ইসলামী ব্যাংকের এমডি চাইলেন ১৫ দিনের ছুটি, দেওয়া হলো ৪৯ দিন

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি

ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খান ১৫ দিনের শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি চেয়ে আবেদন করেছিলেন; কিন্তু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ তাঁকে ৪৯ দিন ছুটি দিয়েছে।

এদিকে ব্যাংকটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) মো. আলতাফ হোসেনকে এমডির চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে এমডিকে দীর্ঘ ছুটিতে পাঠানো নিয়ে ব্যাংক খাতে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, ২৮ এপ্রিল থেকে ১৫ দিনের ছুটি চেয়ে আবেদন করেছিলেন ওমর ফারুক। বিষয়টি আজ রোববার ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে উত্থাপিত হয়। তখন পর্ষদ জানিয়ে দেয়, আগামীকাল সোমবার থেকে ৩১ মে পর্যন্ত তাঁর ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পর এএমডি আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত এমডি করে পর্ষদ।

মো. ওমর ফারুক খান ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে মে মাসে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা চাকরি হারান। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। ওমর ফারুক প্রথমে এমডির চলতি দায়িত্ব পান। তিনি ১৯৮৬ সালে ইসলামী ব্যাংকে যোগ দিয়ে ব্যাংকিং কর্মজীবন শুরু করেন। বিগত সরকারের সময়ে ডিএমডি থাকাবস্থায় তাঁকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হয়। এরপর তিনি এনআরবি ব্যাংকের অতিরিক্ত এমডি হিসেবে যোগ দেন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে আবদুল জলিল নামের একজন পরিচালককে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি ব্যাংকটির পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে একমাত্র জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁকে সরিয়ে এস এম আবদুল হামিদ নামের আরেকজনকে পরিচালক করা হয়েছে। এ অবস্থায় এমডি ওমর ফারুককে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২২ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে তা পুনর্গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে অনেক বছর ব্যাংকটি জামায়াতপন্থী লোকজন এবং কয়েকটি মুসলিম দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। তবে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় ব্যবসায়ী এস আলম ব্যাংকটির কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন।