ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। পাশাপাশি গ্রাহকদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আগামীকাল দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।
রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় আজও বিক্ষোভ মিছিল করেছে গ্রাহক ফোরাম। বিক্ষোভ মিছিলের আগে গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুর নবী মানিক এই মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮২ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে তাঁর ঋণ সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি এস আলমকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে হবে।
নুর নবী মানিক বলেন, যেদিন খুরশিদ আলম ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে আসবেন, সেদিন গ্রাহক ফোরাম এই টাওয়ারের সামনে উপস্থিত হবে। তাঁকে কোনোভাবেই ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না। এ ছাড়া ঋণ খেলাপি ও অভিযুক্ত কোনো পরিচালক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকতে পারবেন না।
এরপরেই দিলকুশা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রেসক্লাবের দিকে যায়।
ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এই নিয়োগ দেয়।
এরপরই সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন করে আসছেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা। তাঁদের সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বাংলাদেশ ব্যাংক মুখপাত্রের বক্তব্যের নিন্দা
আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন দাবির পাশাপাশি সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার নিন্দা জানান।
আরিফ হোসেন খান বলেছিলেন, একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যরা ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে। সড়কে আন্দোলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন আসবে না।
আন্দোলনকারীরা বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁরা গ্রাহক, গ্রাহক পরিচয়েই দাবি নিয়ে এসেছেন।