চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে প্রবাসী আয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। প্রবাসী আয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক; আর কৃষি ব্যাংক গত কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। এই দুটি ব্যাংক গত অর্থবছর শেষেও প্রবাসী আয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও সেই শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে ব্যাংক দুটি।
প্রবাসী আয়–সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের তথ্যের ভিত্তিতে দেশে প্রবাসী আয় আনার ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকা তৈরি করেছে প্রথম আলো। তাতে দেখা যায়, তালিকায় ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পরের অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে রাষ্ট্রমালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের ট্রাস্ট ব্যাংক। এ ছাড়া ষষ্ঠ থেকে দশম অবস্থানে ছিল যথাক্রমে ডাচ্–বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী আয় আহরণকারী দেশের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের মধ্যে ২টি সরকারি মালিকানাধীন আর বাকি ৮টি বেসরকারি খাতের ব্যাংক। এই ১০ ব্যাংক মিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে প্রবাসী আয় এনেছে প্রায় ৫৮৮ কোটি মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৮৫৯ কোটি ডলার। সেই হিসাবে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে যে প্রবাসী আয় এসেছে, তার দুই–তৃতীয়াংশের বেশি বা ৬৮ শতাংশই এসেছে ১০ ব্যাংকের মাধ্যমে।
এবার জেনে নিন চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের কারা কত প্রবাসী আয় দেশে আনল। সেই সঙ্গে কার অবস্থান কোথায়।
তালিকায় নতুন যেগুলো
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে নতুন দুটি ব্যাংক জায়গা করে নিয়েছে শীর্ষ দশের তালিকায়। নতুন যুক্ত হওয়া ব্যাংক দুটি হলো ঢাকা ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। এই দুটি ব্যাংক নতুন করে তালিকায় জায়গা করে নেওয়ায় গত অর্থবছর শেষের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে দুটি। বাদ পড়া ব্যাংক দুটি হলো রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।
গত অর্থবছর শেষে যে ১০টি ব্যাংক সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় দেশে এনেছিল, সেই তালিকায়ও শীর্ষে ছিল ইসলামী ব্যাংক। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল কৃষি ব্যাংক, তৃতীয় অবস্থানে ব্র্যাক ব্যাংক, চতুর্থ অবস্থানে ট্রাস্ট ব্যাংক, পঞ্চম অগ্রণী ব্যাংক; আর ষষ্ঠ থেকে দশম অবস্থানে ছিল যথাক্রমে জনতা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্–বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। সেই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এসে শীর্ষ দশের তালিকায় কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থানের বদল হয়েছে। গত অর্থবছর শেষে চতুর্থ অবস্থানে ছিল ট্রাস্ট ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিক শেষে ব্যাংকটি পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে ট্রাস্ট ব্যাংকের এই অবস্থান বদল হয়েছে। গত অর্থবছর শেষে ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা জনতা ব্যাংক এবারের তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছে; আর তাতে গত অর্থবছরের অষ্টম অবস্থান থেকে ষষ্ঠ অবস্থানে উঠে এসেছে ডাচ্–বাংলা ব্যাংক। সিটি ব্যাংকের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি, রয়েছে সপ্তম অবস্থানে। আর গত বছর শেষের নবম অবস্থান থেকে এবার দশম অবস্থানে রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক।
এবার জেনে নিন গত অর্থবছর শেষে প্রবাসী আয় আহরণে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় কারা ছিল। সেই সঙ্গে কার অবস্থান কোথায়।
গত অর্থবছর শেষে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছিল ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার। যার মধ্যে উল্লিখিত ১০ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছিল মোট প্রবাসী আয়ের দুই–তৃতীয়াংশের বেশি বা ৭১ শতাংশ।