মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে রেমিট্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে: বিএবি চেয়ারম্যান
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার।
আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বিএবির নেতাদের এক বৈঠক শেষে আবদুল হাই সরকার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। বৈঠকে বিএবির অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে রেমিট্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে কি না—এমন প্রশ্নে আবদুল হাই সরকার বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের পরিবেশ এই সংঘাতের কারণে বিঘ্নিত হলে তা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর প্রভাব কতটা হবে, তা পরিস্থিতি কত দিন স্থায়ী হয়, তার ওপর নির্ভর করবে।’
আবদুল হাই সরকার বলেন, গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকটি মূলত পরিচিতিমূলক ছিল। এতে ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন, নীতিগত সমন্বয় এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের স্বার্থে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বৈঠকে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বিএবি চেয়ারম্যান বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রতি গভর্নরের মনোভাব ইতিবাচক এবং ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে তিনি আন্তরিক।
প্রভিশন–সংক্রান্ত নতুন গাইডলাইন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল হাই সরকার বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত এই পদ্ধতি বাংলাদেশের অবকাঠামো ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।
এদিকে সরকারের আগামী ১৮ মাসে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নেও ব্যাংকিং খাতের সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। টেকসই ও কার্যকর প্রকল্পের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো অর্থায়ন করলে এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মত দেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।