসে নতুন শাখা খোলায় বড় বাগড়া দিয়েছে। তাই ২০২০ সালের প্রথম ১১ মাসে ব্যাংকগুলো মাত্র ৫০টি নতুন শাখা খুলতে পেরেছে। এতে দেশে গত বছরের নভেম্বরের শেষে ব্যাংকের শাখাসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬২৮।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন শাখা খোলার পরিকল্পনা থাকলেও করোনার কারণে তা করা যায়নি। সে জন্য ব্যাংকগুলো শাখা খোলার পরিবর্তে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন সেবা চালু করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে, যাতে ভোক্তারা ঘরে বসেই ব্যাংকিং কার্যক্রম সারতে পারেন। এ ছাড়া খরচ কমাতে পূর্ণাঙ্গ শাখার পরিবর্তে উপশাখা চালুর দিকেও ঝুঁকছেন তাঁরা। ফলে নতুন শাখা খোলা এবং জনবল নিয়োগ তেমন বাড়েনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল শেষে ব্যাংকগুলোর মোট শাখা ছিল ১০ হাজার ৫৭৮টি, যা ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৬২৮টি। অর্থাৎ, ১১ মাসে শাখা বেড়েছে মাত্র ৫০টি।

জানতে চাইলে ন্যাশনাল ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) এ এস এম বুলবুল বলেন, ‘করোনার কারণে শাখা খোলা কমে গেছে। তবে আমরা উপশাখা খোলা বাড়িয়ে দিয়েছি। চলতি বছরে ১০টি শাখা ও ১০০টি উপশাখা খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি করতে আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

দেশে ২০০৬ সালে শহরাঞ্চলে চারটি শাখার বিপরীতে গ্রামাঞ্চলে একটি করে শাখা খোলার নির্দেশনা ছিল। পরবর্তী সময়ে শহরে দুটির বিপরীতে গ্রামে একটি শাখা খুলতে বলা হয়। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা দেয়, শহরে একটি শাখা খোলা হলে গ্রামেও একটি খুলতে হবে। পাশাপাশি বিভাগীয়, জেলা শহরসহ সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভা এলাকায় স্থাপিত শাখাকেও শহর শাখা হিসেবে গণ্য করা শুরু হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল শেষে ব্যাংকগুলোর মোট শাখা ছিল ১০ হাজার ৫৭৮টি, যা ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৬২৮টি। অর্থাৎ, ১১ মাসে শাখা বেড়েছে মাত্র ৫০টি। অথচ আগে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩০০টির মতো নতুন শাখা খোলা হতো। ব্যাংকগুলোর মোট শাখার মধ্যে গ্রামে ৫ হাজার ৪৭৩টি ও শহরে ৫ হাজার ১৫৫টি রয়েছে।

দেশে ২০০৮ সালের শেষে ব্যাংকের শাখা ছিল ৬ হাজার ৮৮৬টি, যা ২০০৯ সালে ৭ হাজার ১৮৭টি, ২০১০ সালে ৭ হাজার ৬৫৮টি, ২০১১ সালে ৭ হাজার ৯৬১টি, ২০১২ সালে ৮ হাজার ৩২২টি, ২০১৩ সালে ৮ হাজার ৬৮৫টিতে উন্নীত হয়। ২০১৪ সালে শাখা বেড়ে হয় ৯ হাজার ৪০টি, যা ২০১৫ সালে ৯ হাজার ৩৯৭টি, ২০১৬ সালে ৯ হাজার ৬৫৪টি, ২০১৭ সালে ৯ হাজার ৯৫৫টি ও ২০১৮ সালে ১০ হাজার ২৮৬টিতে ওঠে।

২০২০ সালের নভেম্বর শেষে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২২৩ শাখা দাঁড়ায় সোনালী ব্যাংকের। এরপরই সবচেয়ে বেশি শাখা রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি)। ব্যাংকটির শাখার সংখ্যা ১ হাজার ৩৭। এ ছাড়া রূপালী ব্যাংকের শাখা ৫৭১টি, অগ্রণীর ৯৫৩টি ও জনতা ব্যাংকের ৯১২টি শাখা রয়েছে।

চলতি বছরে আমরা পাঁচটি শাখা চালু করব। অনুমোদনও পেয়েছি। এ ছাড়া ডিজিটাল মাধ্যমে আমরা সারা দেশে সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন মাহমুদ শাহ

এরপরই সবচেয়ে বেশি শাখা বেসরকারি খাতের পূবালী ব্যাংকের। সারা দেশে এটির শাখা আছে ৪৮৪টি। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) শাখা ৩৮৩টি, ইসলামী ব্যাংকের ৩৬৬টি, উত্তরা ব্যাংকের ২৪০টি, ন্যাশনাল ব্যাংকের ২০৯টি ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ১৯৬টি শাখা রয়েছে।

এদিকে চতুর্থ প্রজন্মের নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে কমিউনিটি ব্যাংকের ৯টি, সীমান্ত ব্যাংকের ১৭টি, এনআরবি গ্লোবালের ৭৮টি, মধুমতির ৪৪টি, এনআরবির ৪৬টি, পদ্মার ৫৭টি, মিডল্যান্ডের ৩৪টি, মেঘনার ৪৭টি, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৯০টি, এনআরবি কমার্শিয়ালের ৭৬টি ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের ৮২টি শাখা রয়েছে।

এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন মাহমুদ শাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘চলতি বছরে আমরা পাঁচটি শাখা চালু করব। অনুমোদনও পেয়েছি। এ ছাড়া ডিজিটাল মাধ্যমে আমরা সারা দেশে সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

বিজ্ঞাপন
ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন