ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, আগে প্রতি মাসে যে পরিমাণ গ্রাহক টাকা রাখার জন্য ব্যাংকে আসতেন, এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। আবার অনেকে মেয়াদপূর্তির আগেই মেয়াদি আমানত ভেঙে ফেলছেন।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের সুদহার বেঁধে দেওয়ায় ব্যাংকগুলো চাইলেও আমানতের সুদহার বাড়াতে পারছে না। আর এখন মূল্যস্ফীতি যেভাবে বেড়েছে, তাতে ব্যাংক সুদে মূল্যস্ফীতির অর্ধেকও মিটছে না। এ অবস্থায় সমাধান একটাই, সুদহারের সীমা তুলে দেওয়া। এতে সাধারণ মানুষ কিছুটা বাড়তি সুদ পাবে, আর ঋণ নিয়ে কেউ বিলাসপণ্য কিনবে না। ফলে চাহিদাও কমে আসবে। ডলার–সংকট কাটাতেও এ উদ্যোগ সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, গত আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। আর সেপ্টেম্বরে তা দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১০ শতাংশে। এ মূল্যস্ফীতি গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ গত আগস্টে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। আর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির এ প্রভাব পড়ে সব ধরনের পণ্য ও সেবার ওপর।

২০২০ সালের এপ্রিলে প্রথম ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ বেঁধে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে আমানতের সুদ কমে ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে। তাতে উদ্যোগী হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দেয়, মেয়াদি আমানতের সুদ দেশের তিন মাসের গড় মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হতে পারবে না। তবে এখন ব্যাংকগুলো আমানতের সুদের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা মানতে পারছে না। কারণ, মূল্যস্ফীতি এখন বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে ব্যাংকগুলোতে আমানতের গড় সুদহার ছিল ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। আর আগস্টে আমানতের গড় সুদহার ছিল ৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তুলনা করলে ব্যাংকে আমানত রাখলে এখন ৫ শতাংশ টাকা কমে যাচ্ছে।

ব্যাংকগুলোর মেয়াদি আমানতের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন প্রতি মাসে মেয়াদি আমানত যে পরিমাণ বাড়ছে, তা গত কয়েক বছরের মধ্যে কম। নতুন আমানত কমলেও সুদ যুক্ত হয়ে মেয়াদি আমানতের পরিমাণ বাড়ছে। ব্যাংকের আমানতের বড় অংশই মেয়াদি আমানত।

আমানতের সুদ কমে যাওয়ার বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর খুব বেশি কিছু করার নেই। কারণ, ঋণের সুদহার ৯ শতাংশের বেশি নেওয়া যাবে না। আমানত প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় ব্যাংকে তারল্যের চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ব্যাংকঋণের বিকল্প নেই।