কোনো কর্মীর সহায়তা ছাড়া নিজেই বিল পরিশোধ করতে পারবেন গুলশানের স্বপ্নের গ্রাহকেরা
সুপারশপ স্বপ্নের গুলশান শাখায় বিক্রয়কর্মীর সহায়তা ছাড়া গ্রাহকেরা নিজেই পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। অর্থাৎ বিল পরিশোধের সময় বিক্রয়কর্মী থাকবেন না, আপনি নিজেই আপনার বিল পরিশোধ করবেন। একজন ক্রেতা পছন্দমতো পণ্য নিয়ে বের হওয়ার সময় নিজস্ব লেনদেন সুবিধা বা সেলফ-চেক আউট কাউন্টারে গিয়ে পণ্যর গায়ে থাকা বারকোড স্ক্যান করে টাকা পরিশোধ করবেন। আপাতত ভিসা ও মাস্টারকার্ডের ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ড থেকে বিল পরিশোধ করা যাবে। এই স্বয়ংক্রিয় মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা করল স্বপ্ন।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশান ১ নম্বরের স্বপ্ন আউটলেটে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়। স্বপ্নের প্রযুক্তি দলের তৈরি এই সেলফ-চেক আউট সিস্টেম তৈরিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে মাস্টারকার্ড, টিম এমইএ সাংহাই সানমি টেকনোলজি গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড ও ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির রিটেইল ও এসএমই ব্যাংকিং বিভাগের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এম খোরশেদ আনোয়ার, টিম এমইএ সাংহাই সানমি টেকনোলজি গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড মো. সানিউল জাদিদ, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পল ফ্রস্টসহ স্বপ্নের অন্য কর্মকর্তারা।
বর্তমানে স্বপ্নে ‘কিউবাস্টিং’ সেবার মাধ্যমে সেবা দেওয়া হয়। যেখানে বিক্রয়কর্মীরা স্ক্যানার নিয়ে লাইনে থাকা গ্রাহকদের পণ্য স্ক্যান করে বিল তৈরি করেন। তবে সেলফ-চেক আউট সিস্টেমে গ্রাহকেরা নিজেরাই পণ্য স্ক্যান, ব্যাগিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন। ভবিষ্যতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ (এমএফএস) আরও ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম যুক্ত করা হবে জানা গেছে। নতুন এই সেবা উদ্বোধন উপলক্ষে বিশেষ অফার ঘোষণা করেছে মাস্টারকার্ড। গুলশানের এই সেলফ আউটলেটে এক হাজার টাকা বা তার বেশি কেনাকাটায় মাস্টারকার্ড ব্যবহার করলে ক্রেতাদের দেওয়া হবে একটি পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান বলেন, ‘দেশে আমরাই প্রথম সুপারশপে এই ধরনের সেবা চালু করেছি। প্রাথমিকভাবে ২০টি আউটলেটে এই সেবা চালু করব। দুই বছরে দেশের ২৫ শতাংশ আউটলেটে এই সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময় ধীরে ধীরে আমরা দেশের সব আউটলেটে এই সেবা চালু করব।’
মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘আমরা যাঁরা নগদ টাকা ছাড়া বা ক্যাশলেস বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, এই উদ্যোগ আমাদের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। এর ফলে আমাদের দৈনন্দিন কেনাকাটা আরও সহজ হবে।’
ইবিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এম খোরশেদ আনোয়ার বলেন, ‘ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আমরা সব সময় অগ্রগামী। এই উদ্যোগের প্রযুক্তিগত সেবা দিতে পেরে আমরা গর্বিত।’