সব ব্যাংকের এমডিদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকে গতকাল অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এমন বার্তা দেন গভর্নর। এ পদে যোগ দিয়ে ব্যাংকারদের সঙ্গে এটাই ছিল আব্দুর রউফ তালুকদারের প্রথম সভা। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব ডেপুটি গভর্নর, প্রধান অর্থনীতিবিদসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর জানিয়েছেন, কোনো ব্যাংক নিয়ম না মেনে চললে খেসারত দিতে হবে। অনিয়ম হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমি মনে করি, এর মাধ্যমে এ খাতে সংস্কার শুরু হয়েছে।
সেলিম আর এফ হোসেন, এবিবি চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি

বাংলাদেশ ব্যাংক ১৮ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে আড়াই থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ অর্থ জমা দিলেই চলবে, আগে যা ছিল ১০ থেকে ৩০ শতাংশ। পাশাপাশি এসব ঋণ পাঁচ থেকে আট বছরে পরিশোধ করা যাবে। আগে এসব ঋণ শোধ করতে সর্বোচ্চ দুই বছর সময় দেওয়া হতো। পাশাপাশি খেলাপি ঋণে কী সুবিধা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করার পুরো ক্ষমতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ওই প্রজ্ঞাপনে। আগে বিশেষ সুবিধায় ঋণ নিয়মিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগত।

সভা সূত্র জানায়, সভার শুরুতে এ নীতিমালার প্রশংসা করেন ব্যাংকের এমডিরা। কয়েকজন এমডি নীতিমালাটিকে যুগান্তকারী, প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী বলে আখ্যা দেন।

সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, সবাই নতুন নীতিমালার প্রশংসা করেছেন। এর বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিদর্শন করবে। এতে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে ছাড় দেওয়া হবে না। আগে ঋণ পুনঃ তফসিল করতে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ফাইল আসত। এখন ঋণ পুনঃ তফসিল করবে ব্যাংক, অনিয়ম হলে দায়িত্ব নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে। গভর্নর বলেছেন, ব্যাংকাররা নিয়মের মধ্যে থাকলে সহায়তা করা হবে।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনটি সময়োপযোগী। এতে খেলাপি ঋণ কমে আসবে, ব্যাংক স্বাভাবিক গতি পাবে এবং ব্যাংকারদের দায়িত্ব বাড়বে।

গতকালের সভায় ডলার–সংকটের বিষয়ে কয়েকজন এমডি বলেন, ৯৪ টাকায় দর বেঁধে রেখে লাভ নেই, বাস্তব ১০৪ টাকায় যেতে হবে। আন্তব্যাংকে ডলার কেনাবেচা চালু করতে হবে এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। সাইট ঋণপত্র বন্ধ করে বিলম্বে ঋণপত্র খুলতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসপণ্য আমদানি বন্ধ করতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাংক হিসাব খুলতে দিতে হবে। তাহলে ভালো পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা দেশে আসবে।

সভায় গভর্নর বলেন, ডলার–সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সামনে আরও সিদ্ধান্ত হবে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে পাসপোর্ট যাচাই করে ব্যাংক হিসাব খোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভা শেষে ডলার–সংকট নিয়ে সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ১৫০ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় দেশে আসছে না। আবার ৯০০ কোটি ডলার আমদানি দায় সমন্বয় হচ্ছে না। এসব দ্রুত ঠিক করতে বলা হয়েছে। যাদের প্রকৃতপক্ষে সহায়তা প্রয়োজন, তাদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন গভর্নর।

সভা শেষে এবিবি চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গভর্নর জানিয়েছেন, কোনো ব্যাংক নিয়ম না মেনে চললে খেসারত দিতে হবে। অনিয়ম হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমি মনে করি, এর মাধ্যমে এ খাতে সংস্কার শুরু হয়েছে। ডলার নিয়ে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাতে বাজার স্বাভাবিক হবে। এ জন্য দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। পাশাপাশি তেল ও গমের দাম কমছে। এতে আমদানি চাপ কমবে।’

আর সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এবিবির সাধারণ সম্পাদক মাসরুর আরেফিন বলেন, ঋণ পুনঃ তফসিলের নতুন প্রজ্ঞাপনটি প্রমাণ করবে কোন ব্যাংকের কতটা সুশাসন আছে। এখন কোন গ্রাহক কতটা সুবিধা পাবে, তা নিরূপণের দায়িত্ব ব্যাংকের। সভায় বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য সুপারিশ এসেছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে এবং পাসপোর্ট যাচাই করে ওই হিসাব খোলার সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন গভর্নর।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন