বড় শিল্পগোষ্ঠীর বৃহৎ ঋণের সীমা বাড়ল

বাংলাদেশ ব্যাংকফাইল ছবি

বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর জন্য বৃহৎ ঋণের সীমা শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে তাদের আরও সুবিধা হবে। তবে বড় আকারের ঋণ নিয়ে যারা ইতিমধ্যে আইনি সীমার বাইরে চলে গেছে, তারা নিয়মের মধ্যে আসবে।

একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকেও বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণে নানা ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে একক গ্রাহকের ঋণসীমার শর্ত শিথিল করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও দুটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা প্রথম আলাকে বলেন, দেশের একটি শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী একাধিক ব্যাংকে তাদের ঋণসীমা ছুঁয়ে ফেলেছে। এর বড় অংশই সরাসরি ঋণে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া আরও একটি বড় গ্রুপ ঋণসীমার কারণে চাহিদামতো ঋণপত্র খুলতে পারছে না। এলপিজি আমদানিকারকেরাও ঋণসীমা তুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। এ জন্যই এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে অবশ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ কমে যেতে পারে।

বাড়ল সরাসরি ঋণের সুযোগ

নতুন নিয়মে এখন থেকে একটি ব্যাংক তাদের মোট মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ফান্ডেড বা সরাসরি ঋণ দিতে পারবে একজন গ্রাহককে, যা আগে ছিল ১৫ শতাংশ। তবে ঋণসীমা কোনো অবস্থায়ই ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড দুটি মিলে ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। আগে সরাসরি ১৫ শতাংশ ও নন-ফান্ডেড ১০ শতাংশ ঋণ দিতে পারত। আগামী ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

অর্থাৎ একটি ব্যাংকের মোট মূলধন ১০ হাজার কোটি টাকা হলে একটি গ্রুপকে এখন সরাসরি আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবে। আগে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ ও ১ হাজার কোটি টাকা ঋণপত্র সুবিধা নিতে পারত।

একটি ব্যাংক তাদের মোট মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সরাসরি ঋণ দিতে পারবে একজন গ্রাহককে, যা আগে ছিল ১৫ শতাংশ।

ঋণপত্র খোলার সীমাও বাড়ল

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের ক্ষেত্রে কনভার্সন ফ্যাক্টর ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যাংকগুলো মোট নন-ফান্ডেড ঋণের ২৫ শতাংশ হিসাব করে তাদের বৃহৎ ঋণসীমা নির্ধারণ করতে পারবে। এই সুবিধা ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এরপর ধাপে ধাপে কনভার্সন ফ্যাক্টর বাড়ানো হয়েছে। ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এটি ৩০ শতাংশ, ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৪০ শতাংশ এবং ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আগের বিধান পুরোপুরি কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আগে নন-ফান্ডেড ১০০ টাকার ঋণপত্র খুললে ৫০ টাকা ধরে হিসাব হতো, এখন তা ২৫ টাকা ধরে করতে পারবে। এর ফলে আরও বেশি ঋণপত্র খোলার সুযোগ পাবে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো।

ব্যাংকগুলোকে বড় সুযোগ

এদিকে বৃহৎ ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণের সঙ্গে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের কত শতাংশ পর্যন্ত বড় আকারের ঋণ দেওয়া যাবে, সেটি পুনর্নির্ধারণ করে দিয়েছে। বর্তমানে যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট ঋণের ৩ শতাংশের কম, তারা তাদের মোট ঋণের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃহৎ ঋণ দিতে পারে। নতুন নিয়মে খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ হলে মোট ঋণের ৫০ শতাংশ বড় ঋণ হিসেবে দিতে পারবে। একইভাবে বর্তমানে ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের মোট ঋণের ৪৬ শতাংশ বৃহৎ ঋণ দেওয়া যায়। নতুন নিয়মে খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি, কিন্তু ১৫ শতাংশের কম হলে বৃহৎ ঋণের পরিমাণ হবে মোট ঋণের ৪৬ শতাংশ।

বর্তমানে ৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ১০ শতাংশ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ থাকলে ব্যাংকের মোট ঋণের ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃহৎ ঋণ দেওয়া যায়। নতুন নিয়মে খেলাপি ঋণ ১৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ২০ শতাংশের কম হলে মোট ঋণের ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বড় ঋণ দেওয়া যাবে। এ ছাড়া বর্তমানে ১০ শতাংশের বেশি কিন্তু ১৫ শতাংশ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ থাকলে সে ক্ষেত্রে ব্যাংকের মোট ঋণের ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃহৎ ঋণ দেওয়া যায়। নতুন নিয়মে খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশের বেশি কিন্তু ২৫ শতাংশের কম হলে বৃহৎ ঋণ মোট ঋণের ৩৮ শতাংশ হবে।

বর্তমানে ১৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ২০ শতাংশের কম খেলাপি ঋণ থাকলে একটি ব্যাংক তার মোট ঋণের ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বড় অঙ্কের ঋণ দিতে পারে। আর নতুন নিয়মে ২৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ৩০ শতাংশের কম খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের মোট ঋণের ৩৪ শতাংশ বড় অঙ্কের ঋণ দিতে পারবে। আর খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি হলে বড় আকারের ঋণ হবে ব্যাংকের মোট ঋণের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।

তবে মোট বৃহৎ ঋণের পরিমাণ ব্যাংকের মূলধনের ৬০০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। আগে এই হার ছিল ৪০০ শতাংশ।