জানা গেছে, বর্তমান গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করার পর ন্যাশনালসহ কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ১৮ জুলাই এনবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) চিঠি দেয়। চিঠিতে এনবিএলের সার্বিক আর্থিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা মূল্যায়নের জন্য ২৪ জুলাই এক পর্যালোচনা সভায় যোগ দিতে বলা হয়। ওই সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান, নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান, এমডি ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাকে (সিএফও) উপস্থিত থাকতে বলা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই গত ২৪ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকে যান ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান পারভীন হক সিকদার, নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান নাইমুজ্জামান ভুঁইয়া, পরিচালক খলিলুর রহমান ও মোয়াজ্জেম হোসেন এবং এমডি মেহমুদ হোসেন। পরদিন ২৫ জুলাই বেলা ১১টায় ব্যাংকটির পরিচালক রন হক সিকদার ও এমডি মেহমুদ হোসেন গভর্নরের সঙ্গে সভা করেন। এতে রন হক সিকদারের সঙ্গে একজন বিদেশি পরামর্শকও যোগ দেন।

উভয় সভায় গভর্নর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক ও শীর্ষ নির্বাহীকে জানিয়ে দেন, নিয়মের মধ্যে থেকেই ব্যাংক চালাতে হবে। ইতিমধ্যে ব্যাংকটির যে খারাপ অবস্থা হয়েছে, তা সামাল দিতে তিন বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা চুক্তি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে তিন বছরে কীভাবে উন্নয়ন করা যাবে, তা উল্লেখ থাকবে। এ চুক্তিতে ব্যাংকটির সব পরিচালককে সই করতে হবে। ২০১৪ সাল থেকে ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়ে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

এ নিয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকটির এমডি প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। ন্যাশনাল ব্যাংকের সঙ্গে সভা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘একে একে ১০ ব্যাংকের সঙ্গে এ রকম সভা হবে। তবে কোন কোন ব্যাংকের সঙ্গে সভা হবে, তা জানি না।’

ঋণ বন্ধের পরও ঋণ অনুমোদন, আটকে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বড় ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের ৩ মে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি ব্যাংকটির জন্য বড় অঙ্কের ঋণ ও একক গ্রাহকের ঋণসীমা নতুনভাবে নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘কয়েকটি বড় গ্রুপের চাপে’ গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সেই নির্দেশনা অবশ্য তুলে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর আবারও বড় অনিয়ম শুরু হয়।

এরপর গত ১২ মে ন্যাশনাল ব্যাংকের ভল্টে আবার তালা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। যে কারণে ব্যাংকটি এখন বড় অঙ্কের কোনো ঋণ দিতে পারছে না। তবে এবার আগের মতো ঋণ বিতরণ একেবারেই বন্ধ করে দেয়নি, বরং কোন কোন খাতে ঋণ দিতে পারবে, তা সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে এসএমই ঋণ, কৃষিঋণ, প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় দেওয়া ঋণ, জমা থাকা স্থায়ী আমানতের বিপরীতে ঋণ, শতভাগ নগদ জমা দিয়ে ঋণপত্র (এলসি) ও অন্যান্য পরোক্ষ ঋণ (নন-ফান্ডেড) সুবিধা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপের পরও গত ২৪ মে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের ৪৬২তম সভায় অ্যাবসলিউট কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের নামে ৩০০ কোটি এবং সেন্ট্রাল ল্যান্ড অ্যান্ড বিল্ডিংস লিমিটেডের নামে ২০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়।

অ্যাবসলিউট কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের এমডি মশিউর আহমেদ। অন্য ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ রয়েছে ৪৭১ কোটি টাকা। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ফারজানা ইয়াসমিন হলেন এমডির স্ত্রী। সেন্ট্রাল ল্যান্ড অ্যান্ড বিল্ডিংস লিমিটেডের এমডি মাহমুদা রহমান ও পরিচালক রোকশানা পারভীন। ঋণের জন্য বন্ধক হিসেবে দেওয়া হয় বেক্সিমকোর ২০০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন কোম্পানির কাজের আদেশ। যখন ঋণ অনুমোদন করা হয়, তখন অন্য ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ ছিল ৪৩৮ কোটি টাকা। এই দুই গ্রাহককে বিশেষ বিবেচনায় ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে ন্যাশনাল ব্যাংক অনুমতি চাইলে তা নাকচ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন