ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, রপ্তানিকারকেরা ৯৮ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ডলার বিক্রি করছেন। ব্যাংক তা কিনে কিছুটা বেশি দামে আমদানিকারকদের কাছে বিক্রি করছে। যেসব আমদানিকারক সরাসরি কিনতে পারছেন, তাঁরা কিছুটা কম দামে ডলার পাচ্ছেন।

ডলার-সংকট নিরসনে গত বৃহস্পতিবার একসঙ্গে চারটি সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সেগুলো হলো ব্যাংকের ডলার ধারণের সীমা (এনওপি) হ্রাস, রপ্তানিকারকের প্রত্যাবাসন কোটায় (ইআরকিউ) ধারণকৃত ডলারের ৫০ শতাংশ নগদায়ন, ইআরকিউ হিসাবে জমা রাখার সীমা কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ইউনিটে স্থানান্তর। এ ছাড়া ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বেসরকারি যেকোনো আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার ২৪ ঘণ্টা আগে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে সংকট কিছুটা কমার আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

রপ্তানিকারকদের ইআরকিউ হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রা জমার পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পোশাক খাতের রপ্তানিকারকেরা ১৫ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ৭ শতাংশ, সেবা খাতের রপ্তানিকারকেরা ৬০ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ শতাংশ এবং আইসিটি খাতের উদ্যোক্তারা ৭০ শতাংশের পরিবর্তে ৩৫ শতাংশ ডলার ইআরকিউ হিসাবে রাখতে পারবেন।

দেশে জ্বালানি তেল ও ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে সার্বিকভাবে আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। আবার রপ্তানি বাড়লেও তা আমদানির তুলনায় কম। প্রবাসী আয়ও বাড়েনি। ফলে দেশে ডলারের সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বেড়ে গেছে প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রাটির দাম। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতি ডলারের দাম ৯৪ টাকার মধ্যে থাকলেও প্রবাসী আয় ও পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন