সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুসলিম চৌধুরী পদত্যাগ করলেন কেন

মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীফাইল ছবি

সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী আজ সোমবার সকালে পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। অন্যদিনের মতো আজও ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে তিনি গিয়েছিলেন। এরপরই পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

সকালে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম আসলাম আলমের পদত্যাগের পর দুপুরে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগের খবর আসে। এ ছাড়া সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারীও আজ সকালে পদত্যাগ করেন।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করে নতুন গভর্নর হিসেবে ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে সকাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে আহসান এইচ মনসুরের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ হয়।

সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ কেন

সোনালী ব্যাংক সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের পর জিয়া পরিষদের ব্যানারে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিকে বিভিন্ন চাপ দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো তাঁদের সমর্থিতদের প্রধান কার্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন শাখায় বদলি করে নিয়ে আসা। দিন দিন তাঁদের চাপ বাড়ছিল।

মব তৈরি করে বদলির জন্য চাপ দেওয়া ৭ কর্মকর্তাকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বাইরে বদলি করে দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ছিলেন সোনালী ব্যাংক জিয়া পরিষদ সাধারণ সম্পাদক এস এম আবুল বাশার, সোনালী ব্যাংক জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স পরিষদের সভাপতি মো. সোহেল মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রায়হান।

এ ঘটনায় ব্যাংকটির বিএনপি–সমর্থিত নেতারা দলের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করেন। তাঁরা জানান, আওয়ামী লীগের মেয়াদে তাঁদের বঞ্চিত করা হয়েছে। বিএনপি সরকার এসেও তাঁদের রাজধানীর বাইরে বদলি করল।

এমন পরিস্থিতিতে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়ছিল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাঁর (মুসলিম চৌধুরী) সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করছিল না বলে জানা গেছে। এরপরই আজ তিনি পদত্যাগ করেন।

মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী প্রথম আলোকে জানান, ব্যক্তিগত কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর ২৮ আগস্ট মুসলিম চৌধুরীকে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মুসলিম চৌধুরী ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে যোগদান করে কন্ট্রোলার জেনারেল অব অ্যাকাউন্টস, কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফিন্যান্স ও অর্থ বিভাগের উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি পেশাদারত্বের সঙ্গে ব্যাংকটি পরিচালনা করে আসছিলেন। ২০১১ সালে হলমার্ক কেলেঙ্কারির কারণে ব্যাংকটি বড় আকারের ধাক্কা খায়। এরপর পেশাদারত্বের সঙ্গে পরিচালনা করায় ব্যাংকটির ভিত্তি মজবুত হয়েছে।

ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি

২০২৫ সাল শেষে সোনালী ব্যাংকটির আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা ও ঋণ ১ লাখ ৪ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। বিদায়ী বছরে ব্যাংকটির সবচেয়ে বড় সাফল্য দেখা গেছে পরিচালন মুনাফায়। ২০২৫ সালে পরিচালন মুনাফা করেছে ৮ হাজার ১৭ কোটি টাকা।

হল-মার্ক, বেক্সিমকো, থারমেক্স, ওরিয়নসহ কয়েকটি গ্রুপের ঋণ ও বিনিয়োগ আদায় করতে পারছে না ব্যাংকটি। ফলে কমছে না খেলাপি ঋণ। সোনালী ব্যাংকের ২০২৫ সালভিত্তিক আর্থিক চিত্র পর্যালোচনায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

হল-মার্ক গ্রুপের বহুল আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারির ধাক্কা কাটিয়ে আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করে তুলেছে সোনালী ব্যাংক। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বড় অঙ্কের মুনাফা অর্জনের পথে এগিয়ে চলছে। এ ছাড়া সোনালী ব্যাংক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে, যাতে আর্থিক স্বচ্ছতা জোরদার হয় এবং অধিকসংখ্যক গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো যায়।