পাঁচ ব্যাংকে দুই দিনে জমা ৪৪ কোটি, উত্তোলন ১০৭ কোটি টাকা: গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চালু হওয়ার প্রথম দুই দিনে গ্রাহকদের দিক থেকে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি। এই সময়ে ব্যাংক ৫টিতে ৪৪ কোটি টাকার নতুন জামানত জমা পড়েছে, উত্তোলন করা হয়েছে ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এটাকে গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন।
একীভূত পাঁচ ব্যাংক নিয়ে আজ সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ১৯ জানুয়ারি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের নতুন নামফলক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ঝোলানো হয় গত পয়লা জানুয়ারি। পাশাপাশি আগের সাইনবোর্ডও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেনও শুরু হয়েছে। ব্যাংক পাঁচটির গ্রাহকদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। বেসরকারি যে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠিত হচ্ছে, সেগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক। এই পাঁচ ব্যাংকের দায়, সম্পদ ও জনবল অধিগ্রহণ করছে নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। একীভূত প্রক্রিয়া শেষে ধীরে ধীরে পাঁচ ব্যাংক বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
আহসান এইচ মনসুর জানান, ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ইতিমধ্যে রেজল্যুশন স্কিম জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুসারে আমানতকারীদের সঙ্গে ব্যাংকের লেনদেন চলছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। প্রাথমিকভাবে সরকারি প্রতিনিধিদের দিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং শিগগিরই স্বতন্ত্র পরিচালক যুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠিত হবে।
নতুন রূপে চালু হওয়ার দুই দিনের লেনদেনের তথ্য তুলে ধরে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ১ ও ৪ জানুয়ারি ১৩ হাজার ৩১৪টি হিসাব থেকে মোট ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলন হয়েছে। এক্সিম ব্যাংকের ৬ হাজার ২৬৫ জন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৬৬ কোটি টাকা তুলেছেন। একই সময়ে মোট ৪৪ কোটি টাকার নতুন আমানত জমা পড়েছে।
আহসান এইচ মনসুর জানান, সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একটি হলো, সমন্বিত আইটি সিস্টেম চালু করা। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি টিম কাজ করছে। অন্যটি হলো, পাঁচটি ব্যাংকের অতীত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক নিরীক্ষা। ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়া গেলে জানা যাবে টাকা কীভাবে, কোন কোন হিসাবে গেছে এবং কারা এর সুবিধাভোগী। তবে একই সঙ্গে দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তারা যেন নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে আহসান এইচ মনসুর বলেন, পাঁচ ব্যাংকের দুরবস্থার সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু ব্যাংক নয়, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কর্মকর্তা জড়িত থাকলেও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে বিষয়টি হস্তান্তর করা হবে। তারা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। নতুন ব্যাংকের কর্মীদের বেতন সরকারি স্কেলে হবে না, বরং একটি সমন্বিত বেসরকারি স্কেলে হবে।
এই ব্যাংকের মুনাফার হার প্রসঙ্গে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, শরিয়াহভিত্তিক মুনাফার হার বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান ও নতুন পণ্য একীভূত করে গ্রাহকদের জন্য নতুন নতুন শরিয়াহসম্মত প্রোডাক্ট চালু করা হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী তিন বছরের মধ্যে ব্যাংকটিকে মুনাফা নিয়ে আসা এবং এরপর কৌশলগত বিনিয়োগকারী বা আইপিওর মাধ্যমে এটি পুনরায় বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া।
৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন প্রসঙ্গে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ মূল্যায়ন করে ব্যক্তিগত আমানতকারীদের টাকা রোজার আগেই ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার যে টাকা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা দিয়ে ব্যক্তি আমানতকারীদের পুরো টাকা দেওয়া সম্ভব হবে।