ক্রেডিট কার্ডে ৪৮ শতাংশ লেনদেনই হয় বিপণিবিতানে

  • আগস্টে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৮৯ কোটি টাকা।

  • দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে।

  • বিদেশে বাংলাদেশিরা খরচ করেছেন প্রায় ৯৮৭ কোটি টাকা।

ক্রেডিট কার্ডপ্রতীকী ছবি: ফ্রিপিক

দেশে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন বেড়েছে। গত আগস্টে ক্রেডিট কার্ডে মোট ৪ হাজার ৮৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গত বছরের একই মাসের চেয়ে ৯৪৫ কোটি টাকা বা ৩০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের আগস্টে এ লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা।

তবে আগের মাস জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে লেনদেন ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নগদ টাকার পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের প্রবণতা বাড়ছে। ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহারও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

আগস্টে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা খরচ হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোর বা বিপণিবিতানে, যা দেশে মোট লেনদেনের ৪৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। জুলাইয়ে এ খাতে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ৫০ দশমিক ৩১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, আগস্টে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে মোট খরচের ৯৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়েছে পণ্য ও সেবা কেনায়। নগদ টাকা উত্তোলনে খরচ হয়েছে ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা, ব্যাংকের প্রচারমূলক সুবিধা এবং বিপণিবিতানে কার্ড গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধির কারণে এ খাতে কার্ডের ব্যবহার বেশি হচ্ছে।

আগস্টে বাংলাদেশে ইস্যু করা ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে বিদেশে প্রায় ৯৮৭ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন বাংলাদেশিরা। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে ৫০৫ কোটি, ডেবিট কার্ডে ৪২২ কোটি এবং প্রিপেইড কার্ডে ৬০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট বিদেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যয়ের ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে। এরপর থাইল্যান্ডে ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ভারতে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ খরচ হয়েছে।

অন্যদিকে বিদেশে ইস্যু করা কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে আগস্টে ২৪৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা জুলাইয়ের ২৩৪ কোটি টাকার চেয়ে ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষে ৪৭টি তফসিলি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা ছিল মোট ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। আর কার্ডধারীদের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরে দেশে ইস্যু করা ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৯৬ শতাংশ। একই সময়ে এসব কার্ডে লেনদেনের মোট আর্থিক পরিমাণ বেড়েছে ১০৩ শতাংশ।