বিভিন্ন সংস্থার সব কটি তদন্ত প্রতিবেদনেই বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির জন্য শেখ আবদুল হাইকেই দায়ী করা হয়েছিল। অথচ তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা এখনো খুঁজে পায়নি দুদক। এ নিয়ে নানা মহলে ৯ বছর ধরে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি জাতীয় সংসদে উঠেছে। আদালতও বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন। কিন্তু কিছুই হয়নি শেখ আবদুল হাইয়ের। কারণ, তাঁর খুঁটির জোর বেশ শক্ত, খুবই মজবুত।

এই ব্যাংক থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়। অথচ এই কেলেঙ্কারির নায়ক শেখ আবদুল হাই এখনো আরাম-আয়েশে বিলাসী জীবন যাপন করছেন। আর সুযোগটি করে দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তাঁর খুঁটির জোর

বেসিক ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা ১৯৮৯ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্পসচিবই পদাধিকারবলে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হতেন এবং পর্ষদের পরিচালকও নিয়োগ দেওয়া হতো বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের। নিয়মনীতি মেনে সরকারি মালিকানায় যে একটি ব্যাংক ভালোভাবে চলতে পারে, তার বড় উদাহরণ ছিল বেসিক ব্যাংক। পরিস্থিতি পাল্টে যায় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর। নীতি বদলে ব্যাংকটির পর্ষদে নিয়োগ দেওয়া হয় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের। তখন থেকে বেসিক ব্যাংকের পতনের শুরু।

শেখ আবদুল হাই আশির দশকে জাতীয় পার্টির একজন নেতা ছিলেন। ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পদ ছিল বাগেরহাট জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন।

২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) আবদুল হাইয়ের কোন ব্যাংক হিসাবে কত টাকা, কীভাবে জমা হয়, তার বিবরণও দুদককে জানিয়ে দেয়। লুটপাট হওয়া টাকার ভাগ আবদুল হাই এবং তাঁর ভাই শাহরিয়ার পান্নার ব্যাংক হিসাবে কীভাবে সরাসরি গিয়েছিল, সেই তথ্য ছিল সেখানে।

এ রকম একজনকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ তাঁর খুঁটির জোরেরই প্রমাণ। দায়িত্ব নিয়েই একের পর এক অনিয়ম ঘটান তিনি। শুরু হয় নানাভাবে বেসিক ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ। সবার চোখের সামনে সবকিছু ঘটলেও লুটপাট ঠেকাতে পারেননি কেউই। বেসিক ব্যাংকের জালিয়াতি নিয়ে আলোচনা ও লেখালেখি শুরু হয়েছিল সেই ২০১২ সাল থেকেই।

বেসিক ব্যাংক থেকে যাঁরা জনগণের টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনতে হবে। যাঁরা ব্যাংকের টাকা, জনগণের টাকা লুটপাট, আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন, তাঁরা জাতির শত্রু। অর্থ লুটপাট ও আত্মসাতের মামলা দ্রুত ও সামারি ট্রায়াল (সংক্ষিপ্ত বিচার) হওয়া উচিত। যাঁরা জনগণের টাকা আত্মসাৎ করেন, তাঁদের শুটডাউনের মতো শাস্তি হওয়া উচিত। আর বেশ কয়েক বছর হয়ে গেলেও বেসিক ব্যাংকের কোনো মামলায় এখনো অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়ার কারণ কী? তদন্ত কি অনন্তকাল ধরে চলবে?
দুদকের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত

এ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে চিঠি-চালাচালির সময়েই চেয়ারম্যান হিসেবে শেখ আবদুল হাইকে মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছিল। সে সময়ে বেসিক ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন সরকারেরই সাবেক একজন যুগ্ম সচিব এ কে এম রেজাউর রহমান। ২০১৩ সালের ১১ জুলাই তিনি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে দেওয়া একটি চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘একজন ছাড়া অন্য কাউকে পরোয়া করেন না তিনি।’

২০১৩ সালের আগস্ট মাসে বেসিক ব্যাংকের অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠি দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়কে। চিঠিতে বলা ছিল, ‘ব্যাংকের ঋণ শৃঙ্খলা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। প্রধান কার্যালয়ের ঋণ যাচাই কমিটি বিরোধিতা করলেও বেসিক ব্যাংকের পর্ষদ ঋণ অনুমোদন করে দেয়। ৪০টি দেশীয় তফসিলি ব্যাংকের কোনোটির ক্ষেত্রেই পর্ষদ কর্তৃক এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় না। এর সব দায়িত্ব পরিচালনা পর্ষদের।’

এরপরও অর্থ মন্ত্রণালয় ছিল নিশ্চুপ। এরপর ২০১৪ সালের ২৯ মে বাংলাদেশ ব্যাংক বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে সুপারিশ করে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে শেখ আবদুল হাই ২০১৪ সালের ৬ জুলাই, শুক্রবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বাসায় গিয়ে পদত্যাগপত্র দিয়ে আসেন। অর্থাৎ আবদুল হাইকে সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগের সুযোগ করে দেওয়া হয় তখন। এ কারণে শেখ আবদুল হাইকে কোনোভাবেই অপসারিত চেয়ারম্যান বলা যাবে না।

শুরুতে বেসিক ব্যাংকের বিষয়ে নমনীয় থাকলেও পরে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আবদুল হাইকে নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। ২০১৫ সালের ৮ জুলাই এ নিয়ে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘যতই ক্ষমতাশালী হোক না কেন, বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে আইনের আওতায় আনা হবে।তাঁর ব্যাংক-বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অনেক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এখন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনো সমস্যা হবে না।’ কিন্তু অর্থমন্ত্রী কথা রাখতে পারেননি। পরে অবশ্য জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘জালিয়াতদের ধরতে বাধা নিজের দলের লোক।’

অথচ দুদক কিছু খুঁজে পায় না

প্রথম থেকেই সবার চোখের সামনেই শেখ আবদুল হাই ব্যাংকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি শুরু করেছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১২ সালে শান্তিনগর, গুলশান ও দিলকুশা শাখা পরিদর্শন শেষে অনিয়মের বিবরণসহ একটি প্রতিবেদন পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) আবদুল হাইয়ের কোন ব্যাংক হিসাবে কত টাকা, কীভাবে জমা হয়, তার বিবরণও দুদককে জানিয়ে দেয়। লুটপাট হওয়া টাকার ভাগ আবদুল হাই এবং তাঁর ভাই শাহরিয়ার পান্নার ব্যাংক হিসাবে কীভাবে সরাসরি গিয়েছিল, সেই তথ্য ছিল সেখানে।

বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকার সময়েই শেখ আবদুল হাই ১১০ কোটি টাকা দিয়ে ঢাকায় সেনানিবাসে দেড় বিঘা জমির ওপর একটি বাড়ি কিনেছিলেন। এত বড় বাড়ি কেনার অর্থ আবদুল হাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কীভাবে এসেছিল, তারও বিবরণ বিএফআইইউ পাঠিয়েছিল দুদককে। শেখ আবদুল হাই একক কর্তৃত্বে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিলেন, সেই ঋণের একটি বড় অংশ ঘুষ হিসেবে নেন তিনি। সেই টাকায় বাড়ি কেনা হয়।

বেসিক ব্যাংকের প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদক ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৫৬টি মামলা করেছিল। মামলায় শতাধিক আসামি থাকলেও শেখ আবদুল হাইয়ের নাম ছিল না।

সেই মামলার কারণে ব্যাংকটির শান্তিনগর শাখার সাবেক ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী চৌধুরী এখনো জেলে আছেন। তাঁর জামিন বিষয়ে গত বছরের মার্চে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রায় দিয়েছিলেন।

বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকার সময়েই শেখ আবদুল হাই ১১০ কোটি টাকা দিয়ে ঢাকায় সেনানিবাসে দেড় বিঘা জমির ওপর একটি বাড়ি কিনেছিলেন। এত বড় বাড়ি কেনার অর্থ আবদুল হাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কীভাবে এসেছিল, তারও বিবরণ বিএফআইইউ পাঠিয়েছিল দুদককে।

সেই রায়ে আদালত বলেছিলেন, ‘প্রায় ছয় বছর অতিক্রান্ত হলেও কমিশন মামলার তদন্ত শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছে। কমিশনের হলফনামা থেকে দেখা যায়, কমিশন “ফলো দ্য মানি” অর্থাৎ টাকার গতিপথ শনাক্ত করতে পারেনি বলে তদন্তকাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেছে। কমিশনের এমন বক্তব্য আদালতের কাছে বিভ্রান্তিকর মনে হয়েছে। কারণ, বর্তমান মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার অধীন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগে করা হয়েছে।

এ মামলায় তদন্তের মূল বিষয়বস্তু হওয়া উচিত, সরকারি কর্মচারী অথবা ব্যাংকার হিসেবে আসামিদের মাধ্যমে “অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ” এবং “অপরাধমূলক অসদাচরণ” সংঘটিত হয়েছে কি না। সুচিন্তিত অভিমত এই যে ওই অপরাধগুলো প্রমাণে “ফলো দ্য মানি”, অর্থাৎ “আত্মসাৎকৃত অর্থের গতিপথ শনাক্তকরণ” আদৌ কোনো অপরিহার্য বা বাধ্যতামূলক শর্ত হতে পারে না।

মামলাটি মানি লন্ডারিং আইনের অধীন নয় যে অর্থের গতিপথ নির্ধারণ অপরিহার্য বা বাধ্যতামূলক। …আলোচ্য মামলা তদন্তে ফলো দ্য মানি নীতি অনুসরণ করার দাবি করে মূলত তদন্তকে অহেতুক প্রলম্বিত করে আসামিদের রক্ষা করার একধরনের চেষ্টা কি না, সে প্রশ্নের উদ্ভব হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক।’

লুটপাটকারীদের গুলি করবে কে?

শান্তিনগর শাখার সাবেক ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর জামিন প্রশ্নে ৮ নভেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রুল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দুদকের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলেছেন, ‘বেসিক ব্যাংক থেকে যাঁরা জনগণের টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনতে হবে। যাঁরা ব্যাংকের টাকা, জনগণের টাকা লুটপাট, আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন, তাঁরা জাতির শত্রু। অর্থ লুটপাট ও আত্মসাতের মামলা দ্রুত ও সামারি ট্রায়াল (সংক্ষিপ্ত বিচার) হওয়া উচিত। যাঁরা জনগণের টাকা আত্মসাৎ করেন, তাঁদের শুটডাউনের মতো শাস্তি হওয়া উচিত। আর বেশ কয়েক বছর হয়ে গেলেও বেসিক ব্যাংকের কোনো মামলায় এখনো অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়ার কারণ কী? তদন্ত কি অনন্তকাল ধরে চলবে?’

সন্দেহ নেই বেসিক ব্যাংকের তদন্ত দুদক অনন্তকাল ধরেই চালাবে। কারণ, পৃষ্ঠপোষকতা বা রাজনৈতিক সমর্থন থাকলে আদালতের ভাষায় ‘সামারি ট্রায়াল’ বা ‘শুটআউট’ তো দূরের কথা, অভিযুক্তই হতে হয় না। সুতরাং শেখ আবদুল হাইকে ধরার সাধ্য আসলে কারও নেই।

খেলাপিবান্ধব সরকার

অর্থ আত্মসাৎ, ঋণখেলাপি এবং লুটপাটে সহায়তাকারীদের কঠোর শাস্তি দেয় চীন ও ভিয়েতনাম। ব্যাংক থেকে প্রায় ১১ কোটি ডলার আত্মসাতের জন্য ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে হেংফেং ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াং শিউয়ানকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিল চীনের আদালত।

একইভাবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ব্যাংক অব ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াং চেঙ্গলিন, ২০১০ সালে চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ওয়াং ই এবং ২০০৫ সালে ব্যাংক অব চায়না-হংকংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান লিউ জিনবাওকে অর্থ আত্মসাতের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ভিয়েতনাম ২০১৪ সালে তিনজন ব্যাংকারকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন রাষ্ট্রমালিকানাধীন ভিয়েতনাম ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা। তাঁর কারণে ব্যাংকের ক্ষতি ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। চীনে ঋণখেলাপিরা ক্রেডিট কার্ডও ব্যবহার করতে পারেন না, বিমানের টিকিট তাঁদের কাছে বিক্রি করা হয় না, তাঁরা কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীও থাকতে পারেন না।

আর বাংলাদেশে ঘটে উল্টো। এখানে খেলাপিদের দেওয়া হয় নানা ধরনের সুবিধা। এ কারণেই প্রয়াত ব্যাংকার খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ সরকারকে বলতেন ‘খেলাপিবান্ধব সরকার’। শুরু থেকেই খেলাপিবান্ধব পরিবেশের কারণে দেশে হয়েছে একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারি, বেড়েছে খেলাপি ঋণ।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় দেশে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। সেই খেলাপি ঋণ এখন ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বাস্তবে খেলাপি ঋণ দ্বিগুণের বেশি। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ছাড়াও গত ১৪ বছরে নানা ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে আত্মসাৎ করা হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ।

আর কত টাকা পাচার হয়েছে, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যানই নেই। যদিও ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি বলছে, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে গড়ে ৬৪ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়।

সব মিলিয়ে অর্থ লুটপাটের জন্য রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কোনো শাস্তিই এখানে হয় না। চুনোপুঁটিদের কেবল জেলে থাকতে হয়। অন্যরা থাকেন বহাল তবিয়তে, আরও বেশি প্রভাবশালী হয়ে। ফলে আদালত যা-ই বলুন না কেন, শেখ আবদুল হাইয়ের মতো যাঁরা আছেন, তাঁদের চিন্তিত হওয়ার আসলে কিছু নেই।