ঢাকা ব্যাংকের রিটেইল ব্যবসা বিভাগের প্রধান এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ বিকাশ গ্রাহক ঢাকা ব্যাংকে সঞ্চয় শুরু করছেন। ঘরে বসে সহজেই এই সেবা মিলছে। এ জন্য গ্রাহকদের ব্যাংকে আসতে হচ্ছে না।

জানা যায়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে মাসিক সঞ্চয় সেবা নিয়ে আসে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি। এরপর সেবাটি চালু করে ঢাকা ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। সবশেষ গত মাসে বিকাশ অ্যাপে প্রথম ইসলামিক সঞ্চয় সেবা চালু করে দেশের বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংক।

বিকাশের মাধ্যমে তিন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গত অক্টোবর পর্যন্ত হিসাব খুলেছেন ৬ লাখ ৪৫ হাজার গ্রাহক। এর মধ্যে ৬৪ শতাংশ গ্রাহক সঞ্চয় করছেন ভবিষ্যতের প্রয়োজনে। আর্থিক নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয় করছেন ২৮ শতাংশ গ্রাহক। শিক্ষা খরচের জন্য সঞ্চয় করছেন ৪ শতাংশ গ্রাহক। এ ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনে সঞ্চয় করছেন আরও ৪ শতাংশ।

বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে এখন গ্রাহকেরা মাসে ৫০০, ১ হাজার, ২ হাজার ও ৩ হাজার টাকা কিস্তিতে সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ চার বছর মেয়াদে সঞ্চয় করতে পারছেন। প্রতি মাসের নির্ধারিত তারিখে সঞ্চয়ের কিস্তিও বিকাশ অ্যাপ থেকেই জমা দেওয়া যাচ্ছে। সঞ্চয়ের মেয়াদ পূরণ হওয়ার পর মুনাফাসহ সব টাকা গ্রাহকেরা তাঁদের বিকাশ হিসাবে পেয়ে যাবেন।

প্রতি মাসের নির্ধারিত তারিখে বিকাশ হিসাব থেকে সঞ্চয়ের কিস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হয়ে যাচ্ছে। তাই বিকাশে প্রয়োজনীয় অর্থ রাখার জন্য নির্ধারিত তারিখের আগে গ্রাহককে খুদে বার্তা দেওয়া হয়। গ্রাহকেরা মোট জমার পরিমাণ, সঞ্চয়ের মেয়াদ, মুনাফার পরিমাণসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য বিকাশ অ্যাপ থেকেই ‘লাইভ’ দেখতে পারছেন। সঞ্চয়ের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে মুনাফাসহ সম্পূর্ণ টাকা বিকাশ হিসাবে জমা হচ্ছে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে টাকা তুলে নিতে চাইলে পুরো মুনাফা দেওয়া হচ্ছে না।

বিকাশের প্রধান কমার্শিয়াল কর্মকর্তা আলী আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশের সবাইকে সঞ্চয়ে আগ্রহী করে তুলতে বিকাশ যৌথভাবে এই সেবা চালু করেছে। নতুন এ সেবা সঞ্চয়কে সহজ, নিরাপদ ও ঝামেলাবিহীন করেছে। আমরা আশা করি, এ সঞ্চয় মানুষের জীবনে স্বস্তির পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতি গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে।’