বাংলা কিউআর দিয়ে পণ্য না কিনে অর্থ তুললে হিসাব বন্ধ: বাংলাদেশ ব্যাংক
পণ্য না কিনে শুধু অর্থ উত্তোলনের জন্য বাংলা কিউআর ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, বাংলা কিউআর বাংলাদেশ ব্যাংকের নয়, এটি সরকারের উদ্যোগ। নগদবিহীন লেনদেন গড়ে তুলতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রতিটি লেনদেনের তথ্য রাখা।
আজ বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরিফ হোসেন খান এ কথা জানান।
আরিফ হোসেন খান বলেন, এ সেবা দিতে কোনো ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ (এমএফএস) অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা বাংলা কিউআরের সঙ্গে থাকবে না, ভবিষ্যতে তারাই অস্তিত্বের সংকটে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে ব্যাংক ও এমএফএস গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন।
গত জুনে দৈনিক গড়ে প্রায় এক লাখ বাংলা কিউআর পেমেন্ট হতো। তখন লেনদেনের পরিমাণ ছিল গড়ে ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাংলা কিউআর পেমেন্ট হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন গুণ ও অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।
বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার ও প্রসার বাড়াতে সংবাদ সম্মেলনে নতুন কিছু পদক্ষেপের কথা জানানো হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে সব বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট হিসাবে জমা হবে। এতে মার্চেন্টদের অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব কমবে।
এ ছাড়া বাংলা কিউআর পেমেন্টের ক্ষেত্রে অর্থগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) ১ শতাংশ রহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের চার্জ শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআর পেমেন্টের খরচ কমবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অন্যদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে মার্চেন্ট পয়েন্টে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
আগামী ১ নভেম্বর থেকে চালু হবে বাংলা কিউআরভিত্তিক ব্যক্তিপর্যায়ের (পিটুপি) লেনদেন। এর মধ্য দিয়ে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে কিউআরের ছবি আপলোড করে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।