মেয়াদপূর্তির আগেই ১,৭১৬ কোটি টাকার বন্ড কিনে নিল সরকার

অর্থ মন্ত্রণালয়ছবি: প্রথম আলো

সরকারের তারল্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে মেয়াদপূর্তির আগেই বিক্রি করা বন্ড আবার কিনে নিয়েছে সরকার। প্রথমবারের মতো সরকার ট্রেজারি বন্ড মেয়াদপূর্তির আগে পুনঃক্রয় করল। এর মাধ্যমে সেকেন্ডারি বাজারে সরকারের বিল–বন্ডের ক্রয়–বিক্রয়ের পথ আরও সুগম করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ বৃহস্পতিবার সরকার মেয়াদপূর্তির আগে দুই বছর মেয়াদি ১ হাজার ৭১৬ কোটি টাকার ট্রেজারি বন্ড কিনে নিয়েছে। বাইব্যাক নিলামের মাধ্যমে এসব বন্ড কেনা হয় বন্ডের ক্রেতা বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকের কাছ থেকে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর ইস্যু করা দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ওপর এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে মোট ৫৬টি আগ্রহপত্রের বিপরীতে ২ হাজার ১৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে নিলাম কমিটির নির্ধারিত দরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ১ হাজার ৭১৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, বিক্রি করা বন্ড মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে পুনরায় কিনে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে বাইব্যাক বলা হয়। সরকার প্রথমবারের মতো এই বাইব্যাক করেছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকও জানিয়েছে, সিকিউরিটিজ বাজারে এ ধরনের বাইব্যাক নিলামের আয়োজন এবারই প্রথম। এর মাধ্যমে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন ও বাজারভিত্তিক পদ্ধতির সংযোজন হলো। এ উদ্যোগের ফলে সরকারি ঋণের মেয়াদ কাঠামো আরও সুষম হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা বাড়বে এবং ঋণের খরচ ও ঝুঁকি আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে। সামগ্রিকভাবে এ প্রক্রিয়া সরকারের দায় ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও আরও শক্তিশালী করবে। ভবিষ্যতেও বাজার পরিস্থিতি, তারল্য, বিনিয়োগকারীদের চাহিদা এবং সরকারের ঋণের কাঠামো বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আবারও বাইব্যাক নিলাম আয়োজন করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত এসব বন্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা পরিশোধ করা হয়। তবে এবার মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগেই সেই বন্ড কিনে নেওয়া হয়েছে। ফলে সরকারকে ওই এক মাসের সুদ পরিশোধ করতে হবে না। এতে সরকরের খরচ কমবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে প্রথমবারের মতো সরকারি সিকিউরিটিজ পুনঃক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। অর্থ বিভাগের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক এ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি ঋণের মেয়াদপূর্তিতে এককালীন অর্থ পরিশোধের চাপ হ্রাস, পুনঃ অর্থায়ন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ঋণ পরিশোধের সময়সূচি অধিকতর সুষমকরণ এবং সরকারি সিকিউরিটিজ বাজারের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এটি সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনাকে অধিকতর সক্রিয়, আধুনিক ও বাজারভিত্তিক করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।