মধুমতি ব্যাংকের গ্রাহকের ৬৭ শতাংশ নারী
দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে এবং নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনতে নীরবে কাজ করছে নতুন প্রজন্মের মধুমতি ব্যাংক পিএলসি। প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের বাইরে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও মানসম্মত সেবার মাধ্যমে ব্যাংকটি খুব দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি পাচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের ক্ষমতায়নে ব্যাংকটি বেশ ভালো অবদান রাখছে। বর্তমানে ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে ৬৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ নারী। শুধু এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ব্যাংকটির মোট গ্রাহকের প্রায় ৭০ শতাংশই নারী, যা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ভিন্ন দৃষ্টান্ত।
ব্যাংকটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ব্যাংকটির ৫৬টি শাখা, ৬টি উপশাখা এবং ৫৪টি এটিএম ও সিআরএম বুথ কাজ করছে। বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে তারা দেশের ৩৬টি জেলার ১১৩টি উপজেলায় ৪০৫টি এজেন্ট পয়েন্টের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে। এ কার্যক্রমে থাকা ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৫৪৭টি হিসাবের প্রায় ৭০ শতাংশই নারীদের, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও নারীর ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা রাখছে। সার্বিক হিসাবে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট হিসাবসংখ্যা ৬ লাখ ৮১ হাজার ৫৪৯, যার মধ্যে ৬৬ দশমিক ৬৬ শতাংশই (৪ লাখ ৫৪ হাজার ৩৭০ জন) নারী গ্রাহকদের।
২০১৩ সালের ৪ জুন যাত্রা শুরু করে একই বছরের ৯ জুন আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স পাওয়া ব্যাংকটি আর্থিক সূচকেও ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৯১ দশমিক ৮৭ কোটি টাকায়। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৮ হাজার ১৭৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এ ঋণের সবচেয়ে বড় অংশ বা ৭৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ দেওয়া হয়েছে করপোরেট খাতে। এ ছাড়া এসএমই ও কৃষি খাতে ২৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। মানসম্মত ঋণ ব্যবস্থাপনার কারণে ২০২৫ সালে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। পাশাপাশি একই বছরে তারা ১ হাজার ৫৬১ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে। মূলধন পর্যাপ্ততার হার ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ নিয়ে ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি এবং পরিশোধিত মূলধন ৫২৫ দশমিক ৭৪ কোটি টাকা।
ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার আওতায় ২০১৯ সালে ‘গো স্মার্ট ইন্টারনেট ব্যাংকিং’ এবং ২০২৩ সালে ‘করপোরেট ইন্টারনেট ব্যাংকিং’ চালু করেছে মধুমতি ব্যাংক পিএলসি। এখন গ্রাহকেরা ‘মধুমতি বন্ধন’ অ্যাপের সাহায্যে ই-কেওয়াইসি ব্যবহার করে খুব সহজেই নতুন হিসাব খুলতে পারেন। ব্যাংকটি এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ডেবিট কার্ড, ১২ হাজার ক্রেডিট কার্ড এবং ১ হাজার প্রি–পেইড কার্ড ইস্যু করেছে। ক্যাশলেস সমাজ গড়ার লক্ষ্যে তারা ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট সেবাও চালু করেছে। গ্রাহকের আমানত ও ডিজিটাল তথ্যের সুরক্ষায় ব্যাংকটি ইতিমধ্যে আইএসও ২৭০০১ সনদ অর্জন করেছে।
ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব টেকসই অর্থায়নে বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে মধুমতি ব্যাংক পিএলসির। কার্বন নিঃসরণ কমাতে দেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব ইট নির্মাণ প্রকল্প, লিড সার্টিফায়েড গ্রিন বিল্ডিং ও কোল্ড স্টোরেজের রুফটপ সোলার প্রকল্পে তারা বড় অঙ্কের অর্থায়ন করেছে। কাগজ সাশ্রয়ে ‘গ্রিন পিন’ সেবার পাশাপাশি তরুণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ‘মধুমতি পাঠশালা’ ও ‘মধুমতি তারুণ্য’ সেবা। বর্তমানে ব্যাংকটিতে ৮৮৪ কর্মী কাজ করছেন।