জীবনের কঠিন সময়ে চাকরিদাতাকে পাশে চান ৭৫% কর্মী: মেটলাইফের গবেষণা
আকস্মিক আর্থিক চাপ, স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা পারিবারিক সংকটের মতো জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোতে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা চান বাংলাদেশের ৭৫ শতাংশের বেশি কর্মী। মেটলাইফ বাংলাদেশের ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৫’ শীর্ষক সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
আজ মঙ্গলবার মেটলাইফ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের কর্মক্ষেত্রে এখন কেবল পেশাগত উন্নয়নই নয়, বরং মানবিক ও সহানুভূতিশীল কর্মপরিবেশের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
সংকটের সময়েই বেশি প্রত্যাশা
গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের বড় বড় সংকটময় পরিস্থিতিতেই কর্মীরা নিয়োগদাতাদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করেন। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৪৩ শতাংশ কর্মী আকস্মিক আর্থিক চাপ বা অপ্রত্যাশিত ব্যয়কে সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যখন প্রতিষ্ঠানের সমর্থন জরুরি।
প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মী মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে বড় সংকট মনে করেন। এ ছাড়া ২৪ শতাংশ কর্মী পরিবারের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব এবং ২১ শতাংশ কর্মী গুরুতর চিকিৎসাজনিত জটিলতার সময় প্রতিষ্ঠানের পাশে থাকা জরুরি বলে মনে করেন।
জরিপের একটি আকর্ষণীয় দিক হলো প্রায় ৭২ শতাংশ কর্মী বিশ্বাস করেন তাঁদের প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রতি যত্নশীল। কিন্তু মাত্র ৪২ শতাংশ কর্মী অন্যদের কাছে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ইতিবাচক সুপারিশ করতে আগ্রহী। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি কর্মীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের কাগজে-কলমে থাকা অঙ্গীকার এবং কর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধানের ইঙ্গিত দেয়।
কর্মীরা কেবল নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব সংকটের সময় দৃশ্যমান ও অর্থবহ সহায়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ ধরনের সহায়তার ক্ষেত্রে কর্মীরা কিছু বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ২৯ শতাংশ কর্মী চান নমনীয় ছুটির নীতি (ফ্লেক্সিবল লিভ পলিসি)। ২৬ শতাংশ কর্মী চান কঠিন সময়ে কাজের চাপ কমানোর সুবিধা। ২২ শতাংশ কর্মী কাজের সময়সূচির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের মধ্যে এমন মানবিক কর্মপরিবেশের চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা গেছে।
সুবিধা দিলে বাড়ে উৎপাদনশীলতা
গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা শুধু সহানুভূতির বিষয় নয়, এটি ব্যবসার প্রবৃদ্ধির সঙ্গেও জড়িত। প্রায় ৭৮ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, ভালো স্বাস্থ্য ও কল্যাণমূলক সুবিধা পেলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁদের আনুগত্য বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সহানুভূতির সঙ্গে সাড়া দেয়, তারা সহজেই কর্মীদের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা উন্নত করতে সক্ষম হয়।
জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, এখনকার কর্মীদের প্রত্যাশা হলো, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে নিয়োগদাতারা তাঁদের পাশে থাকবেন। সেটি আর্থিক চাপ, স্বাস্থ্যগত সমস্যা কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব, যা-ই হোক না কেন। কোনো প্রতিষ্ঠান যখন এমন সময়ে কর্মীদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করে, তখন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা তৈরি হয়, উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং কর্মীদের আনুগত্য আরও দৃঢ় হয়।