পরিবেশবান্ধব কারখানা করতে ৫% সুদে ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানাফাইল ছবি: প্রথম আলো

দেশে পরিবেশবান্ধব শিল্পকারখানা তৈরি এবং এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে এক হাজার কোটি টাকার একটি নতুন আবর্তনশীল পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের আওতায় উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে মেয়াদি ঋণ নিতে পারবেন।

আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সাসটেইনেবল ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্ট’ থেকে এ–সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনাটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ডেলটা প্ল্যান ২১০০, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ও জাতীয় টেকসই অর্থায়ন নীতিমালার সঙ্গে সংগতি রেখে দেশের শিল্প খাতকে পরিবেশবান্ধব করার উদ্দেশ্যে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে।

সুদের হার কত ও শর্ত কী

নতুন এই ‘গ্রিন তহবিলের’ আওতায় সুদ ও মেয়াদের ক্ষেত্রে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই তহবিলের আওতায় পরিবেশবান্ধব কারখানা বা ভবন নির্মাণের জন্য ঋণ নিলে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৫ শতাংশ। গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো লুকানো খরচ বা ফি নেওয়া যাবে না। অন্যদিকে, ব্যাংক ও ফিন্যান্স কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাত্র ২ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে অর্থ নিতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই ঋণের মেয়াদ হবে ৩ থেকে ১০ বছর। ব্যবসা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা কিস্তি পরিশোধের সাময়িক ছাড় পাবেন। কোনো একক উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান এই তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।

কারা ঋণ পাবেন, কারা পাবেন না

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব শিল্প তৈরি ও পরিবেশবান্ধব কারখানা ভবন নির্মাণের জন্য শুধু ‘মেয়াদি ঋণ’ হিসেবে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে ঋণখেলাপি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই তহবিল থেকে কোনো ঋণ পাবেন না। ব্যাংকগুলোকে আবেদনের আগে গ্রাহকের হালনাগাদ সিআইবি রিপোর্ট যাচাই করতে হবে।

প্রকল্পের মোট খরচের বিপরীতে ঋণ ও মূলধনের অনুপাত ন্যূনতম ৭০:৩০ হতে হবে। অর্থাৎ প্রকল্পের মোট দায়ের অন্তত ৩০ শতাংশ উদ্যোক্তার নিজস্ব মূলধন থাকতে হবে। এই ঋণের আবেদন করার আগে আন্তর্জাতিক ও দেশিভাবে স্বীকৃত গ্রিন রেটিং সংস্থা থেকে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের সার্টিফিকেট বা প্রি–সার্টিফিকেট নিতে হবে।

যোগ্যতা ও তদারকি

সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও ফিন্যান্স কোম্পানি নতুন এ তহবিলের আওতায় ঋণ দিতে পারলেও বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য আলাদা নিয়ম রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেসব বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের কম, কেবল তারাই এই তহবিল থেকে টাকা নিয়ে ঋণ দিতে পারবে। তবে ভালো কার্যক্রম বিবেচনায় বিশেষ ক্ষেত্রে এই সীমা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শিথিল করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণসুবিধা দিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফিন্যান্স বিভাগের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি সই করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ঋণের টাকা সঠিক খাতে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে বাংলাদেশ ব্যাংক যেকোনো সময় সরেজমিন পরিদর্শন করতে পারবে। পরিদর্শনে যদি দেখা যায় ঋণের অপব্যবহার হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জরিমানাসহ পুরো টাকা এককালীন ফেরত দিতে হবে। এ ছাড়া প্রচলিত ব্যাংকের পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংকগুলোও নিজস্ব নিয়মে গ্রাহকদের এই গ্রিন ফান্ড থেকে বিনিয়োগ সুবিধা দিতে পারবে।