মূল্যস্ফীতি কমাতে সবার সহযোগিতা চাইলেন অর্থ উপদেষ্টা

আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’-এর সপ্তম সংস্করণ প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমানসহ অন্য অতিথিরাছবি-প্রথম আলো

শুধু নীতি সুদহার দিয়ে মূল্যস্ফীতি কমবে না। মূল্যস্ফীতি কমাতে বড় ভূমিকা রাখে সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা। আমরা নানা চেষ্টার পর মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন তথ্য নিয়ে গবেষণাগ্রন্থ ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’-এর সপ্তম সংস্করণ প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রকাশনাটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সুদহারের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সুদহার কমানো সহজ নয়। ট্রেজারি বিলের সুদহার কমেছে। এর প্রভাব সুদহারে পড়বে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে এসেছে। দেশের উন্নয়ন কারও একক কৃতিত্ব নয়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন সব সময় পুঞ্জীভূত। এটা ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলাফল।

একই অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ব্যাংকিং অ্যালমানাক গ্রন্থের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অনেকে জানতে চায় বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন চলছে। আমরা বলি, অর্থনীতি ভঙ্গুর থেকে জোড়া লাগানো ও শক্তিশালীর দিকে গেছে। তবে এখন মোটামুটি চলছে, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিতে নিতে হবে। দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির মাধ্যমে অনেক দেশ এগিয়ে গেছে। এ জন্য পরবর্তী সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

হোসেন জিল্লুর রহমান আরও বলেন, অর্থনীতির চাকা ঘুরায় উদ্যোক্তারা। শুধু বড় উদ্যোক্তা নয়, গ্রামের কৃষকেরা এতে বড় ভূমিকা রাখে। তাদের আস্থা বড় একটা বিষয়। এই বিষয়ে পরবর্তী সরকারকে কাজ করতে হবে। মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বাড়াতে কাজ করতে হবে। এতে বড় বিষয় মূল্যস্ফীতি। এতে নীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা কী হবে, এটা গুরুত্বপূর্ণ।

হোসেন জিল্লুর রহমান আরও বলেন, অর্থনীতির পাশাপাশি সব খাতে তথ্যের সত্যতা বড় বিষয়। অর্থনীতি ব্যবস্থাপনা করতে আমাদের সঠিক তথ্য ও পেশাদারি থাকতে হবে। কী নীতি নেওয়া হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর মানুষ অনেক সচেতন হয়ে গেছে। সবাই সবকিছুতে নজর রাখছে। এ জন্য তদারকি জোরদারের পাশাপাশি পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, সুদহার কেন বাড়ছে তা বুঝতে পারছি না। ভালো ব্যাংকগুলোতে অনেক অতিরিক্ত তহবিল আছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় দেশে ব্যাংক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সমস্যা হচ্ছে ৬-৭টা ব্যাংকের টাকা বাইরে পাচার হয়ে গেছে। এ জন্য সুদহার কমছে না। আমরা তহবিল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুদহার কমিয়ে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, আমাদের অর্থনীতি পুরোটাই ব্যাংকনির্ভর, এ জন্য ব্যাংকের ওপর চাপ বেশি। এই প্রকাশনায় সুপারিশ বা করণীয় থাকলে সবার জন্য ভালো হতো।

অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ব্যাংক খাতে অনেক সমস্যা হয়েছে। কিছু ব্যাংক ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যারা পারেনি তাদের একীভূত করা হচ্ছে। কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আর্থিক খাত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব-উর রহমান, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, ব্যাংকিং অ্যালমানাকের প্রকল্প পরিচালক ও সাপ্তাহিক শিক্ষা বিচিত্রার সম্পাদক আবদার রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান, এমডিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে ব্যাংকিং অ্যালমানাক’ সপ্তম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।